পাকিস্তানের জোট সরকার থেকে বেরিয়ে গেল এমকিউএম
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৪
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মুত্তাহিদা কাওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম)। পিপিপি’র ‘নেতিবাচক মনোভঙ্গির’ প্রতিবাদস্বরূপ এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমকিউএম-এর নেতারা জানান।—খবর ডন অনলাইনের।
এমকিউএম-এর সমন্বয় পরিষদ এমন এক সময়ে সিদ্ধান্তটি নিলো যখন জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি আছে। এছাড়া, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন চূড়ান্ত করার জন্য সিন্ধুর প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধী দলের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উদ্ভূত ঘটনার প্রেক্ষাপটে এমকিউএম-এর আইনসভার সদস্যরা জাতীয় সংসদে এবং একই সাথে প্রাদেশিক পরিষদেও বিরোধী দলের আসনে বসবে। এর ফলে এমকিএম এখন প্রাদেশিক পরিষদে বৃহত্তম বিরোধী দল হিসেবে পরিণত হলো। এ অবস্থায় দলটি তাদের যেকোনো সংসদ সদস্যকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে মনোনীত করার জন্য নোটিসও দিতে পারবে।
সংবাদ সম্মেলনে এমকিউএম-এর জ্যেষ্ঠ নেতা ও উপ-আহবায়ক ফারুক সাত্তার পিপিপি’র কঠোর সমালোচনা করেন। খালিদ মাহমুদ এবং নাসরিন জলিলসহ এমকিউএম-এর নেতাদের পাশে নিয়ে ফারুক সাত্তার পিপিপি’র বিরুদ্ধে ‘অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের’ মদত দেয়ার অভিযোগ করেন। এছাড়া, ‘সিন্ধ পিপলস লোকাল গভর্মেন্ট এ্যাক্ট ২০১২’ বাস্তবায়ন না করা এবং এমকিউএম মন্ত্রীদের কাজে বাধা দেয়ারও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, পিপিপি ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এবং দোকানমালিকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করছে এবং এমকিউএম-এর সমর্থকদের হত্যা করছে। পুরো পরিস্থিতিতে বোঝা যায়, এমকিউএম এবং পিপিপি’র শীর্ষ নেতাদের মধ্যকার সম্পর্ক আন্তরিক নয়।
সাত্তার বলেন, পিপিপি’র সাথে না থাকার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং এটা পরিবর্তন হবে না। এমকিউএম-এর নেতা জানান, পিপিপি’র সাথে জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত তাড়াহুড়া করে নেয়া হয়নি এবং তার দলের বিরুদ্ধে কেউ সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ না করতে দেয়ার অভিযোগ করতে পারবে না।