জালিয়াতি রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন সফটওয়্যার উদ্বোধন
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:২২
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বড় অংকের ঋণ তদারকি করতে নতুন সফটওয়্যার চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বড় অংকের ঋণ অনলাইনের মাধ্যমে ঝামেলামুক্তভাবে তদারকি করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে। নতুন পদ্ধতিতে বড় ধরনের ঋণ প্রদানে অনিময় তাত্ক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে আসায় অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণও সম্ভব হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ থেকে এ কার্যক্রম তদারকী করবে।
গতকাল রবিবার নতুন এ সফটওয়্যার উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ নওশাদ আলী চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, এসকে সুর চৌধুরি ও নাজনীন সুলতানা। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রবিউল হাসান।
অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, নতুন এ সফটওয়্যারটি চালু করার ফলে প্রত্যেকটি ব্যাংকের নন-ফান্ডেড ঋণের রূপান্তর, ধারাবাহিক বিবর্তন এবং এর পরিমাণ তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যাবে। বর্তমান সময়ে বৃহদায়তন ঋণের খেলাপি রোধে এগুলো দরকার।
অন্য বক্তারা বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট সম্পদের ৬০ শতাংশ ঋণ ও অগ্রিম খাতে রয়েছে। এ ধরনের ঋণের প্রায় ৩০ শতাংশ বড় ঋণ। এ সমস্ত ঋণের তদারকি যথাযথ না হলে তা ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতে সামগ্রিক ঝুঁকি বাড়াবে। ব্যাংকিং খাত যেহেতু এখন অনেক বেশি প্রসারিত তাই প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি জরুরি। এজন্য বাংলাদেশ প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি জোরদার করছে।
বক্তারা আরও বলেন, বিগত চার বছরে ব্যাংকিং খাতে ডিপোজিট বেড়েছে ১১১ শতাংশ, ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০৫ শতাংশ ও একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো শাখাও বেড়েছে এক হাজার ২১৮টি। ফলে সার্বিকভাবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও বেড়েছে কয়েকগুণ। এ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রতি এখনই নজর না দিলে অর্জনগুলো ব্যর্থ হয়ে যাবে।
ব্যাংকারদের দাবি, বিগত দিনে ব্যাংক খাতে ঘটে যাওয়া বড় ধরনের দুর্ঘটনাগুলোর মতো আর কোনকিছু ঘটার আগেই এক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে এটি মেনুয়্যাল পদ্ধতিতে করা সম্ভব নয়। কারণ এতে অনেক সময় ব্যয় ও জটিলতা সৃৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর না হলে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া যায় না। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যায়ক্রমে সব শাখাকেই কাগজবিহীন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বৃহদায়তন ঋণের মনিটরিংয়ের সফটওয়্যাটি চালু করা হলো।
নতুন এ উদ্যোগ সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর কোন গ্রাহক কি পরিমাণ ঋণ নিচ্ছে, গ্রাহকরা যে উদ্দেশ্যে ঋণ নিচ্ছে তা যথাযথভাবে ব্যবহার করছে কিনা, ঋণের জন্য আবেদনকারী গ্রাহক ঋণ খেলাপী কিনা এবং এর আগে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে থাকলে তার পরিমাণ প্রভৃতি সম্পর্কে জানা যাবে। ফলে তদারকি সহজ হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের মোট মূলধনের ১০ শতাংশ বা এর বেশি পরিমাণের ঋণকে বড় অংকের ঋণ (লার্জ লোন) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক এ ধরনের ঋণ দিতে চাইলে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অবহিত করতে হতো। তবে ২০০৩ সালে এ নিয়ম উঠে যায়। অবশ্য একক ঋণের সীমা (মূলধনের ১৫ শতাংশ) অতিক্রম করলে তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন দরকার হয়। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই গ্রাহকের তথ্য পর্যালোচনা করে তাদের পর্যবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জানায়। এ ধরনের ঋণ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তদারক করা হয়। এতে নানা বিপত্তি দেখা দেয়। অনেক সময় সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকেই চিঠি দিয়ে ওই গ্রাহকের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়। এতে গ্রাহকের ঋণ পেতে অনেক বেশি সময় লেগে যায়। এছাড়া তথ্য যাচাই করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও প্রচুর সময় ব্যয় করতে হয়। নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাড়তি ঝামেলা দূর হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।