সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে :প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৫৫
একাত্তরের চেতনায় সশস্ত্র বাহিনীকে গড়ে তুলতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্ম। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে। অধীনস্থদেরকেও সেভাবে গড়ে তুলতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার মিরপুর সেনানিবাসে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজে স্নাতক ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সব সময়ই জনগণের সেবক হিসেবে দেশ পরিচালনা করতে চায়, শাসক হিসেবে নয়। দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রশ্নে কাউকে ছাড় দেইনি। সর্বত্র আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের সীমিত সম্পদ। আর সেই সীমিত সম্পদ দিয়েই আমরা একটি যুগোপযোগী, দক্ষ ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদেরকে উন্নত প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ১৯৯৬ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণের পর সেনাবাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে অনেকগুলো ইউনিট গঠন করা হয়। সেই সময় তার সরকার ডিফেন্স কলেজ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং, আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির মত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রয়োনীয় খসড়া জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি ও সেনাবাহিনী ফোর্সেস গোল ২০৩০ নির্ধারণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন কল্পে সাম্প্রতিক রাষ্ট্রীয় ঋণ চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া হতে ১ বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র ক্রয়ের চুক্তি হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর সকল ক্ষেত্রে অচলাবস্থা কাটিয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়েছি। বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও আমরা সাড়ে ছয় শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। চার বছরে ২০ লাখ ৪০ হাজার জনশক্তির বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সশস্ত্র বাহিনী আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মূর্ত প্রতীক। প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার সুমহান দায়িত্ব আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর উপর ন্যস্ত। এ পবিত্র দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমাদের দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাক মোকাবিলায়ও প্রশংসনীয় অবদান রাখছেন। দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম, অবকাঠামো নির্মাণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রেও আমাদের সশস্ত্র বাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে আসছে।”
তিনি বলেন, “শুধু দেশেই নয়, বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা ও সুনাম অর্জন করেছেন। তাদের সাফল্যে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে।”
বর্তমানে বিশ্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন নতুন পরিবর্তনের ফলে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা ও দায়িত্বে এসেছে বহুমাত্রিকতা। সশস্ত্র বাহিনীর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও পরিবর্তিত সময়ের এই চাহিদার প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন-একথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “ সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে জেনে আমি আনন্দিত।” শেখ হাসিনা গ্র্যাজুয়েট অফিসারদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন। ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড ও স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক (অব.) সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু বেলাল মোঃ শফিউল হক, প্রতিরক্ষা সচিব খোন্দকার মোঃ আসাদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ বছর ডিএসসিএসসি ২০১২-২০১৩ কোর্সে ৪৪ জন বিদেশি অফিসারসহ ১৭৪ জন অফিসার গ্র্যাজুয়েশন সার্টিফিকেট অর্জন করছেন। এ পর্যন্ত ডিএসসিএসসি হতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ২৮২১ জন অফিসার এবং ৩৪টি দেশের ৭৬৪ জন বিদেশি অফিসার কোর্স সম্পন্ন করেছেন।