কৃষ্ণচূড়োর রক্তরাঙা দিন

আজ বাদে কালই মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। আমাদের জাতি সত্তায় একুশের নাম লেখা আছে রক্ত দিয়ে। তোমরা হয়তো জানো যে একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের দিনটা ছিল ৮ ফাল্গুন। সেদিনেও আজকের মতো বসন্তের দখিনা বাতাস বয়ে/প্রবাহিত হয়ে ছিল। আজকের দিনে ঢাকার রাস্তায় কৃষ্ণচূড়ার তেমন দেখা না মিললেও সেদিনে দেশের সর্বোত্রই ঢেকে গিয়েছিল কৃষ্ণচূড়ার রক্তলাল ফুলে ফুলে। আজকের এই কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার, হাইকোর্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকায় বসন্তের বার্তা হয়ে কৃষ্ণচূড়া তার রক্তলাল রঙ নিয়ে সেজেছিল। কিন্তু সে কি তখন জানতো, তার রঙকে একাকার করে দিবে একদল হার না মানা তরুণের রক্ত! সালাম, সফিক, বরকতের রক্ত সেদিন বুঝিয়ে দিয়েছিল আমাদের দেশের স্বাধীনতার বসস্তের সূচনার কথা। সেদিনের ঘটনাই পরবর্তীতে আমাদের আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশ হতে সাহায্য করেছিল। প্রতিবার মহান একুশের দিনটিকে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ভরে উদযাপন করি। একুশ এলেই আমরা মনে করি কৃষ্ণচূড়ার কথা। শহীদ মিনারকে ভরিয়ে তুলি কৃষ্ণচূড়ার ফুল দিয়ে। আর কৃষ্ণচূড়ার রক্তলাল ফুলের মাঝেই আমাদের অমর ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের দৃশ্য দেখতে পাই। কিন্তু বর্তমানে হতাশার কথা হলো— অমর একুশের সাথে মিশে থাকা কৃক্তচূড়া ফুলের দেখা তোমরা কেউ কেউ পেয়ে থাকলেও তোমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আর নাও দেখতে পারে। এর কারণ, এই গাছটা বর্তমানে আমাদের দেশ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে! তোমরা যারা কৃষ্ণচূড়া দেখোনি তাদের জন্যই আমরা এবারের আয়োজনে এই সুন্দর গাছটির কিছু পরিচিতি রাখছি। অনেকেই আছো যারা গাছটির সাথে পরিচিত কিন্তু নাম জানো না। আশা করছি— একুশের সাথে এক সূত্রে গেঁথে থাকা কৃষ্ণচূড়া সম্পর্কে তোমরা কিছুটা হলেও ধারণা পাবে। কৃষ্ণর্চড়া একটি বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ, যার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিখ রেজিয়া। এই গাছ চমত্কার পত্র-পল্লব এবং আগুনলাল কৃষ্ণচূড়া ফুলের জন্য প্রসিদ্ধ। এটি গুলমোহর নামেও পরিচিত। কৃষ্ণচূড়া গাছের লাল, কমলা, হলুদ ফুল এবং উজ্জ্বল পাতা একে অন্যরকম দৃষ্টি নন্দন করে তোলে। কৃষ্ণচূড়া মাদাগাস্কার নামক একটি দেশের শুষ্ক পত্রঝরা জঙ্গলে পাওয়া যায়। যদিও এটি এখন জঙ্গলে বিলুপ্ত প্রায়। কিন্তু কিছু কিছু দেশে এটি জন্মানো সম্ভব। সৌন্দর্য বর্ধক গুণ ছাড়াও, এই গাছ উষ্ণ আবহাওয়ায় ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত। শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিশীতোষ্ণ (যেখানে শীত ও গরম সমভাবাপন্ন) অঞ্চলে এটি চিরসবুজ। কৃষ্ণচূড়ার ফলের রং উজ্জ্বল লাল। বাংলাদেশে বসন্তকালে এ ফুল ফোটে। ফুলগুলো বড় চারটি পাপড়ি যুক্ত। কৃষ্ণচূড়া জন্মানোর জন্য উষ্ণ বা প্রায় উষ্ণ আবহাওয়ার দরকার। এই বৃক্ষ শুষ্ক এবং লবনাক্ত অবস্থা সহ্য করতে পারে। আমেরিকা মহাদেশের ক্যারিবিয়ান অঞ্চল, আফ্রিকা মহাদেশ এবং এশিয়া মহাদেশের হংকং, তাইওয়ান, দক্ষিন চীন, বাংলাদেশ, ভারত সহ বিশ্বেও বিভিন্ন দেশে এটি জন্মে থাকে। ভারত বর্ষে সাধারণত এপ্রিল-জুন সময়কালে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কৃষ্ণচূড়ার ফুল ফোটার সময় বিভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিন ফ্লোরিডা — জুন। ক্যারিবিয়ান অঞ্চল - মে থেকে সেপ্টেম্বর। ভারত — এপ্রিল থেকে জুন। অস্ট্রেলিয়া — ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। আরব আমিরাত — সেপ্টেম্বর।