জানুয়ারিতে রপ্তানি বেড়েছে ১৯ শতাংশ
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫২
চলতি ২০১২-১৩ অর্থ বছরের প্রথমদিকে রপ্তানিতে গতি মন্থরতা দেখা গেলেও তা ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠার চেষ্টা চলছে। গত ডিসেম্বর মাস থেকে রপ্তানি আবার স্বাভাবিক ‘ট্র্যাকে’ ফিরতে শুরু করেছে। চলতি অর্থ বছরে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১৫ শতাংশ। গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে এই হারে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সমর্থ না হলেও ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার এই হারকে অতিক্রম করতে সমর্থ হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আগের বছরের জানুয়ারির তুলনায় বেড়েছে ১৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। এই সময়ে ২৪০ কোটি ২০ লাখ ডলারের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানি হয়েছে ২৫৫ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। এর আগের অর্থ বছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২১৪ কোটি ৯৯ লাখ ডলার। আর গত ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি বেড়েছে ১৯ শতাংশ।
গত দুই মাসে রপ্তানি বাড়ায় চলতি অর্থবছরের গত সাত মাসের (জুলাই-জানুয়ারি) রপ্তানিতেও ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। তবে তা এখনো চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২ শতাংশ পিছিয়ে আছে। আলোচ্য সময়ে এক হাজার ৫৪৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৫১৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পণ্য ও সেবা। পূর্বের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত সাত মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে আট দশমিক ৮৩ শতাংশ।
তবে বাড়তি এই রপ্তানি আয়ে সন্তুষ্ট নন রপ্তানিকারকরা। তারা মনে করেন, বাড়তি রপ্তানির এই ফসল তাদের ঘরে যাচ্ছে না। তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের দাম না বেড়ে উল্টো ৫ শতাংশ কমে ক্রয় আদেশ নিতে হচ্ছে। মার্কিন ডলারের দাম এডজাস্ট (বর্তমানে ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হওয়া) হয়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। এছাড়া অভ্যন্তরীণভাবেও নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে রপ্তানিকারকদের। এই অবস্থায় উদ্যোক্তাদের কেউ কেউ ভবিষ্যতের আশায় আবার কেউ চাইলেই বন্ধ করতে পারছে না বলে এখনো কারখানা চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, রপ্তানি আয়ে ৮০ ভাগ অর্জনকারী তৈরি পোশাকের নিটওয়্যার ও ওভেন রপ্তানি সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। ফলে গত সাতমাসে এই দুই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে সাড়ে ছয় ও সাড়ে ১৩ শতাংশ হারে। এছাড়া আলোচ্য সময়ে রপ্তানি বেড়েছে, চামড়াজাত পণ্য (১০২ শতাংশ), কৃষিজাতপণ্য (২৭ শতাংশ), প্রকৌশল দ্রব্য (৭ শতাংশ), পাট ও পাটজাত পণ্য (১১ শতাংশ), চামড়া (৯ শতাংশ), পেট্রোলিয়াম উপজাত দ্রব্য (১৪ শতাংশ), হস্তশিল্পজাত পণ্য, কটন পণ্য, রাবার, পেপার ও পেপার পণ্যে।
তবে একই সময়ে আগের রপ্তানি আয় কমেছে এমন খাতগুলো হলো, হিমায়িত খাদ্য, বাইসাইকেল, জাহাজ, রাসায়নিক পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, বিশেষায়িত বস্ত্র, সিমেন্ট, চা ও হোম টেক্সটাইল।