যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে
সংগঠনেরও বিচার
করা যাবে
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:০৪
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শুধু ব্যক্তিই নয়, যেকোন সংগঠনেরও বিচার করা যাবে। রবিবার জাতীয় সংসদে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) (সংশোধনী) বিল-২০১৩ পাসের আগে এ বিধানটি যুক্ত করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করলে ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন মূল বিলের সঙ্গে সংগঠনের বিচার করার বিধান যুক্ত করার জন্য সংসদে সংশোধনী প্রস্তাব আনেন। পরে তা সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। এ বিল পাসের ফলে স্বাধীনতার ৪২ বছর পর স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর বিচারের পথ খুলে দিলো জাতীয় সংসদ। বিলটি পাসের ফলে সংগঠন হিসাবে জামায়াতকে বিচারের আওতায় আনতে আর কোনো আইনগত বাধা থাকলো না।
বিলটিতে সংশোধনী যুক্ত হওয়ায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারাধীন রাজাকারদের পাশাপাশি স্বাধীনতাবিরোধী যেকোন সংগঠনকেও বিচারের মুখোমুখি করা যাবে। সংসদে পাস হওয়া নতুন আইনটি ২০০৯ সালের ১৪ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। পাস হওয়া বিলের বিধান অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ, বাদী ও বিবাদীপক্ষ শুধু আপিল করতে পারবে।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বিলের ৩ ধারায় দুটি সংশোধনী এনে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠন হিসাবে জামায়াতেরও বিচারের প্রস্তাব দিলে মহাজোটের সকল সংসদ সদস্য টেবিল চাপড়িয়ে তাতে সমর্থন জানান। রাশেদ খান মেনন বলেন, যুদ্ধাপরাধ কেবল ব্যক্তির বিষয় নয়, এর সঙ্গে সংগঠনও জড়িত। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন বেশ কয়েকটি সংগঠন রাজাকার-আলবদর সৃষ্টি করে গণহত্যা চালিয়েছে, যুদ্ধাপরাধ করেছে। এখন পর্যন্ত স্বাধীনতার বিরোধিতা ও যুদ্ধাপরাধের দায় স্বীকার করে এসব সংগঠন জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।
সংশোধনী প্রস্তাব এনে তিনি আরও বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতেও যুদ্ধাপরাধের দায়ে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনকেও বিচারের আওতায় আনার বিধান রয়েছে। তাই যুদ্ধাপরাধের দায়ে ব্যক্তির পাশাপাশি জড়িত সংগঠনগুলোকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে। আর ট্রাইব্যুনালের দুটি রায়েও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ হয়েছে। তাই ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনকেও বিচারের আওতায় আনার জন্যই আমি এ সংশোধনীটি এনেছি।
এ সময় স্পীকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদও বলেন, সংবিধানের ৪৭ (৩) অনুচ্ছেদেই যুদ্ধাপরাধের দায়ে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনেরও বিচারের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সংবিধানের এ বিধানটি আইনমন্ত্রী দেখতে পারেন।
মহাজোটের বিপুল সংখ্যক সংসদ সদস্যের সমর্থনের মুখে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ জবাব দিতে উঠে রাশেদ খান মেননের সংশোধনী প্রস্তাবটি গ্রহণ করামাত্রই পুরো সংসদের চিত্র পাল্টে যায়। টেবিল চাপড়িয়ে আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান সংসদ সদস্যরা। এ সময় আইনমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর জার্মানীতে ব্যক্তির পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধের জন্য ন্যািস পার্টিকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল। সংগঠনটির সঙ্গে জড়িতদেরও বিচারে শাস্তি হয়েছে।
আইনমন্ত্রীও সংবিধানের ৪৭ (৩) অনুচ্ছেদে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনকেও বিচারের আওতায় আনার বিধান থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সংবিধানেই রয়েছে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত সংগঠনেরও বিচারের ক্ষেত্রে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না। তাই রাশেদ খান মেননের আনীত সংশোধনীটি আমি গ্রহণ করছি। এরপর স্পীকার বিলটি পাসের জন্য ভোটে দিলে সবার কণ্ঠভোটে পাস হয়।