এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্র

বাংলা মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, শিক্ষক বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা অধ্যায় :দুর্নীতি, উন্নয়নের অন্তরায় ও উত্তরণের পথ অনুশীলনীর সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১. নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও বিশ্বজিত ‘সমাজ জাগরণ’ নামে একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্থাটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সুনামের সাথে কাজ করছে। সম্প্রতি সংস্থাটির নিয়োগ শাখা দক্ষকর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি দিলে কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করে। কিন্তু এবারের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা কর্মসূচি বাস্তবায়নে আশানুরূপ দক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ হয়। বিশ্বজিত লক্ষ করলেন নিয়োগ শাখার কিছু কর্মী চলাফেরায় বিলাসী হয়ে উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেল নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে কিছু কর্মী বাড়ি-গাড়ির মালিক বনে গেছে। ক.সুশাসন কী? খ. বাজার অস্থিতিশীলতার পেছনে সিন্ডিকেটের প্রভাব ব্যাখ্যা করো। গ. প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সংস্থাটির ত্রুটি ‘দুর্নীতি, উন্নয়নের অন্তরায় ও উত্তরণের পথ’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো। ঘ. কী পদক্ষেপ উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারত, প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন করো। ১ নম্বর প্রশ্নের ‘ক’-এর উত্তর রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বত্র আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নামই সুশাসন। ১ নম্বর প্রশ্নের ‘খ’-এর উত্তর সিন্ডিকেট বলতে সেই অশুভ ব্যবসায়িক গোষ্ঠীকে বোঝায়, যারা সমবেতভাবে কোনো পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় অথবা দাম বৃদ্ধির লক্ষ্যে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। আভিধানিক দিক থেকে ‘সিন্ডিকেট’ অর্থ সাময়িক পত্রে প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ব্যঙ্গচিত্র ইত্যাদি সরবরাহকারি বাণিজ্যিক সমিতি, সংবাদ সমিতি। বর্তমানে কোনো কোনো ক্ষেত্রে শব্দটির অর্থের নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। পণ্যেও দাম বড়িয়ে এরা সবসময় ভোগান্তি বাড়ায়। এজন্যেই বাজার অস্থিতিশীল হয় এবং বাজার অস্থিতিশীলতার পেছনে এ সিন্ডিকেটের প্রভাব অনেক। ১ নম্বর প্রশ্নের ‘গ’-এর উত্তর ‘দুর্নীতি, উন্নয়নের অন্তরায় ও উত্তরণের পথ’ প্রবন্ধে সমাজে দুর্নীতি হওয়ার কারণ, দুর্নীতির মাধ্যমে নেওয়া সুবিধা এবং দুর্নীতি রোধের উপায় ও বাধা বিষয়ে আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে। উদ্ধৃত উদ্দীপকের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাটি এ প্রবন্ধে বর্ণিত দুর্নীতির আর্থ-সামাজিক কারণ অনুসারে ঘটেছে। ‘দুর্নীতি, উন্নয়নের অন্তরায় ও উত্তরণের পথ’ প্রবন্ধে দেখানো হয়েছে যে বিভিন্নভাবে মানুষ দুর্নীতি করে বিশেষ করে চাকরির কথা বলে বিভিন্ন উপায়ে টাকা নিয়ে দুর্নীত বাড়ানো হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান শিক্ষিত সমাজের কাছ থেকে এক শ্রেণির অসাধূপায় মানুষ এ কাজে জড়িত। উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি সংস্থার নিয়োগ শাখা কিছু দক্ষকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে উক্ত সংস্থার কর্মীদের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এখানে দুর্নীতিটি ঘটেছে কর্মীদের ভোগবাদী প্রবণতা থেকে এবং লোভ বৃদ্ধির কারণে। নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ তথা বিলাসব্যসনের জন্যে এবং অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের জন্যে কর্মীরা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিয়েছে। এতে প্রকৃত ক্ষতি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। আবার এতে প্রকারান্তরে দেশেরও ক্ষতি হয়েছে। কারণ অযোগ্য লোক টাকার মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে কাজ ঠিকমতো করতে পারে না। কাজ সঠিকভাবে করার যোগ্যতা তাদের নেই। ফলে তাদের কাছ থেকে প্রকৃত কাজ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে দুর্নীতির মাধ্যমে কিছু কর্মী অনেক টাকার মালিক হয়েছে। সংস্থাটিও নিজেদের সুনাম হারিয়েছে। বিষয়টি মূল প্রবন্ধেও প্রতিফলিত হয়েছে সেখানে সনাক্তকারি কর্মচারিদের ঘুষ গ্রহণ প্রথার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে্। তাই বলা যায়, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সংস্থাটির ত্রুটি ‘দুর্নীতি, উন্নয়নের অন্তরায় ও উত্তরণের পথ’ প্রবন্ধের আলোকে মিল পাওয়া যায়। ১ নম্বর প্রশ্নের ‘ঘ’-এর উত্তর ‘দুর্নীতি, উন্নয়নের অন্তরায় ও উত্তরণের পথ’ প্রবন্ধে সমাজে দুর্নীতির নানামুখী প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। যথার্থ পদক্ষেপই পারত উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে। ‘দুর্নীতি, উন্নয়নের অন্তরায় ও উত্তরণের পথ’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে, দুর্নীতির অন্যতম প্রধান কারণ ভোগবাদ বা সীমাহীন ভোগের প্রবণতা। মানুষ এখন নিজের যোগ্যতার অতিরিক্ত আয় করতে চায়। এটা করতে গিয়েই মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাকে নিয়োগ-বাণিজ্যের মাধ্যমে ক্ষুণ্ন করে এবং নিজেরা লাভবান হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত উপায় ছাড়াও প্রবন্ধে কোনো প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার আরও কিছু উপায় আলোচিত হয়েছে। যেমন, সুষম বেতন কাঠামো ও পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক নির্ধারন। বাজার মূল্যের সাথে সমন্বয় করে বেতন বাড়ালে কর্মীরা দুর্নীতি করত না। কারণ তারা টাকার জন্যেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছে। এমতাবস্থায় যদি কর্মীদের জবাবদিহিতা থাকত তবে তারা তাদের কুকর্মের জন্যে প্রতিষ্ঠানের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকত এবং দুর্নীতি করতে সাহস পেত না। তাদের মধ্যে চাকরি যাওয়ার ভয় থাকত যা তাদেরকে দুর্নীতি করতে বাধা দিত। তাহলে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হতো না। তাই উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার জন্যে জবাবদিহিতার প্রচলন অত্যাবশ্যক ছিল। পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক এক্ষেত্রে দুর্নীতি রোধের অন্যতম উপায় হতে পারত। এ ছাড়াও দুর্নীতি বিরোধী সামাজিক আন্দোলন তাদের দুর্নীতি সম্পর্কে সচেতন করতে পারত। গণমাধ্যম এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। গণমাধ্যমে দুর্নীতি বিরোধী প্রচার জনগণকে সচেতন করে তোলে। এভাবেই তারা বিবেকের বাণী শুনে দুর্নীতি সম্পর্কে সচেতন হতো ও প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে বিরত থাকত।