বিভাগে বিভাগে আন্দোলনের খণ্ডচিত্র

মুক্তিযুদ্ধের ৪১ বছর পর প্রজন্ম চত্বর তথা শাহবাগে শুরু হয়েছে গণআন্দোলনের। এই যুদ্ধ তরুণ প্রজন্মের যুদ্ধ। এই আন্দোলন তাদের এক নতুন যুদ্ধ। এই যুদ্ধ একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য যুদ্ধ। প্রজন্ম চত্বরের এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে, সকল শ্রেণীর মানুষের মাঝে। হাজার ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিটি সচেতন বাঙালি আন্দোলন কেন্দ্রে এসে সংহতি প্রকাশ করছে। ফাল্গুনের আগুনঝরা দিনে জহির রায়হানের স্বপ্নকে ছাড়িয়ে বাঙালি আন্দোলনে বহুগুণ হয়েছে। এই আন্দোলনের আগুন প্রজন্ম চত্বর থেকে শুধু সারাদেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী বাঙালিকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধে যেমন নারীরা পুরুষের পাশাপাশি অংশগ্রহণ করেছিলেন তেমনি এই আন্দোলনে নারীর অংশগ্রহণও স্বতঃস্ফূর্ত। বরং নারীর অংশগ্রহণের মাত্রা অনেক বেশি। দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে আমাদের বিশেষ আয়োজন— ++লিটন বাশার বরিশাল: শাহবাগের গণজাগরণে সাড়া দিয়ে এখানকার তরুণ প্রজন্মের হাতে ‘একাত্তর মঞ্চে’ ভিড় বাড়ছে নারী ও শিশু-কিশোরদের। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের নারীরা মঞ্চে অবস্থান নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে জাগ্রত করেছে বরিশালবাসীকে। গত ১১ দিনে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে হাজারো প্রতিবাদী তরুণ-তরুণী জড়ো হয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে অবিরাম স্লোগান তুলছেন। একাত্তরের মঞ্চে ক্লান্তিহীনভাবে একের পর এক স্লোগান দেয়ার পাশাপাশি সড়কের উপর বসে সংগীত পরিবেশন করছেন এই তরুণীরা। মঞ্চ তৈরি থেকে গতকাল রাত পর্যন্ত দফায় দফায় স্লোগানে গর্জে ওঠে সাবেক কমিশনার ও নারীনেত্রী নিগার সুলতানা হনুফা। ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকা হনুফা রাজপথ কাঁপানো বক্তৃতা দিলেও তা শোনার জন্য কর্মী-শ্রোতা ছিলো হাতেগোনা। এবার তিনি হাজারো মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন তার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। সার্বক্ষণিক মঞ্চে স্লোগান আর বক্তৃতার মাধ্যমে উপস্থিত মানুষকে আরো জাগ্রত করে তুলছেন। শুধু হনুফা নয়, মঞ্চে ও আশ-পাশের পুরুষদের পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত নারীরা উপস্থিত থেকে তাদের প্রতিবাদী গান, স্লোগান ও দাবি আদায়ের ভাষা প্রকাশ করতে জোটবদ্ধ হতে দেখা গেছে। অংশগ্রহণ করা শেবাচিম কলেজের শিক্ষার্থী মনীষা চক্রবর্তী প্রতিদিনই এ মঞ্চে হাজির হন। সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সংগঠক হিসেবে তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি আদায়ে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। এবার তার আন্দোলন শুরু হয়েছে নতুন স্বপ্ন নিয়ে। মনীষা জানান, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর দাবি পূরণ করতেই তার মঞ্চে নিত্যদিনের এ যাতায়াত। মনীষা প্রতিদিন এ মঞ্চে আসার কারণ সম্পর্কে বলেন, কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দেখতে চান তিনি। মাত্র কয়েক দিন পরই যে ছাত্রীর ডাক্তার হওয়ার কথা তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো বিচার হয়ে যাওয়া মামলার আসামির শাস্তি নিয়ে রাজপথে আন্দোলনের কারণ সম্পর্কে। মনীষা বলেন, এ বিচার নিয়ে রাজনৈতিকভাবে আপোষ করা হয়েছিলো। আমরা নতুন প্রজন্ম সকল রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দেখতে চাই। মঞ্চের পাশে কথা হয় ছাত্র মৈত্রী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মুনতাহার বিনতে নূরের সাথে। মঞ্চে হাজির থাকার ব্যাপারে সে জানায়, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় দিয়ে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে সে এখানে হাজির হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে হাজির হয়েছেন সাংস্কৃতিক কর্মী সানজিদা মিশি। তিনি বলেন, আমাদের একটাই দাবি— মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসি। সরকারি বিএম কলেজের শিক্ষার্থী আমিনা জানান, তরুণ প্রজন্মের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশবাসী যেভাবে জাগ্রত হয়েছে সেই একই স্বপ্ন তার চোখে। তাই