সীমান্ত ও তিস্তার প্রতিশ্রুতি পূরণে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ

সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরে তার সরকারের আন্তরিকতার কথা জানিয়ে বলেছেন, প্রতিশ্রুতি পূরণে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন করা হচ্ছে। তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরে সব বাধা দূর হচ্ছে। দুইদিনের সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির আমন্ত্রণে গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা আসেন সালমান খুরশিদ। গতকাল দুপুরে যৌথ পরামর্শক কমিটির বৈঠকে যোগ দেন তিনি। তিনটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। সালমান খুরশিদ তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে বলেন, দুই দেশেরই যাতে ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা অগ্রসর হচ্ছি। তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের ব্যাপারটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত। পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রের সঙ্গে আছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের একজন ভাল বন্ধু। তাকে আমি খুব শ্রদ্ধা করি। তিনি তিস্তার ব্যাপারে সম্মতি দেবেন আশাকরি। সব দল ও পক্ষের মত নিয়ে আমরা অগ্রসর হচ্ছি। সীমান্ত চুক্তি কার্যকরের ব্যাপারে মন্ত্রিসভায় সংবিধান সংশোধন বিল অনুমোদিত হয়েছে। লোকসভায় এ মাসেই উঠবে বিলটি। সবকিছু ঠিক থাকলে বিরোধীদলের সমর্থনে পাসও হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্ম গণতান্ত্রিকভাবে তাদের দাবি জানাচ্ছে এটা খুবই চমত্কার একটি বিষয়। গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ব্যাপারে তারা স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সারাবিশ্ব এতে অভিভূত। আমি মুগ্ধ ও তাদের প্রশংসা করি। জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের দাবির প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। দেশের সর্বস্তরের মানুষ এতে সমর্থন দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ব্যাপারটি খতিয়ে দেখবে। ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা নিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার পর প্রথম সংবিধানে জামায়াতের রাজনীতির সুযোগ ছিল না। পঁচাত্তরের পর জামায়াত ধর্মভিত্তিক রাজনীতি শুরু করে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বর্তমান সরকার তরুণ প্রজন্মের দাবি বিবেচনা করবে। তিনি আরো বলেন, ট্রানজিট বা কানেক্টিভিটি ইস্যুতে দুইদেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে। সাংবাদিক সম্মেলনে সালমান খুরশিদ আরো বলেন, দুই প্রতিবেশি ভ্রাতৃপ্রতীম দেশ বন্ধু হিসেবে এক সাথে হাঁটছে ও এগিয়ে যাচ্ছে। লক্ষ্য ও গন্তব্য অভিন্ন। সম্পর্কের ক্ষেত্রে একের পর এক মাইল ফলক রচিত হচ্ছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সহযোগিতা, বাণিজ্য বিদ্যুত্সহ সব ইস্যুতে আমরা কাজ করছি। নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকায় আমরা কৃতজ্ঞ। বিদ্যুত্ ক্ষেত্রে আগামী গ্রীষ্মে ৫০০ মেঘাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানি করতে পারবে বাংলাদেশ। যৌথ বিদ্যুত্ প্রকল্পের কাজ এগুচ্ছে। তিনটি সমঝোতা সই যৌথ পরামর্শক কমিশনের বৈঠকের পর দুইদেশের মধ্যে তিনটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। সেগুলো হচ্ছে আখাউড়া থেকে আগরতলা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ, দ্বৈত কর পরিহার ও বাংলাদেশ-ভারত ফাউন্ডেশন গঠন। সালমান খুরশিদ আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন। এছাড়া অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিত ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন। বিকালে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন। রাতে নয়াদিল্লি ফিরে যাবেন।