অন্যরকম স্বপ্ন দেখছেন
জার্গুনসেন
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩২
খেলোয়াড়-কর্মকর্তা সবাই তখন হতাশ হয়ে চেয়েছিলেন অসময়ের এই বৃষ্টির দিকে। দিনভর চলা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি বিপিএলের শেষ সেমিফাইনালটা পণ্ড করে দেয় কি না, তাই নিয়ে তখন শঙ্কা। এরই মধ্যে গতকাল বিকেলে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ঢুকলেন শেন জার্গুনসেন। ঢুকতেই তার ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ল সংবাদ মাধ্যম। এতোদিন বাংলাদেশে কাটিয়ে যাওয়ার পর জার্গুনসেন যেন নতুন করে দৃষ্টি কাড়লেন। এই নতুন করে দৃষ্টি কাড়ায় বিস্ময়ের কিছু নেই। কারণ গতকাল মিরপুরে যে জার্গুসেন পা রাখলেন, তিনি ক’দিন আগের সহকারী বা ভারপ্রাপ্ত কোচ আর নন; এখন তিনি জাতীয় দলের পূর্ণাঙ্গ প্রধান কোচ। প্রধান কোচের ভূমিকা নিশ্চিত হওয়ার পর আগের দিন রাতেও নিজের লক্ষ্যের কথা একবার জানিয়েছেন। কাল আবার জানালেন, তার লক্ষের কথা—পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে ঈর্ষণীয় এক উচ্চতায় তুলে নিয়ে যেতে চান এই অস্ট্রেলিয়ান।
বাংলাদেশকে এই বর্তমান অবস্থায় নিয়ে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান জার্গুসেনের দুই পূর্বসূরি, স্বদেশী ডেভ হোয়াটমোর ও জেমি সিডন্স। ডেভ দলটাকে জিততে শিখিয়েছিলেন, সিডন্স দলটাকে ধারাবাহিক করেছেন। আর জার্গুসেন চান দলটাকে বিশ্বসেরাদের কাতারে তুলে নিতে। খুব ভালো করে তিনি জানেন, শুধু ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি দিয়ে বিশ্বসেরাদের কাতারে ওঠা সম্ভব না। তাই লক্ষ্যটা টেস্টকে ঘিরেই সাজাচ্ছেন। দায়িত্ব নেয়ার পর জার্গুনসেনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আগামী বছর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। পাঁচ বছরের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা থাকলেও আপাতত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দলকে একটা অবস্থানে নিয়ে আসতে হবে তাকে, ‘আমার পাঁচ বছরের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করতে চাই। আমি মূলত টেস্ট ক্রিকেটটাই বেশি ভালোবাসি। তাই পাঁচ বছর পর যেন বাংলাদেশ ক্রিকেট টেস্টে বড় দলগুলোর একটা হতে পারে সেই চেষ্টা করবো। তবে এর আগে আমার আপাতত লক্ষ্য হল, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দলকে শক্তিশালী করে তোলা’। প্রধান কোচের দায়িত্ব নেয়ার পর জার্গুনসেনের প্রধান অ্যাসাইনমেন্ট শ্রীলংকা সফর। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শেষ হওয়ার পর দলগুলোকে একত্রে পাচ্ছে মাত্র এক সপ্তাহ। এত স্বল্প সময়ের মধ্যে দলকে প্রস্তুত করাটাও কঠিন কাজ। তাছাড়া দীর্ঘ একমাসের টি-টোয়েন্টি ভিত্তিক বিপিএল শেষে লংগার ভার্সন ক্রিকেট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি খেলে টেস্ট খেলাটা ক্রিকেটারদের জন্য সমস্যা হবে কিনা এমন প্রশ্নে জার্গুনসেন, ‘আসলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। শ্রীলংকা সফরের আগে আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) পাঁচদিনের ফাইনাল ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি। সেখানে গিয়েও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারবো। তাছাড়া বিপিএলে ছেলেরা যে ফর্মে আছে তাতে তেমন সমস্যা হবে না বলে মনে করছি’।
শ্রীলংকা সফরে একটা ভালো ভারসাম্যপূর্ণ একাদশ হাতে পাওয়া জরুরী বলে মনে করছেন জার্গুনসেন। কিন্তু সেই ভারসাম্যের জন্য প্রয়োজন সব বিভাগে পর্যাপ্ত খেলোয়াড়। যেটা এই মুহূর্তে জাতীয় দলের অন্যতম সমস্যা। কারণ ছোট-বড় মিলে সবাই ইনজুরিতে ভুগছেন। এটা এক রকম মেনে নিয়েই জার্গুনসেন তার কাজ শুরু করবেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেল, ‘দেখুন গত কয়েকমাস ধরে ছেলেরা প্রচুর ক্রিকেট খেলছে। তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ খেলেছে, বিপিএল খেলছে, বিসিএলও খেলেছে। এখন শ্রীলংকা সফরেও সেভাবে মানিয়ে নিয়ে খেলতে হবে। নতুন যারা রয়েছে তারাও ভালো করছে। তাদের সাপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে আমরা যেভাবে দল সাজিয়েছিলাম সেভাবেই সাজানোর পরিকল্পনা আছে আমাদের’। বাংলাদেশের বাকী সব অতীত কোচের সঙ্গে জার্গুনসেনের একটা মৌলিক পার্থক্য আছে। বাকীরা কেউ অন্য কোথাও সাফল্য দেখিয়ে, কেউ দারুণ প্রোফাইল দেখিয়ে কোচ হয়েছেন। পরে সাফল্য পেয়েছেন বা পাননি। কিন্তু জার্গুনসেনকে এই প্রধান কোচ পদে এনেছেই বাংলাদেশ দলের হয়ে তার সাফল্য। ছিলেন জাতীয় দলের বোলিং কোচ। রিচার্ড পাইবাস হঠাত্ চলে যাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভাবনীয় ফল এনে দিয়েছেন। তারই পুরস্কার বলা যায় এই কোচ পদে স্থায়ী হওয়াকে। আর স্থায়ী হতে পেরে যারপর নাই আনন্দি জার্গুনসেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত। বিসিবি আমাকে জাতীয় দলের কোচ করায় আমি নিজেও গর্বিত। এখন দীর্ঘ সময় কাজ করার সুযোগ থাকছে। অনেক পরিকল্পনা নেয়া যাবে। ছেলেদের ট্রেনিং করানোর সময়টা পাওয়া যাবে’।