জামায়াত নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন, জামায়াত একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। আমরা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নেই। জামায়াত-শিবিরকে কর্মসূচি করার অনুমতি দিলে তারা সহিংস হয়ে উঠত না। একই সাথে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে সরকার ধূম্রজাল সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেন। দলের সাবেক চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনীর মৃত্যুর পর গতকাল শনিবার দুপুরে মহানগর কার্যালয়ে আয়োজিত প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে নেজামী বলেন, যুদ্ধাপরাধীর বিচার চলছে এবং রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় এমন আন্দোলন বিচারের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। তাছাড়া মামলার বিচার চলাকালে আইন সংশোধন করা হচ্ছে কেন তা আমরা বুঝতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, শাহবাগের সমাবেশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জামায়াত-শিবিরসহ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার যে দাবি নতুন প্রজন্ম করছে সে বিষয়ে বক্তব্য কী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে বোমাবাজি করে তাদেরকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে আমরা। কিন্তু সকল ইসলামী দল নিষিদ্ধ হোক তা উচিত নয়। এ সময় দলের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, আমরা রাম ও বাম রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি করছি। তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা স্বাধীনতাযুদ্ধের চেতনার দাবিও সঠিক নয়। স্বাধীনতার আগে এ কথাটি কোন দলই বলেনি। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, ১১ ও ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের ঘোষণাপত্রে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা ছিল না। ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২৫ বছরের চুক্তির মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, মাওলানা মো. আবদুল লতিফ নেজামীকে চেয়ারম্যান ও মুফতি ফয়জুল্লাহকে মহাসচিব করে ৬১ সদস্যবিশিষ্ট দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া নয় সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আবুল হাসনাত আমিনী, মাওলানা জোবায়ের আহমেদ, মাওলানা আবুল কাশেম, মুফতি জিয়াউল হক প্রমুখ।