মুক্তিযোদ্ধাদের দমনে অস্ত্রের আবেদন জানান গোলাম আযম

জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের মামলায় যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রেখেছে রাষ্ট্রপক্ষ। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী জেয়াদ আল মালুম ও সুলতান মাহমুদ সীমন। জেয়াদ আল মালুম বলেন, গোলাম আযম পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমীর ছিলেন। পাকিস্তানের অখণ্ডতার নামে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে ’৭১-এর ৪ এপ্রিল তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর টিক্কা খানের সঙ্গে বৈঠক করে ২৫ মার্চের ‘অপারেশন সার্চ লাইট’কে সমর্থন করেন। টিক্কা খানকে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতি তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। জেয়াদ আল মালুম বলেন, পাকিস্তানি সেনাদের সমর্থন করার প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামী ছাত্রসংঘসহ তাদের অনুসারীদের নিয়ে শান্তি কমিটি, রাজাকার এবং কিলার আল-বদর ও আল-শাম্স বাহিনী গঠন করে। ট্রাইব্যুনাল আইনজীবী জেয়াদ মালুমের কাছে জানতে চায় স্বাধীনতা যুদ্ধের পর গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দালাল আইনে কোন মামলা হয়েছিল কি-না? জবাবে মালুম বলেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দালাল আইনে কোন মামলা হয়নি। কারণ তখন তিনি দেশে ছিলেন না। ১৯৭১ সালের ৬ জুন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন গোলাম আযম। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের দুষ্কৃতকারী আখ্যা দিয়ে তাদের দমনে অস্ত্র সরবরাহের আবেদন জানান। রাষ্ট্রপক্ষ ১৯৭১ সালে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্রের কাটিং ও বিভিন্ন ডকুমেন্ট উপস্থাপন করে। আইনজীবীরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দৈনিক পূর্বদেশ, দৈনিক পাকিস্তান ও দৈনিক সংগ্রামের বিভিন্ন সংবাদের কাটিং এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর থেকে বিভিন্ন ডকুমেন্ট প্রদর্শন করেন। সুবহানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ১৬ এপ্রিল জামায়াতের নায়েবে আমীর আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়েছে। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল সোমবার এ দিন ধার্য করেন। এছাড়া গতকাল দুপুরের পর তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এক কৌঁসুলি সুলতান মাহমুদ সীমন। তিনি বলেন, তদন্ত শেষ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিতে আরো দুই মাস সময় লাগবে। গতকাল হরতালের কারণে আইনজীবী উপস্থিত না থকায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। গতকাল তদন্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক খানকে চতুর্থদিনের মতো জেরার দিন ধার্য ছিল।