জেলায় জেলায় গণজাগরণ মঞ্চ

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গতকাল বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় গণজাগরণ মঞ্চে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। খবর পাঠিয়েছেন ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধিরা। সিলেট অফিস জানায়, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে সিলেটে চলমান আন্দোলন গতকাল শনিবার আরো উত্তাল হয়ে উঠেছে। ব্লগার রাজীব হত্যা ও সিলেটে জামায়াতের হরতাল আহবান করায় আন্দোলনকারীরা আরো প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন। গতকাল কেন্দ ীয় শহীদ মিনারে বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মীসহ সাধারণ মানুষ রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে সমবেত হন। তারা মিছিল-শ্লোগানে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এদেশকে রাজাকারদের কালো থাবা থেকে মুক্ত করার দৃঢ় ঘোষণা হাজারো তরুণ কণ্ঠের। ব্লগার রাজীব হত্যার প্রতিবাদে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গতকাল বিকালে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক প্রায় এক ঘন্টা অবরোধ করে রাখেন। পুলিশ অবরোধকারীদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়ায় লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় বগুড়া শহরের সাতমাথা চত্বরের অবস্থান কর্মসূচি মঞ্চে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ খান, বীর বিক্রম সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে জেলা সংসদের কমান্ডার আমিনুল ইসলাম পিন্টু, ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল মোত্তালিব মানিক, জেলা সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি মাসুদার রহমান হেলাল, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক বাবলা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এর আগে একটি মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে উত্তাল হয়ে উঠছে জাগ্রত জনতার গণজাগরণ মঞ্চ। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার গোলচত্বরে হাজারো জনতার ঢল নামে। আশুগঞ্জ জাগ্রত জনতার ব্যানারে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে গোলচত্বরের এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে হাজারো জনতা। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক কর্মী, ছাত্র-জনতার মিলনমেলায় পরিণত হয় গোলচত্বর। জাগ্রত জনতার আহ্বায়ক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মো. ছফিউল্লাহ মিয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহ্বায়ক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ মুন্সি, মুক্তিযোদ্ধা শাহ মফিজ, মুক্তিযোদ্ধা রুস্তুম আলী সিকদার প্রমুখ। গণজাগরণ মঞ্চে প্রতিবাদী গান, অগ্নিঝরা শ্লোগানের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দাবি করা হয়। বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটের কচুয়ায় সমাবেশ করেছে প্রজন্ম একাত্তর। শনিবার দুপুরে কচুয়া উপজেলার জিরোপয়েন্টে এ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতশত শিক্ষার্থী মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে জড়ো হয়ে এ সমাবেশ করে। সমাবেশে চলে গান, বক্তৃতা, শ্লোগান ও শপথ। শোভনের হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার দাবি এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মানুষ হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কে বিশাল মানববন্ধন ও মিছিল-সমাবেশ পালন করেছে। দবিরগঞ্জ বাজার হতে হরিণচড়া বাজার পর্যন্ত ১ কি.মি. মহাসড়কের দুইপাশে হাতে হাত রেখে সকাল ১১টা থেকে আধাঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বিভিন্ন স্কুল, কলেজের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক, রাজনীতিক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পরে উল্লাপাড়া আসনের সংসদ সদস্য গাজী শফিকুল ইসলাম শফির নেতৃত্বে বিশাল মিছিল হয়। মিছিলশেষে দবিরগঞ্জ বাজারে আয়োজিত সমাবেশে সংসদ সদস্য গাজী শফিকুল ইসলাম শফি, উল্লাপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মারুফ বিন হাবিব, আওয়ামী লীগ নেতা নবি নেওয়াজ খান বিনু, রামকৃষ্ণপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম হীরু, সলঙ্গা থানা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ, আতাউর রহমান লাবু, আশরাফুল ইসলাম ফেরদৌস ও জাহিদুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে ঝিনাইদহের গণজাগরণ মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধারা সংহতি প্রকাশ করেছেন। শনিবার শহরের পুরাতন ডিসিকোর্ট চত্বর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের এক শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে পায়রা চত্বরের গণজাগরণ মঞ্চে এসে সমবেত হয়। সেখানে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার মকবুল হোসেন নতুন প্রজন্মের এ আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন। সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত ব্লগার রাজিব হত্যার প্রতিবাদ ও তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, ফাঁসির দাবিতে উত্তাল লালমনিরহাটের প্রজন্ম চত্বর মিশন মোড়। মিশন মোড়ে দুপুরে লালমনিরহাট জেলা শহরের ২০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী,শিক্ষকরা কালো ব্যাজ ধারণ করে ফাঁসির দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক দুপুর থেকে অবরোধ করে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে। দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট শেষে ফাঁসির দাবিতে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সেকেন্দার আলী সরকার, মাহফুজার রহমান, সরোয়ার। একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মতিয়ার রহমান, সদর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম রাজু, মাসুমা ইয়াসমিন। মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, জেলা উদীচীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে শনিবার স্থানীয় স্বাধীনতা অঙ্গনে দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃতিসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গত ১২ দিন যাবত্ বিকাল থেকে মধ্যরাত অবধি চলে এ অনুষ্ঠান। শিশু-নারীসহ শতশত লোক এসময় উপস্থিত থাকেন। গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, শনিবার গাইবান্ধার মুক্তিযুদ্ধের প্রজম্ম আয়োজিত গণজাগরণ মঞ্চে অব্যাহতভাবে বক্তব্য, কবিতা পাঠ, গণসঙ্গীত, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ছবি প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওইসব কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। স্থানীয় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা গণসঙ্গীত ও নাটক পরিবেশন করছে। রাত জেগে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিচ্ছে।