লিওনেল মেসি ৩০১
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:৪৫
লা লিগার বিভিন্ন রেকর্ডের মালিকদের আসলেই দুশ্চিন্তায় থাকার কথা। একটার পর একটা রেকর্ড যেভাবে গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন লিওনেল মেসি; তাতে শেষ পর্যন্ত কারো রেকর্ড টিকে থাকার কথা নয়। শনিবার রাতে অবশ্য নতুন কোনো রেকর্ড করলেন না; নিজের আরেকটা মাইল ফলকে পৌঁছালেন। বার্সেলোনার হয়ে নিজের ৩০০তম গোল করে ফেললেন।
মেসির মাইলফলক পার করা এই ম্যাচে তারই জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়েও গ্রানার বিপক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বার্সেলোনা। এই জয়ের ফলে অনেক পিছিয়ে থাকা অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ ও রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নিল কাতালানরা।
বার্সেলোনার হয়ে লিগ, কাপ ও বিভিন্ন ধরনের টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড অনেকদিন ধরেও মেসির হাতে। কিন্তু আরেকটি রেকর্ড এখনও স্পর্শ করা বাকি রয়ে গেছে। এই ক্লাবটির হয়ে প্রীতিম্যাচসহ সব মিলিয়ে ৩৬৯ গোল করেছিলেন ১৯১২ থেকে ১৯২৭ সাল পর্যন্ত খেলা পউলিনো আলকান্তারা। সে রেকর্ডও মেসি যে ভেঙে ফেলবেন; এ বাজি ধরার লোকের অভাব হওয়ার কথা নয়।
শনিবার এই ম্যাচ খেলতে নামার আগে বার্সেলোনার হয়ে ২৯৯টি গোল করেছিলেন মেসি। এই ম্যাচেই এলো তার বাকি দুটি গোল। প্রথমার্ধে বার্সা পিছিয়ে পড়েছিল। পরে দ্বিতীয়ার্ধে মেসি নিজের ৩০০তম গোল করে সমতা এনে দিলেন দলকে। আর৩০১ তম গোল করে দলকে জয় এনে দেন।
স্বাগতিকরা এই ম্যাচে ২৬ মিনিটে অডিয়ন ইগহালোর গোলে এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধ শেষে ব্যবধান এটাই ছিল। ম্যাচের ৫০ মিনিটে মেসি ৩০০তম গোলটি করেন। ২৩ মিনিট পর এবার তিনি ফ্রি-কিক থেকে দলের জয়সূচক গোলটি এনে দেন।
এই দু’গোলের ফলে এবারও লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করলেন মেসি। এখন পর্যন্ত ৩৭ গোল নিয়ে গোলদাতাদের তালিকায় সবার উপরে তিনি। এরপরই আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
দলের কোচ টিটো ভিলানোভা বেশ কিছুদিন ধরেই সাইড লাইনে অনিয়মিত। আর এই সুযোগে প্রধান কোচ হিসাবে মেসির এই ধ্বংসাত্মক চেহারা দেখছেন ভারপ্রাপ্ত কোচ জর্ডি রৌরা। মেসির এই বিস্ময়কর ফর্ম দেখে কথাই খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। ম্যাচশেষে তাই মেসিকে ভাসালেন স্রেফ প্রশংসার বন্যায়, ‘আমি এখন কি বলতে পারি? এটা অসাধারণ। ৩০১ গোল করা আমি মনে করি অবিশ্বাস্য। আলাদা করে এই ম্যাচের কথা বললে, আমরা ঠিক যখনই বিপদে পড়েছি, তখন ও (মেসি) আবার এসে উদ্ধার করেছে। অবিশ্বাস্য একজন খেলোয়াড়।’
লা লিগায় বার্সেলোনা ২৪ খেলা শেষে ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে। এক ম্যাচ কম খেলে দ্বিতীয়স্থানে থাকা অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ ৫০ পয়েন্ট অর্জন করেছে। এর থেকে চার পয়েন্ট কম নিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ রয়েছে তিনে। রিয়ালের থেকে বার্সেলোনা ১৯ পয়েন্টে এগিয়ে।
রৌরা বেশ খুশি দলের এমন নৈপুণ্যে। তবে আলাদা করে এই ম্যাচের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন রৌরা, ‘এই ফলাফল খুবই ভাল। কিন্তু আমি কখনো মনে করি না যে, অসাধারণ খেলেছি আমরা। গোলবারের সামনে আমরা নিখুঁত ছিলাম না। আমরা আরও ভালো করতে পারতাম। তবে এটা ঠিক যে, প্রথম গোলের পর শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি আমরা; এটা ভালো ব্যাপার।’
রৌরা এই ম্যাচে বিশ্রামে রেখেছিলেন ডেভিড ভিয়াকে। সদ্যই কিডনিতে পাথর অস্ত্রোপচার করে মাঠে ফেরা এই স্ট্রাইকারকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। জাভি এই ম্যাচে ছিলেন না ইনজুরির জন্য। কার্লোস পুয়েল, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এবং জর্দি আলবা বদলি হিসাবে খেলেছেন।
বার্সেলোনার এই জয়ের রাতে লা লিগায় নিজেদের অবস্থান আরো শক্ত করেছে মালাগা। চতুর্থস্থানে রয়েছে তারা। শনিবার তারা হারায় ১-০ গোলে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে। গেটাফে ৩-১ গোলে হারায় সেল্টা ভিগোকে। জয়ী দলটি উঠে এসেছে ১১ নম্বরে।