কমিশন রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করলেন পর্ষদের ৮ সদস্য

গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন কার্যত প্রত্যাখ্যান করলেন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচিত ৮ নারী সদস্য। এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে গতকাল মঙ্গলবার তারা বিবৃতি দিয়েছেন। তাহসিনা খাতুন স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বিস্ময় প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ‘সরকার গঠিত কমিশন বলেছে, আমরা গ্রামীণ ব্যাংকের গরীব মহিলারা ব্যাংকের ৯৭ শতাংশ শেয়ারের মালিক, কিন্তু এই ব্যাংকের মালিক নই। অথচ সরকার মাত্র ৩ শতাংশ শেয়ার কিনে নিজেকে মালিক দাবি করছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কমিশনের চেয়ারম্যান কিংবা কোন সদস্য কোনদিন গ্রামীণ ব্যাংকের কোন শাখায় গেলেন না, একজন নির্বাচিত বোর্ড সদস্যের সাথেও কথা বলে দেখলেন না। অথচ তারাই এখন গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যত্ নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। এমনকি তারা গ্রামীণ ব্যাংকের আইন কাঠামো মৌলিকভাবে সংশোধনের সুপারিশ পর্যন্ত দিয়ে ফেলেছেন।’ কমিশনের রিপোর্টে দেয়া সুপারিশগুলো থেকে যেকোন মানুষের মনে স্পষ্ট ধারণা জন্মাবে যে কমিশন নির্বাচিত বোর্ড সদস্যদের ব্যাপারে অত্যন্ত নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়। প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাবেক সচিব মামুনুর রশিদকে চেয়ারম্যান করে চার সদস্যের গ্রামীণ ব্যাংক কমিশন গঠন করে। কার্যপরিধি অনুযায়ী এই কমিশনের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংকের সক্ষমতা, দুর্বলতা খতিয়ে দেখার কথা। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় কিভাবে সুশাসন নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়েও কমিশনের সুপারিশ করার কথা রয়েছে। অতি সমপ্রতি এই কমিশন একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এই রিপোর্টে কমিশন গ্রামীণফোন লিমিটেডের লাইসেন্স অতিসত্বর স্থগিত করার সুপারিশ করেছে। তবে একটি চলমান প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর পরিচালনা বন্ধ না করে লাইসেন্সটি ট াস্টের মাধ্যমে কিংবা গ্রামীণ টেলিকমের অনুকূলে দেয়ার কথা বলেছে। কমিশনের এই প্রতিবেদনের বিষয়ে বিবৃতিতে গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের আট সদস্য বলেছেন, গত ৩৬ বছর ধরে অত্যন্ত সততার সাথে এই ব্যাংক পরিচালনা করেছি। এক টাকার কারচুপির কথাও রিভিউ কমিশন কিংবা গ্রামীণ ব্যাংক তদন্ত কমিশন বের করতে পারেনি। আমরা গরীব মহিলারা এই গ্রামীণ ব্যাংককে ‘হলমার্ক ব্যাংক’ বানাইনি, কিংবা হলমার্কের নামে টাকা পকেটে ঢুকাইনি। আমাদের বিরুদ্ধে বলা হচ্ছে, ‘আমরা নাকি বোর্ডে কথা বলি না। তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা কথা না বলেই কি গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা করলাম? নোবেল পুরস্কার নিয়ে আসলাম? পৃথিবীর আদর্শ ব্যাংক বানালাম? আমাদের শক্তিকে এতো ছোট করে দেখছেন কেন? ’