মংলায় একশ’ পানির ট্যাংক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার
এইচ এম দুলাল, মংলা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:০০
মংলায় ১০০টি পানির ট্যাংক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও খুবই নিম্নমানের নির্মাণ উপকরণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ১৮ দিনের মাথায় সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়েছে একটি পানির ট্যাংক। মংলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছে, তারা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে ২৩টি পানির ট্যাংক নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ার পর চিঠি দিয়ে তাকে এগুলো ভালোভাবে নির্মাণের জন্য বলেছে। অন্যথায় কাজের বিল পরিশোধের সময় তার টাকা আটকে রাখা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক মহল জানিয়েছে, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ শেষ হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গ্রাহকরা। আর ঠিকাদার ঠিকই প্রকৌশলীকে ম্যানেজ (!) করে বিল আদায় করে নেবে। তারা অন্য ঠিকাদার দিয়ে নির্মাণ কাজ করানোর দাবি জানিয়েছেন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মংলা অফিস সূত্রে জানা যায়, লবণ পানি অধ্যুষিত মংলা উপজেলায় খাবার পানির তীব্র সংকট দূর করার লক্ষ্যে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্যে বাংলাদেশ সরকার, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক এবং জাপান সরকারের আর্থিক সহায়তায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ১৬৫টি পানির ট্যাংক ও ৩০টি নলকূপ বিতরণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ৫০০০ লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১০০টি পানির ট্যাংক নির্মাণের কাজ পায় মংলার ফাতেমা কনস্ট্রাকশন। বাকি ৬৫টি পানির ট্যাংক ও ৩০টি নলকূপ স্থাপনের কাজ পায় বাগেরহাট সদরের ইস্ট্রার্ন বিল্ডার্স ও ভুইয়া কনস্ট্রাকশন। প্রতিটি পানির ট্যাংকের জন্য গ্রহীতার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা ও নলকূপের জন্য ১ হাজার পাঁচশ’ করে জামানতের টাকা নেয়া হয়েছে।
ফাতেমা কনস্ট্রাকশনের ১০০টি পানির ট্যাংকের মধ্যে ৩০টির নির্মাণ কাজ শেষের পথে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, এই ৩০টি ট্যাংক নির্মাণে তারা একেবারে নিম্নমানের সিমেন্ট, বালি, খোয়া ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করেছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সরেজমিনে ২৩টি পানির ট্যাংক নির্মাণে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে। ইতিমধ্যে মিঠেখালী ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার ১৮ দিনের মাথায় সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়েছে একটি ট্যাংক। এ বিষয়ে জানতে চাইল ফাতেমা কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মো: শহিদুল্লাহ বলেন, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের জন্য ট্যাংক ভেঙ্গে পড়েনি। পানির চাপে ভেঙ্গে পড়েছে। পানির চাপই যদি ধারণ করতে না পারে তাহলে সেরকম পানির ট্যাংক নির্মাণ করছেন কেন— এ প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, কাজে কোন ভুল হলে ঠিক করে দিব। আর যে ২৩টি ট্যাংক নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের জন্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমাকে চিঠি দিয়েছে সেগুলোও আমি ঠিক করে দিব। মংলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এম এ কায়েস বলেন, ঠিকাদারকে অবশ্যই সঠিক উপকরণাদি ব্যবহার করে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় তার বিল প্রদান করা হবে না।