রমজান সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের দাম

পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরায় অস্বাভাবিক

রমজানকে সামনে রেখে প্রশাসনের তত্পরতা এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকায় চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের বাজারও মোটামুটি স্থিতিশীল। কিন্তু বাড়তি চাহিদার কারণে কয়েক কিলোমিটার দূরের খুচরা দোকানগুলোতে অতিরিক্ত মুনাফা করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে অনেক পণ্যের দামই পাইকারি বাজারের তুলনায় অস্বাভাবিক।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, ভোগ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসক, ভোক্তা অধিকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের বৈঠক হয়েছে। ব্যবসায়ীরা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে কেউই অতিরিক্ত মুনাফা করছেন না। এরপরও রোজায় পণ্যের দাম স্থির রাখতে খুচরা বাজারগুলোতে মনিটরিং করা দরকার।

রমজানে অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্যের মধ্যে ছোলার স্থান সবার ওপরে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতি কেজি মিয়ানমারের ছোলা ৬৬-৬৮ টাকা এবং অস্ট্রেলিয়ার ছোলা ৬৪-৬৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু খুচরা বাজার কাজীর দেউড়ি কাঁচাবাজার, চকবাজার, বহদ্দারহাটসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকার মুদি দোকানগুলোয় প্রতি কেজি মিয়ানমারের ছোলা ৭৩-৮২ টাকা এবং অস্ট্রেলিয়ার ছোলা ৭৫-৮৪ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি খেসারি ডাল বিক্রি হয় ৫৩-৫৬ টাকায়। খুচরায় এই খেসারি বিক্রি হচ্ছে ৬৭-৭০ টাকায়। একইভাবে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি সাদা মটর বিক্রি হচ্ছে ৩১ টাকায়, যা খুচরা বাজারে ৩৮-৪৫ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৬৩-৭০ টাকা দামে। অথচ পাইকারি বাজারে একই ডাল বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪৭-৪৮ টাকার মধ্যে। দেশি চিকন মসুর মানভেদে ৯০-১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও একই মসুর খুচরায় ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে কিছু পণ্যের দাম নিম্নমুখীও রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকদিন ধরে চিনির দাম নিম্নমুখী। গতকাল খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয় ৪৮ টাকা দামে, গত তিনদিন আগেও ছিল ৪৯ টাকা। অথচ একই চিনি খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ৫৮ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

এক সপ্তাহ আগে থেকে পেঁয়াজের দামও নিম্নমুখী।। দুই-তিনদিন ধরে খাতুনগঞ্জে প্রতিকেজি ভারতীয় নাসিক জাতের পেঁয়াজ ১৬-১৮ টাকা, বেলেডাঙ্গা জাতের পেঁয়াজ ১০-১৬ ও দেশি পেঁয়াজ ২৩-২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু খুচরা বাজারে এক সপ্তাহ ধরে বাড়তির দিকে পেঁয়াজের দাম। গতকাল ভারতীয় নাসিক  পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩০ টাকা, বেলেডাঙ্গা ২৮ ও দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিবছর রমজানকে কেন্দ্র করে শবেবরাতের আগে থেকে রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার অস্থির করার চেষ্টা হলেও এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এ সময়ে অনেক পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও এবার তা হয়নি। পণ্যের আমদানি, মজুদ ও সরবরাহও ভালো। ফলে পণ্যগুলোর দাম দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল। বরং গত কয়েকদিন ধরে ছোলা, চিনি, পেঁয়াজ ও আদাসহ কয়েকটি পণ্যের দাম আগের চেয়ে কম।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, খুচরা বাজারও মনিটরিং করা হচ্ছে। শিগগিরই খুচরা বাজারেও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। কোনোভাবেই অস্বাভাবিক মুনাফা করা যাবে না।