৭ জেলায় ৩শ’ কোটি টাকা মূল্যের পান ঝরে নষ্ট

পশ্চিমের ৭ জেলায় ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা মূল্যের পান ঝরে নষ্ট হয়েছে। জেলাগুলো হচ্ছে, কুষ্টিয়া, যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর। এর ফলে পান রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচাক পভাব পড়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে পানের দাম চড়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশের অন্যতম প্রধান পান উত্পাদনকারী এলাকা হচ্ছে পশ্চিমাঞ্চল। ৬টি জেলায় ৬৭ হাজার বিঘাতে পান বরজ আছে। এবার ডিসেম্বর মাসের শেষ ও জানুয়ারির প্রথমদিকে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত পড়ে। এতে পান ক্ষেতে এক ধরনের অজ্ঞাত রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগ ধরলে প্রথমে পানের পাতার উপর কালো কালো স্পট পড়ে। পরে পাতাগুলো হলুদ হয়ে ঝরে পড়তে থাকে। পান চাষিরা জানায়, এ রোগ নিরাময়ের উপায় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলতে পারেন না। হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভাদরা গ্রামের পান চাষি জাফর অলি মোহন জানান, গাছের ডগার দিকের কচি পানগুলো ঝরার হাত থেকে রেহাই পেয়েছে। তিনি জানান, তাদের দু’ বিঘার পান বরজের শতকরা ৭০ ভাগ পান ঝরে পড়েছে। ঝরা পানের ক্রেতা ছিল না। বরজ থেকে কুড়িয়ে ফেলে দিতে হয়েছে। তিনি আরো জানান, তাদের এলাকার কোন বরজ পাতাঝরা রোগ থেকে রক্ষা পায়নি। প্রতি বিঘা বরজের গড়ে ৫০ হাজার টাকার পান নষ্ট হয়েছে। শৈলকুপার ত্রিবেণী গ্রামের এক পান চাষি জানান, তার দু’ বিঘা বরজের পান পাইকারি দাম উঠেছিল দু’ লাখ টাকা। পাতাঝরা রোগে পান শেষ হয়ে গেছে। পানের হাট কুষ্টিয়ার লক্ষ্মীপুরে আগত চাষিরা একই কথা জানান। পশ্চিমের জেলাগুলোর অপর পাশে ভারতের নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলাতেও এ ধরনের রোগে পানের ব্যাপক ক্ষতি হয় বলে তাদের মিডিয়াতে প্রকাশিত খবরে জানা যায়। ভারতীয় কৃষিবিদরা এ রোগকে মিচিতি বলে সনাক্ত করেন। আচমকা তাপমাত্রার হেরফের হলে হিমচিতি রোগের আক্রমণ হয়। এ রোগে আক্রান্ত পান বরজ পরিষ্কার রাখেতে বলা হয়। আর সূর্যের আলোর ২৫ ভাগ যাতে বরজে প্রবেশ করতে পারে তার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পান তীব্র শীত ও গরম সহ্য করতে পারে না। এদিকে পশ্চিমের জেলাগুলোর পাইকারি পানের বাজারগুলোতে বর্তমানে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। প্রতি পণ (৮০টি) পানের দাম একশ’ ২০ টাকা থেকে একশ’ ৩০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। আগামীতে আরো বাড়ার অশংকা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তপন কুমার দে জানান, সারাদেশে এবার প্রচণ্ড শীতের কারণে পানে কোল্ড ইনজুরি রোগের আক্রমণ হয়েছে। তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে নামলে পান গাছ সহ্য করতে পারে না। এ সময় পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে। এর কোন প্রতিরোধক ওষুধ নেই বলে তিনি জানান।