গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে সতর্ক পর্যবেক্ষণের নির্দেশ খালেদার
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:১৮
বিরোধী দলীয় নেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের গণআন্দোলনের দিকে সতর্ক দৃষ্টি ও পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। শাহবাগ নিয়ে গতকাল সোমবার একটি বিবৃতি দিলেও এ যাবত প্রকাশ্যে কোন জনসভায় মন্তব্য করেননি বেগম জিয়া। তিনি আগামী ৫ মার্চ ঢাকার বাইরে একটি জনসভা করবেন। সেখানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং শাহবাগের আন্দোলন নিয়ে তার সর্বশেষ অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য দিতে পারেন বলে দলের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। এদিকে রবিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ গুলশানে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বাসভবনে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা জানান, সালমান খুরশিদ খালেদা জিয়ার কাছে যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পর্কে তার মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরাও যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই। তবে সে বিচার হতে হবে স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে। কোন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থের বিচার কাম্য নয়। তিনি অতীতে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের কথাও তুলে ধরেন । সূত্র জানায়, বেগম খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র নেতা ও আইনজীবীদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন শাহবাগের গণআন্দোলন নিয়ে। তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মওদুদ আহমদ, এমকে আনোয়ার, সাদেক হোসেন খোকাসহ কয়েকজন নেতাকে গণজাগরণ মঞ্চের গণআন্দোলনের দিকে সতর্ক দৃষ্টি ও পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার চিকিত্সার জন্য ৯ দিনের ব্যক্তিগত সফরে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি তার দেশে ফেরার কথা। বিরোধী দলীয় নেতার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল জানান, আজ রাত ১০টায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন । সেখানে চেকআপ করাসহ প্রয়োজনীয় চিকিত্সা গ্রহণ করবেন। বেগম জিয়া দেশে ফিরে রাজবাড়িতে ৫ মার্চ একটি জনসভায় ভাষণ দিবেন। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি এই জনসভা হওয়ার কথা ছিল। এই জনসভায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং শাহবাগের আন্দোলন নিয়ে তার সর্বশেষ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বক্তব্য দিতে পারেন বলে জানা গেছে। এরপর ১৯ মার্চ জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। কাউন্সিলের পর সরকার বিরোধী আন্দোলনে জোটকে নিয়ে মাঠে নামবেন বলে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এর মধ্যে বড় ধরনের কোন কর্মসূচি থাকছে না। রবিবারের জনসভা থেকে নতুন কর্মসূচি দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়নি। পুরানো কর্মসূচি অনুযায়ী আজ ১৮ দলের উদ্যোগে জেলা সদরে বিক্ষোভ করা হবে।
শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের গণআন্দোলন নিয়ে সতর্ক বিএনপি গত রবিবার ১৮ দলের পরিবর্তে এককভাবে সমাবেশ করেছে রাজধানীতে। এই নিয়ে জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতসহ কয়েকটি দল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। এদিকে এতদিন জোটবদ্ধ কর্মসূচি পালনের পর হঠাত্ করে রবিবার বিএনপির একক কর্মসূচি নিয়ে জোটের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জোটের শরিক একটি দলের চেয়ারম্যান বলেন, শাহবাগের আন্দোলনের কারণে বিতর্ক এড়াতে বিএনপি এককভাবে কর্মসূচি করলেও এ আন্দোলন যদি দীর্ঘমেয়াদী হয় তাহলে বিএনপি কি করবে?