রাজশাহীতে শস্য মিউজিয়াম
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:৪৩
রাজশাহীর বরেন্দ্র এলাকায় ফসল উত্পাদনে বৈচিত্র্য এনে, কৃষকদের ভাগ্য ফেরাতে গড়ে তোলা হয়েছে শস্য মিউজিয়াম। কৃষকদের বিভিন্ন ফসলের বীজ বিনিময়ের ভিত্তিতে দেয়া হচ্ছে এই মিউজিয়াম থেকে। এবছর যে বীজ কৃষকদের দেয়া হয়েছে তা দিয়ে ফসল ফলিয়ে সেখান থেকে উত্পাদিত বীজ আবার শস্য মিউজিয়ামে জমা দেবে তারা। এভাবে আবার পরবর্তী বছরে অন্য কৃষকদের সেই বীজ সরবরাহ করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট শস্য মিউজিয়ামের মাধ্যমে ২ শতাধিক দল গঠন করে কৃষকদের বিভিন্ন ফসলের উন্নত বীজ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ করছে। বরেন্দ্র অঞ্চলে চাষ উপযোগী ২০টি ফসলের প্রায় চল্লিশটি জাতের বীজ কৃষকদের মাঝে প্রতি বছর সরবরাহের লক্ষ্যে গোদাগাড়ীর কদম শহর এলাকায় এই শস্য মিউজিয়াম গড়ে তোলা হয়েছে। শস্য মিউজিয়ামে গম, ছোলা, তিসি, মুগ, মটর, ভুট্টা, আলু, বেগুন, পটল, গাজর, ফুলকপি, পাতাকপি, ধনিয়া, পেঁয়াজ, রসুন, টমেটোসহ বিভিন্ন ফসলের অর্ধ শতাধিক জাতের ফসল প্রর্দশনী প্লটের মাধ্যমে আবাদ করা হয়। প্রতিটি মৌসুমে ধানের বিভিন্ন জাতের চাষ করা হয় এই শস্য মিউজিয়ামে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর সরেজমিন গবেষণা বিভাগ বরেন্দ্র কেন্দ্রের পরিচালক ড. আব্দুস সালাম বলেন, এই প্রকল্প থেকে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের ফসল উত্পাদনে বৈচিত্র্যকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের ওপর প্রতিটি মৌসুমে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। মাঠ দিবসে তাদের হাতে-কলমে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। উচ্চমূল্যের ফসল উত্পাদন ও বসতবাড়ির আশেপাশে ফল, শাক-সবজি চাষের বীজ ও চারা সরবরাহ করে কৃষকদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট- এর মহাপরিচালক ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, বরেন্দ্র এলাকার জমিতে কম পানি লাগে এমন ফসল উত্পাদন করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। ফলে কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে। সেচের অভাবে যেসব জমিতে এক ফসল হত সেখানে এখন তিন ফসলের স্বপ্ন দেখছে কৃষক। লেখক: সাংবাদিক