রাজধানীর বাংলামোটরে এক সেনা কর্মকর্তার গাড়ির চালককে মারধরের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের শিক্ষার্থী মো. তানভীর আহম্মেদ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) চাকরিচ্যুত সিপাহী ফেরদৌসুল হক (৩৮)।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান সরদার বলেন, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও মারধরের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনপত্রের বিবরণী মতে, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটর সিগন্যালের পুলিশ বক্সের পশ্চিম পাশে একজন সেনা কর্মকর্তার গাড়ি চালকের সঙ্গে মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তির বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। এরই একপর্যায়ে মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সেনা কর্মকতাদের গালিগালাজ করতে করতে গাড়ি চালক সৈনিক আওলাদের কলার চেপে ধরে কিল ঘুসি মারতে থাকেন। ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ উভয়পক্ষকে ট্রাফিক বক্সে নিয়ে যান। পরে থানা পুলিশকে খবর দিলে তাদের পুলিশের হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে বাংলামোটরে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশের সহকারী কমিশনার আবুল হাসান বলেন, ট্রাফিক সিগন্যাল ছাড়ার পরপরই সেনাবাহিনীর গাড়ি সোজা ফার্মগেটের দিকে যাত্রা করে। এই গাড়ির বামপাশে থাকা মোটরসাইকেল আরোহী তখন ডানদিকে মোড় নিয়ে ওই গাড়ির সামনে এসে পড়ে। দু’পক্ষের গাড়িই থামিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু করে দেন। পরে রাস্তা ক্লিয়ার করার জন্য তাদের ডেকে পুলিশ বক্সে নিয়ে গিয়ে বুঝতে পারি- মোটরসাইকেল আরোহীরা ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। তাই তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছি।
শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফেরদৌসুল হক দাবি করেছেন, তিনি বিজিবি’র সিপাহী ছিলেন। ২০১১ সালে তিনি চাকরিচ্যুত হন। তার সঙ্গে তারই আত্মীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর ছিলেন। একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যকে প্রকাশ্যে হেনস্থার অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।