প্রজন্ম চত্বরে শ্লোগান দিতে দিতেই প্রাণপাত করলেন তরিকুল

শাহবাগে চলমান আন্দোলনে শ্ল্লোগান দিতে দিতে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আন্দোলনকারী কার্টুনিস্ট তারিকুল ইসলাম শান্ত। গতকাল সোমবার বিকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে শোক প্রকাশ করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, কার্টুনিস্ট, নাট্যকার ও পরিচালক তারিকুল ইসলাম শান্ত (৩৯) গতকাল বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে পরিচালক ও অভিনয় শিল্পীদের সাথে শাহবাগে আসেন। সেখানে তিনি শ্লোগান দেন। বিকাল পৌনে চারটার দিকে শ্লোগান দিতে দিতেই তিনি হূদরোগে আক্রান্ত হন। নাট্য নির্মাতা গাজী রাকায়েত, অভিনেত্রী বিন্দুসহ কয়েকজন তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের প্রধান সজল ব্যানার্জী জানান, হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর শান্তকে হাসপাতালে আনা হয়। বড় ধরনের হূদরোগজনিত আক্রমণ ছিল এটি। শান্তর বন্ধু ইশতিয়াক আহমেদ জানান, শান্ত কার্টুনিস্ট হিসেবে ভোরের কাগজে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তারকালোকে কার্টুন আঁকতেন। সম্প্রতি নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে তিনি কাজ শুরু করেন। উন্মাদ পত্রিকায়ও কাজ করতেন। ‘কল্পদূত’ নামে কমিকস বই বের করতেন তিনি। পুলিশ জানায়, ঢাকার তেজগাঁওয়ের পশ্চিম নাখালপাড়ার ১২৭, ব্যাংকার্স রো’র বাসায় তিনি থাকতেন। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের বাসাইলে। গতকাল সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে মরদেহ নাখালপাড়ার বাসায় নেয়া হয়। সন্ধ্যায় নাখালপাড়ায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাতে মরদেহ বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের হিমঘরে থাকবে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার জানাজা হবে। বনানীর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। এদিকে শান্তর মৃত্যুতে শাহবাগে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিকাল ৫-৫৯ মিনিটে শান্তর বিদেহী আত্মার প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে গণজাগরণ মঞ্চ। ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহবায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, ?আন্দোলনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আমরা তিনজন সহকর্মীকে হারিয়েছি। আমরা তাদের ত্যাগ কখনো ভুলবো না। এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে আমরা আন্দোলনের কাজে লাগাবো।