শুকনো জমিতে বোরো বীজতলা
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৪০
শুকনো জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করে সাফল্য পেয়েছেন রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার আমশো গ্রামের কৃষক আলমাস আলী। তিনি উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় চলতি মৌসুমে ব্রি-২৮ জাতের বোরো ধানের শুকনো বীজতলা তৈরি করে এলাকার কৃষকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। অথচ তিনি প্রথমদিকে বিষয়টি আমলেই নেননি বলে জানান। পরে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে হালচাষ করে জমি বীজতলার উপযোগী করে তোলেন।
কৃষক আলমাস আলী বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. হাসানুল কবীর কামালীর প্রস্তাব ও পরামর্শে ১০ কাঠা (আধা বিঘা) শুকনো জমিতে চালচাষ, ৪০ বস্তা জৈব সার, ৫ কেজি ডিএপি, ৩ কেজি পটাশ সার প্রয়োগ করে বীজতলার উপযোগী করেন। এরপর সেখানে ব্রি-২৮ জাতের ৬০ কেজি বীজ বপন করেন। বীজ বপনের ২১ দিন পর চারা উত্তোলনের উপযোগী হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বীজতলা প্রস্তুতের পর ধানের বীজ ৩/৪ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখার পর পানি ঝরিয়ে রেখে দিলে প্রতিটি ধানের বীজ থেকে অঙ্কুর বের হবে। ওই অঙ্কুরসহ ধানের বীজ বীজতলায় ছিটিয়ে উপরে হালকা মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এরপর বীজতলাটি পলিথিন দিয়ে কয়েকদিন পর্যন্ত ঢেকে রাখতে হবে। পরে পলিথিন সরিয়ে নিলে দেখা যাবে শতভাগ চারা গজিয়েছে এবং সেগুলো সবুজ আকার ধারণ করেছে। মাত্র ২১ দিন পরই উক্ত চারা রোপণের উপযোগী হয়ে উঠবে।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. হাসানুল কবীর কামালী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতিবছরই বোরোর বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও কোল্ড ইনজুরি থেকে বোরোর বীজতলা রক্ষায় শুকনো জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এ ধরনের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের শুকনো বীজতলায় পরিশ্রম ও খরচ কম। পানি সেচ দেয়ার প্রয়োজন নেই। জলীয়বাষ্পের প্রভাবে পলিথিনে জমাটবাঁধা পানিতে বীজতলা ভেজা থাকে। এতে মাটির উর্বরাশক্তি বাড়ে। তিন সপ্তাহের মধ্যে গজানো চারা রোপণ করা যায়। চারার বয়স কম হওয়ায় ফলন বেশি হবে বলে তিনি ধারণা করছেন। তারা শুকনো পদ্ধতির পরীক্ষামূলক বোরোর বীজতলা তৈরির বিস্তার ঘটাতে কৃষকদের উদ্বুব্ধ করছেন।