দাবি আদায়ের এ মিছিলে সামিল হতেই তার মঞ্চ একাত্তরে হাজির হওয়া। শুধু রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী কিংবা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী নয়, ঘরের বধূ থেকে শুরু করে বৃদ্ধারা পর্যন্ত এ মঞ্চে আসছেন ১৯৭১ সালের দেশাত্মবোধক গানের মাঝে নিজের হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিকে সাতরে বেড়াতে। এসব গানের মাঝেই তাদের ঘৃণা যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে বিবেককে জাগ্রত করছে। নতুন প্রজন্মের উদীয়মান তরুণী ও যুবতীরা সামিল হচ্ছেন এই নতুন মাত্রার আন্দোলনে। প্রতিদিন বিকেল হলেই অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে নারীরা জড়ো হয়ে মিছিল, স্লোগান ও প্রতিবাদী গানে উত্তাল করছেন। সময় যতই গড়াচ্ছে বিক্ষোভ ততই তীব্র হয়ে উঠছে। মঞ্চে বাড়ছে নারীদের অংশগ্রহণ। ++এনামুল হক খুলনা: লাজ, রাহাত, মুক্তি। ওরা তিন তরুণী। তিন বিপ্লবী। প্রজন্মের দায় মেটাতে আজ ওরা রাজপথে নেমে এসেছেন। এই আন্দোলনে তরুণদের থেকে একটুও পিছিয়ে নেই তারা। ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন রাজপথে। ক্লাস ফেলে কণ্ঠে তুলে নিয়েছেন প্রতিবাদের আগুন ঝরা স্লোগান। দাবি একটাই— সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি। এই তরুণীরাই একাধিক প্রতিবাদের মঞ্চ থেকে সবাইকে নিয়ে এসেছেন একটি মঞ্চে। আন্দোলনের শুরু থেকেই এই মঞ্চে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে যাচ্ছেন এই তিন সাহসিকা। লাজ, রাহাত ও মুক্তি পালকে এখন সবাই চেনে খুলনার অগ্নিকণ্ঠ হিসাবে। লাজ, রাহাত ও মুক্তি এই তিন অগ্নিকণ্ঠির সাথে সুর মিলিয়ে তরুণদের মত আরো এক থেকে দেড়শ’ তরুণী রাজাকারের ফাঁসির দাবিতে গগনবিদারী স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত রেখেছে শিববাড়ি চত্বর। এদের মধ্যে আরো আছে-খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী বর্ণালী বিশ্বাস, পাপিয়া বিশ্বাস, খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী সাজিয়া, শ্রাবণী, বর্ণা ও তন্বী। শিববাড়ি মোড়ে এখন ছোট-বড়, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, তরুণ-তরুণীর কোন ভেদাভেদ নেই। তাদের স্লোগানে এক সঙ্গে সবাই গলা মেলাচ্ছেন। এ যেন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। সোহানা সেলিম লাজ খুলনা মেডিক্যালে পড়াশুনা করছেন। আন্দোলনের সংবাদ শুনে প্রথমে সিদ্ধান্ত নিলেন শাহবাগ যাবেন, পরে শুনলেন খুলনার শিববাড়ি মোড়ে আন্দোলন হচ্ছে। তারপর থেকে তিনি এখানে। অতীতে কোনো ধরনের আন্দোলনে অংশ না নিলেও শিববাড়িতে অবিরাম স্লোগান দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রতিবাদের জন্য রক্তে চেতনা থাকতে হয়। আমি যে স্লোগান দিচ্ছি, সেটা কিন্তু কেউ আমাকে শিখিয়ে দেয়নি, এগুলো বুকের ভেতর থেকে উঠে আসছে। চেতনা থেকে বের হচ্ছে। এখানে এসে মনে হচ্ছে আমার জীবন সার্থক। গত কয়েকদিন ধরে টানা স্লোগান দিয়ে গলা ভেঙ্গে গেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচারের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রী ইসমত রাহাতের। কথা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছিল, বললেও বোঝা যাচ্ছে না কিছুই। কিন্তু তারপরও চলে এসেছেন শিববাড়ি। বললেন, আগে কখনো স্লোগান না দিলেও শিববাড়িতে প্রতিদিন লাগাতার স্লোগান দিয়ে যাচ্ছেন। স্লোগান না দিতে পারলেই বেশি খারাপ লাগে। ‘দলের চেয়ে দেশ বড়, ব্যানার ছাড়ো-ব্যানার ছাড়ো’, ‘সবুর খানের বেল নাই, যশোর রোড ফেরত চাই’ স্লোগানগুলো তারা তৈরি করেছেন। তিনি জানান, তার পিতা ও মামা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। আর তাদের কাছ থেকেই পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রেরণা। বিএল কলেজের দর্শন শেষ বর্ষের ছাত্রী মুক্তি পালও আগে কখনো স্লোগান দেননি। গত কয়েক দিন ধরে স্লোগান দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ‘পক্ষ নিলে রক্ষা নাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই’ স্লোগান তৈরি করেছেন তিনি। তারা বললেন, শিববাড়িতে ছোট-বড়, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা কোনো ভেদাভেদ নেই, স্লোগান শুরু হলেই সবাই গলা মেলাচ্ছেন, এ দৃশ্য দেখেই সাহস কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তারা জানান, খুলনার নির্দলীয় গণমঞ্চ অন্যান্য শহর থেকে পৃথক। এখানে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের প্রবেশ নিষিদ্ধের সাথে রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে সংহতি প্রকাশও নিষিদ্ধ। তাদের ভাষায়, প্রজন্মের দায় মেটাতে আজ রাজপথে নেমে এসেছে তরুণ প্রজন্ম। এই আন্দোলনে তরুণদের থেকে একটুও পিছিয়ে নেই খুলনার তরুণীরা। আমরা চাই গুটিকয়েক নয়, প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা প্রকাশ করে ফাঁসি। আর মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অবিরামভাবে চলবে। ++শামীম হামিদ চট্টগ্রাম: কুসুমকুমারী বালিকা বিদ্যালয়ের ক্লাস নাইনের ছাত্রী সুমাইয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখেনি। মুক্তিযুদ্ধের অনেক কিছুই তার অজানা। তবে সে জানে একাত্তরের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছিল। আর পাকিস্তানের বর্বর সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশে গণহত্যা চালাতে সহায়তা করেছিল এদেশেরই কিছু অমানুষ। এই পিশাচদের নাম রাজাকার। স্বাধীনতার ৪২ বছর পর সেইসব রাজাকারের ফাঁসির দাবি নিয়ে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণের গণজাগরণ মঞ্চে ছুটে এসেছে সুমাইয়া। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হলে কী লাভ হবে, জানতে চাইলে সুমাইয়া বললেন, ওরা আমাদের স্বাধীনতার শত্রু। এই শত্রুদের বাঁচিয়ে রাখলে একাত্তরের শহিদদের প্রতি অবিচার করা হবে। শুক্রবার রাতে সুমাইয়ার মত অসংখ্য নারীকে দেখা গেল গণজাগরণ মঞ্চের সামনে। নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন তারা। কেউ এসেছেন মিছিলের সাথে। কেউ এসেছেন বাবা-মা অথবা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যদের সাথে। বিকাল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত এখানে অবস্থান করেন তারা। নানা বয়সের, নানা পেশার নারীরা ছেলেদের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে গগণবিদারী স্লোগান আর গণসঙ্গীতের উন্মাতাল সুরে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানান। চট্টগ্রামের তারুণ্যের নবজাগরণের পেছনে একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছেন নারীরা। সুমাইয়া যুদ্ধ না দেখলেও একাত্তরে পরোক্ষভাবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন পটিয়া উপজেলার সাহসী নারী রেখা বড়ুয়া। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বামী, মেয়ে, নাতী-নাতনীসহ পুরো পরিবার নিয়ে গণজাগরণ মঞ্চে এসেছেন তিনি। রেখা বড়ুয়া জানালেন,তার স্বামী শ্যামল বরণ বড়ুয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধের সময় স্বামীর সহযোদ্ধারা তাদের বাড়িতে এসে আশ্রয় নিতেন। তাদের লুকিয়ে রাখা ও রান্না করে খাওয়ানোর পুরো দায়িত্ব পালন করতেন রেখা। একাত্তরের স্মৃতিচারণ করতে করতে তিনি বললেন, সেই সময় যাদের নিজের হাতে খাওয়াতাম, কিছুদিন পর শুনতাম সেই মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছেন। আমার সেই ভাইটিকে যারা মেরেছে, তাদেরও একইভাবে মেরে ফেলতে হবে। তা না হলে আমার ভাইয়ের আত্মা শান্তি পাবে না। ১৯৭১ সালে রাজাকারদের সহায়তায় যশোরের সাংবাদিক ও ন্যাপ কর্মী আতিউর রহমানকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ক্যাম্পে আটকে রেখে দীর্ঘদিন অমানবিক নির্যাতনের পর ছেড়ে দেয়া হলেও আর স্বাভাবিক হতে পারেননি তিনি। দীর্ঘদিন অসুস্থ অবস্থায় কাটিয়ে ১৯৭৭ সালের ৭ জুলাই মারা যান এই নির্ভীক সাংবাদিক। শুক্রবার রাতে ইত্তেফাককে বাবার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আতিউর রহমানের মেয়ে আমেনা রহমান। নগরীর চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় ফ্যাশন ডিজাইনার আমেনা তার বাবার মৃত্যুর জন্য রাজাকারদের দায়ী করে বললেন, নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন চালিয়ে তারা আমার বাবাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাদের ফাসি না হলে আমি ঘরে ফিরে যাব না। উদয়ন স্কুলের শিক্ষিকা অপর্ণা তার দুই ছেলে অভিষেক আর অনুভবকে নিয়ে এসেছেন গণজাগরণ মঞ্চে। বাসা কাছাকাছি হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসেন তিনি। জানালেন, বাংলাদেশ এখনও প্রকৃত স্বাধীনতা লাভ করেনি। কারণ এখনও এদেশে রাজাকাররা বেঁচে রয়েছে। রাজাকারদের মেরে ফেললেই বাংলাদেশ নবজীবন লাভ করবে বলে মনে করেন তিনি।