বিএনপির কাউন্সিল নিয়ে তোড়জোড়

বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের তোড়জোড় চলছে। আগামী ৯ মার্চের বদলে আগামী ১৯ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এই কাউন্সিল। ভেন্যু না পাওয়ায় দশদিন পিছিয়ে দেয়া হয়েছে আয়োজন। ইতিমধ্যে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রধান করে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা এবং যুগ্ম-মহাসচিব পর্যায়ের নেতাদের প্রধান করে ১২টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে সাব-কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ড্রাফটিং সাব-কমিটির প্রথম সভায় কাউন্সিলে বক্তব্য, শোক প্রস্তাব ও প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান দুদু, শওকত মাহমুদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি, রেহানা আক্তার রানু এমপি, শাকিল ওয়াহিদ সুমন, মুশফিকুল ফজল আনসারী, অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বুলবুল, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, খালেদা ইয়াসমীন, ড. শামসুজ্জামান মেহেদী ও কামরুজ্জামান বিপ্লব উপস্থিত ছিলেন। অন্য উপ-কমিটিগুলোও বৈঠক শুরু করেছে। কাউন্সিল উপলক্ষে জেলা ও মহানগরে ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি বর্ধিত সভা হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। তবে বর্ধিত সভা কবে হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কাউন্সিল সফল করতে ১২টি উপ-কমিটির মধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভ্যর্থনা কমিটির প্রধান। ড্রাফট কমিটিতে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ, গঠনতন্ত্র সংশোধন সংক্রান্ত কমিটিতে সমন্বয়কারী তরিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, প্রচার বিষয়ক কমিটিতে রয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অর্থ বিষয়ক কমিটিতে উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আপ্যায়নে ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, প্রকাশনায় ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, দফতর ও যোগাযোগ বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, জরুরি চিকিত্সাসেবায় উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ক কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন দলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক গাজী মাজহারুল আনোয়ার। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কাউন্সিলের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা উপ-কমিটির আহ্বায়ক আ স ম হান্নান শাহ বলেন, সফলভাবেই কাউন্সিল করা যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমরা এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছি। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপির ৫ম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর অন্তর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় কাউন্সিল করতে পারেনি দলটি। আর গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) অনুসারেও দলের গঠনতন্ত্রে দেয়া সময়সীমার মধ্যে কাউন্সিল করার বাধ্যবাধকতা থাকায় কাউন্সিলের সময় বাড়াতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করে বিএনপি। ৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের দিন নির্ধারণ করে ২ ফেব্রুয়ারি ভেন্যু বরাদ্দ পেতে যথাক্রমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ও পল্টন ময়দানের জন্য আবেদন করেছিল দলটি। কিন্তু ৯ মার্চ কোন ভেন্যু পায়নি তারা। ফলে দশদিন পিছিয়ে দেয়। শেষাবধি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র পায় তারা।