হরতালে পেট্রোল ঢেলে গাড়িতে আগুন, ভাংচুর
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:১৪
কক্সবাজারে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ‘আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী মুক্তি পরিষদে’র ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিন গতকাল রবিবার চোরাগোপ্তা হামলা চালানো হয়। শিবির কর্মীরা ঝটিকা হামলা চালিয়ে মিনিবাস, টেক্সি ও রিক্সাসহ ডজনখানেক যানবাহন ভাংচুর করেছে। পেট্রোল দিয়ে একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ৩ শিবির কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। হরতাল চলাকালে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও টেক্সি, মাইক্রোবাস, রিক্সা ও টমটম চলাচল করেছে। শহরের জীবনযাত্রা ছিল অনেকটা স্বাভাবিক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হরতাল চলাকালে সকাল ৮টার দিকে কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর ইউনিয়নের চাকার দোকান নামক স্থানে একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসে আগুন ধরিয়ে দেয় হরতাল সমর্থকরা। তারা ৩টি মোটর সাইকেলযোগে বাসটিকে ধাওয়া করে আটকে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন এসে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এছাড়া জেলার অন্য কোথাও বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে গত শুক্রবার পুলিশের গুলিতে ৩ জন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে আরো ৪ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘মাওলানা সাঈদী মুক্তি পরিষদ’। পরিষদের মুখপাত্র দেলোয়ার হোসেন জানান, আগামী মঙ্গলবার জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বিক্ষোভ সমাবেশ, বুধবার উপজেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ, বৃহস্পতিবার ওলামা মাসায়েখদের সাথে মতবিনিময় ও শুক্রবার মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
ভাড়াটে রোহিঙ্গাদের
দিয়ে নাশকতা চালাচ্ছে
জামায়াত: ১৪ দল
জেলা ১৪ দল দাবি করেছে, গত শুক্রবার কক্সবাজারে সংঘটিত ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত এবং এসবের জন্য অর্থ ও অস্ত্রের যোগান দিয়েছে জেলায় জামায়াত নিয়ন্ত্রিত ২২টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। তারা মনে করেন, ‘টাকার বিনিময়ে সশস্ত্র রোহিঙ্গা জঙ্গিদের জড়ো করে সাঈদী মুক্তি পরিষদের ব্যানারে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে নাশকতা সৃষ্টি করেছে।’ গতকাল রবিবার বিকালে শহরের একটি আবাসিক হোটেলে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে ১৪ দলীয় নেতারা এই দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট আহমদ হোছাইন শুক্রবারের ‘তাণ্ডবে’র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ইসলাম ধর্মের পবিত্র স্থান মসজিদকে ব্যবহার করে এ নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীর বিচার প্রতিহত করতেই এ নৈরাজ্য। আর যে ২২টি প্রতিষ্ঠান জামায়াতকে অর্থ ও অস্ত্র জোগান দিয়েছে বলে তারা জেনেছেন এর মধ্যে রয়েছে মিশন গ্রুপ, কেয়ারী, আল ফুয়াদ হাসপাতাল ও ইসলামী ব্যাংক’। তিনি আজকের হরতাল প্রতিহত করতে নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি, পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, জাসদ নেতা মোহাম্মদ হোসেন মাসু প্রমুখ।