ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইন সচেতনভাবে সংশোধন প্রয়োজন

’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে সংবিধান, ট্রাইব্যুনাল আইন ও বিধি সচেতনভাবে সংশোধন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির। গতকাল শনিবার ধানমন্ডির বিলিয়া মিলনায়তনে নির্মূল কমিটি আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। প্রসঙ্গত, একাত্তরের গণহত্যার অন্যতম আসামি কাদের মোল্লার বিচারের রায়ে মৃত্যুদণ্ড না দেয়ায় জাতি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছে। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে ছাত্র-জনতার মহাসমাবেশে। তাদের ৬ দফা দাবিকে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বান্তকরণে সমর্থন করেছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কিছু সংশোধনী আজ ১৭ ফ্রেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার কথা রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে শাহরিয়ার কবির বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য মহাজোট সরকার বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক প্রণীত ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালসমূহ) আইন ১৯৭৩ অনুযায়ী ২০১০ ও ২০১১ সালে দুটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে। গত ২১ জানুয়ারি এবং ৫ ফেব্রুয়ারি এই ট্রাইব্যুনাল প্রায় একই অপরাধে দু’জন আসামিকে দুই ধরনের শাস্তি দেয়ায় ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল আইনের কিছু সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা প্রকট হয়ে পড়েছে, যে সমস্যা সম্পর্কে গত তিন বছর ধরে আমরা ক্রমাগত বলে আসছি। ট্রাইব্যুনাল যদি কোন গণহত্যাকারী, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী এবং যুদ্ধাপরাধীকে দণ্ড প্রদান করে, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেই দণ্ড ‘মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস’ করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকে। তবে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ যেহেতু আন্তর্জাতিক আইনে এমন গুরুতর অপরাধ যা ১৯৮৬ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্র ক্ষমা করতে পারে না। সরকারের কাছে আমাদের দাবি হচ্ছে—অবিলম্বে সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে এই মর্মে একটি ধারা সংযোজন করা হোক যাতে করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত ব্যক্তিরা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা লাভের অযোগ্য বলে গণ্য হয়। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অবিলম্বে জামায়াত এবং সহযোগী ঘাতক বাহিনীসমূহের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে মামলার দাবি জানানো হয়। শাহরিয়ার কবির বলেন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি মনে করে, সাক্ষী সুরক্ষা আইন থাকলে এবং দল হিসেবে আল-বদর বাহিনীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হলে কাদের মোল্লার মৃত্যু অবধারিত ছিল। ট্রাইব্যুনালের রায়ের তারিখ যতো ঘনিয়ে আসছে জামায়াত-শিবিরের সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শাহরিয়ার কবির আরো বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত উদ্বেগ এবং ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করছি প্রকাশ্য জনসভায় গৃহযুদ্ধের হুমকি দিলেও জামায়াতের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। সোমবার জামায়াত হরতাল ডেকেছে। প্রজন্ম চত্বর থেকে ঘোষণা করা হয়েছে সেই হরতালকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ করা হবে। আমরাও তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করছি।’ অধ্যাপক মুনতাসির মামুন বলেন, নতুন প্রজন্মের এই আন্দোলনকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা তাদের সহযোগী। কিন্তু সিদ্ধান্ত তাদের নিজেদেরকেই নিতে হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন কমিটির অন্যতম উপদেষ্টা বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শহিদজায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী, অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ প্রমুখ।