জান্নাতুল ফেরদৌসের সাহসীকতা

সিলেট শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে জালালাবাদ সেনানিবাস। তার আরো ৩ কিলোমিটার দূরে পানি ছড়া বিল। খোলা হাওর। সবাই আকাশের হেলিকপ্টারের দিকে চেয়ে আছেন চরম উত্কণ্ঠার মধ্যে। কখন অবতরণ করবে প্যারাট্রুপাররা। প্রথমে একটি হেলিকপ্টার থেকে লাফ দিলেন কয়েকজন প্যারাট্রুপার। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জান্নাতুল ফেরদৌসও। বিশেষ করে এই নারী প্যারাট্রুপারের প্রতি যেন আগ্রহ একটু বেশি ছিল উপস্থিত সবার। সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জান্নাতুল ফেরদৌস বাংলাদেশে প্রথম নারী ছত্রীসেনা (প্যারাট্রুপার) হিসেবে সফলভাবে অবতরণের সম্মান অর্জন করেছেন। এক হাজার ফুট উঁচু থেকে এই অবতরণের মাধ্যমে ক্যাপ্টেন জান্নাতুল ফেরদৌস শেষ করেন তার প্রশিক্ষণ। গত ১২ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসের পানিছড়া এলাকায় বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তিনি বিমান বাহিনীর একটি বিমান থেকে প্যারাসুটের মাধ্যমে সফলভাবে মাটিতে অবতরণ করেন। ছত্রীসেনা দলের প্রধান প্রশিক্ষক লে. কর্নেল এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ছত্রীসেনা হতে সামরিক বাহিনীতে নারীর অংশগ্রহণের পথে কোন ধরনের বাধা নেই। এখানে পথ উন্মুক্ত। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এতদিন কোনো নারী সাহস দেখাননি। ক্যাপ্টেন জান্নাতুল ফেরদৌস সফলভাবে তার কোর্স সম্পন্ন করার মাধ্যমে নারীদের এ পথে আরো সাহসী হিসাবে গড়ে উঠতে উত্সাহিত করবে। কোর্সের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে ফেরদৌস বলেন, প্রথমে ভয় করেছে। প্রশিক্ষণটি আমার কাছেও অবাক লাগছে। তবে প্রশিক্ষণ শেষে বিষয়টাকে সাধারণ মনে হয়েছে। তিনি বলেন, এটি খুব সাহসিকতাপূর্ণ কাজ। এখন মনে হচ্ছে যেন আবার জামপ দেই। তিনি বলেন, এ কাজে সামরিক বাহিনীর অন্য নারীদেরও এগিয়ে আসা উচিত। তবে প্রশিক্ষণ শেষে বিষয়টাকে সাধারণ মনে হয়েছে। তিনি জানান, ষষ্ঠ বারের মত আকাশ থেকে জাম্প করেছেন। এর মধ্যে একবার রাতের আঁধারেও জাম্প করেছেন তিনি। উপস্থিত সবাই ক্যাপ্টেন ফেরদৌসের সফলতাকে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানান। জান্নাতুল ফেরদৌসের বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়ায়। ব্যবসায়ী বাবা ও গৃহিণী মায়ের চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে জান্নাতুল তৃতীয়। বর্তমানে মিলিটারি একাডেমির কমিপউটার প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) ৫৯তম ব্যাচের ক্যাডেট হিসেবে সেনাবাহিনীতে তার যাত্রা শুরু করেন। তিনি স্বপ্ন দেখেন একটি সুখী বাংলাদেশের। উল্লেখ্য, একমাসব্যাপী অনুষ্ঠিত এ কোর্সে আরো ১৭ জন সেনা কর্মকর্তা এ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। সূত্র মতে, আকাশে চলন্ত বিমান থেকে জাম্প দিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার লক্ষ্যেই এই প্রশিক্ষণ। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৫শ’ অফিসারসহ ৫ হাজার সেনাসদস্য এ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। আর নারী হিসাবে জান্নাতুল ফেরদৌস প্রথম।