বছরে পাচার হচ্ছে ১০০ কোটি টাকার সাপের বিষ
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:০৩
দেশি ও বিদেশি আন্তর্জাতিক চক্র প্রতিবছর প্রায় একশ কোটি টাকার কোবরা (গোখরা) সাপের বিষ পাচার করছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই সাপের বিষ পাচার হয়। গত সোমবার রাজধানীর উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের লেক থেকে ১২ আউন্স সাপের বিষ উদ্ধার করার পর পুলিশ এই সাপের বিষ পাচারকারী চক্রকে খুঁজছে। এর আগে গত তিন বছরে রাজধানীতে এ ধরনের বেশ কয়েকটি সাপের বিষ পাচার চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করেছে। এ ব্যাপারে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি খন্দকার রেজাউল হাসান বলেন, কোবরা সাপের বিষের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা আছে। দেশের কতিপয় অসাধু চক্র কোবরা সাপের বিষ সংগ্রহ করে কোটি কোটি টাকায় বিদেশি চক্রের কাছে পাচার করছে। এক আউন্স সাপের বিষের দাম ১ কোটি টাকা। বিদেশি চক্র বাংলাদেশ থেকে সাপের বিষ কেনার জন্য তাদের কয়েকটি চক্র সক্রিয় রেখেছে। দেশে তাদের কয়েকটি এজেন্টও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের আগস্টে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি আবাসিক হোটেল থেকে ১২ আউন্স সাপের বিষ উদ্ধার করে র্যাব। ২০১০ সালে মতিঝিল থেকে র্যাব ২ আউন্স সাপের বিষ উদ্ধার করে। এসব সাপের বিষ ফ্রান্স থেকে আনা হয়েছিল। এ ব্যাপারে র্যাব পাচারকারী চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা সাপের বিষের বোতলের গায়ে ‘ মেইড ইন ফ্রান্স’ লেখা ছিল। এ ব্যাপারে গ্রেফতারকৃতরা র্যাবকে জানায় যে, যে চক্র তাদের কাছ থেকে সাপের বিষ কিনবে তারা তা ফ্রান্সে পাঠাবে। এজন্য বোতলের গায়ে ফ্রান্স লিখে দেয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. সীতেশচন্দ্র বাছার বলেন, কোবরা সাপের বিষ থেকে সাপ কামড়ানোর চিকিত্সার জন্য প্রতিষেধক তৈরি হয়। এছাড়া ক্যান্সার চিকিত্সার জন্য ওষুধ তৈরিতে কোবরা সাপের বিষ একটি মূল্যবান উপাদান। বাংলাদেশে কোন ওষুধ শিল্পে সাপের বিষ ব্যবহার না হলেও উন্নত বিশ্বের গবেষণাগারে পটাশিয়াম সায়ানাইডের টক্সিন তৈরিতে এই সাপের বিষ ব্যবহার হয়। এ কারণে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জার্মানি, অস্ট্রিয়া যেসব দেশ রাসায়নিক মৌল বা যৌগ উপাদান তৈরি করে তাদের কাছে কোবরা সাপের বিষ খুবই মূল্যবান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন বিশিষ্ট প্রাণী বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আবুল বাশার জানান, কোবরা (গোখরা) বিশ্বে সবচেয়ে বিষধর সাপ। এর বিষক্রিয়া সবচেয়ে মারাত্মক। বাংলাদেশে কোবরা সাপের সেভাবে কোন খামার গড়ে ওঠেনি। সাপুড়ে বা অন্য কোন চক্রের মাধ্যমে একটি চক্র কোবরা সাপের বিষ সংগ্রহ করে বিদেশ পাচার করছে। এ সাপের বিষ বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদন করে সরকার বছরে কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। এই সাপের বিষ উত্পাদন করতে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা সেল, প্রশাসনিক সেল ও ইকোলজিক্যাল সেল গড়ে তুলতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন রসায়নবিদ জানান, রসায়ন গবেষণাগারে সাপের বিষ একটি মূল্যবান উপাদান। কোবরা সাপের বিষ অনেক রোগের প্রতিষেধক তৈরিতে গবেষণাগারে বিক্রিয়ায় প্রভাবক ও অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। কোবরা সাপের বিষ বিশ্বে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় ব্যবহূত প্রভাবক ও অনুঘটক তৈরিতে ব্যবহার হয়। এ কারণে উন্নত বিশ্বে যেসব দেশ রাসায়নিক উপাদান তৈরি করে ঐসব দেশে কোবরা সাপের বিষ মূল্যবান। এছাড়া কোবরা সাপের বিষ দিয়ে বায়োক্যামিক্যাল (বায়ু জীবাণুযুক্ত অস্ত্র) অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে। এ কারণে কোবরা সাপের বিষের উন্নত বিশ্বে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।