অন্যরকম ভালোবাসা

ভালোবাসার গান, ভালোবাসার টান আর ভালোবাসার অর্হনিশ মুগ্ধতার মাঝে প্রতিটি মানুষের জীবনে যে রঙের বর্ণিল ভুবনের বিকাশ ঘটে সেখানেই হয়তো থাকে বৈচিত্র্যময় স্বপ্নের হাতছানি। থাকে বিশ্বাস, জীবনের নতুন ইশতেহার গড়ার জয়ধ্বনি। তার মাঝেও কিছু ভালোবাসা অন্যরকম। যেখানটায় হরহামেশা পৃথক করা যায় আর আটদশটা ভালোবাসার সম্পর্ক কিংবা গল্প থেকে। তেমনি পৃথক থেকে পৃথকতর এবং বৈচিত্র্য থেকে বৈচিত্র্যময় কাহিনীর চমত্কার ভাবনা নিয়ে ভালোবাসা দিবসকে উপলক্ষ করে গেল ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে অর্ধশতাধিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘জাজ মাল্টিমিডিয়া’ প্রযোজিত সময়ের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘অন্যরকম ভালোবাসা’। দেশীয় চলচ্চিত্রে গতানুগতিক ধারার বিপরীতে দাঁড়িয়ে ‘অন্যরকম ভালোবাসা’ ইতোমধ্যেই দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বলে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের ধারণা। মুক্তির পরপরই ‘জাজ মাল্টিমিডিয়া’র ডিজিটাল জাদুতে মোহিত হয়েছে গোটা চলচ্চিত্রপ্রেমীরা, বিশেষ করে তরুণ দর্শকরা। ভালোবাসার ভালোলাগার চলচ্চিত্র ‘অন্যরকম ভালোবাসা’ নিয়ে লিখেছেন রুদ্র মাহফুজ শুরুটা ‘ভালোবাসার রঙ’ দিয়ে। গেল বছর অক্টোবরে জাজ মাল্টিমিডিয়া থেকে প্রযোজিত চলচ্চিত্র ‘ভালোবাসার রঙ’ মুক্তি পায়। সারাদেশে প্রায় অর্ধশতাধিক প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তির পর প্রথম সপ্তাহেই দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। বিশ্বের উত্কর্ষ প্রযুক্তি ও রেড মিস্টেরিয়াম ক্যামেরার ব্যবহার চলচ্চিত্রটিতে এনে দিয়েছিল বাড়তি আকর্ষণ। ঢাকাই বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের প্রতিষ্ঠিত নির্দেশক জুটি শাহিন-সুমনের পরিচালনাতেও ছিল মুন্সিয়ানার পরিচয়। এ ছাড়া নবগত জুটি বাপ্পী চৌধুরী ও মাহিয়া মাহির অভিনয়ও দর্শক লুফে নিয়েছিল। সাফল্যের সেই ধারাবাহিকতায় অনুপ্রাণিত হয়ে জাজ মাল্টিমিডিয়া তাদের প্রযোজনায় সম্প্রতি মুক্তি দিয়েছে ‘অন্যরকম ভালোবাসা’ চলচ্চিত্রটি। গেল ছবিটির ন্যায় এই ছবিটিতেও নায়ক-নায়িকার ভূমিকায় আছেন বাপ্পী চৌধুরী ও মাহিয়া মাহি। সাথে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছেন আরেক নতুন মুখ সারা জেরিন। আছেন পরিচালক জুটি শাহিন-সুমনও। দেশের অসম্ভব সুন্দর কিছু লোকেশনে চিত্রায়িত এই চলচ্চিত্রটির গল্প গড়ে ওঠেছে এমনভাবে—সবুজ বাবার একমাত্র ছেলে। মাস্টার্সের গণ্ডি পেরিয়ে সবেমাত্র বেকার পদবিপ্রাপ্ত একজন যুবক। চোখে যার বিদেশ যাওয়ার অপার স্বপ্ন। তার এক বন্ধু বৈবাহিক সূত্রে বিদেশের নাগরিকত্ব লাভ করতে পেরেছে শুনে সে এমন মেয়ে খুঁজতে শুরু করে যে বিদেশের অভিবাসন ভিসার অধিকারিণী। যদি খুঁজে পায় তাহলে সেই মেয়েকে বিয়ে করে সেও বিদেশে যাবে। এভাবে খুঁজতে গিয়ে সে পায় কাজলের সন্ধান। কাজল ধনী ভাইয়ের সংসারে মানুষ হওয়া খামখেয়ালি স্বভাবের মেয়ে। কাজলের ভাই আসাদ তার জন্য এখনও বিয়ে করেনি। তার শখ বোনকে বিয়ে দিয়ে সে বিয়ে করবে। কিন্তু কাজলের কথাও একটাই। সে বিদেশে যাবে। ভাইকে লুকিয়ে সে ভিসার জন্য আবেদন করে এবং ভিসা পেয়েও যায়। আর তখনই নজরে পরে সবুজের। সবুজ তার মামাকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে কাজলের ভালোলাগার বিষয়গুলো জেনে নেয়। সব জানতে পেরে সবুজ তার বন্ধুর স্টুডিও থেকে একটা মেয়ের ছবি নিয়ে সেই মেয়েকে তার কাল্পনিক প্রেমিকা বানিয়ে কাজলের সামনে ওই মেয়ের ছবি নিয়ে প্রেমে প্রতারিত হওয়ার অভিনয় করে। যদিও মিষ্টি নামের মেয়েকে সে চেনেই না, তারপরও কাজলের সামনে মিষ্টিকে খলনায়িকা বানিয়ে অভিনয় করে যায় সবুজ। কাজল তাকে জিজ্ঞাসা করে কীভাবে তাদের প্রেমে হয়েছিল। সবুজ বানিয়ে বানিয়ে তাকে মিথ্যে গল্প বলতে থাকে। তার কল্পনায় সে তার প্রেমিকার সাথে যেভাবে দেখা হবে চিন্তা করেছিল সেই দৃশ্যগুলো বানিয়ে বানিয়ে বলতে থাকে। তার আবেগের আতিশয্য দেখে কাজল তার প্রেমে পড়ে যায়। আর এভাবেই শুরু হয়ে যায় ‘অন্যরকম ভালোবাসা’র কাহিনী। চলচ্চিত্রটি প্রসঙ্গে জাজ মাল্টিমিডিয়ার সিইও মনোয়ার এহতেশাম শীষ বলেন, ‘চলচ্চিত্রে পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম। এতবড় চলচ্চিত্র শিল্প তো অল্প সময়ে পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। তারই ধারাবাহিকতায় প্রথম ছবির চেয়ে আরও সচেতনভাবে ‘অন্যরকম ভালোবাসা’ ছবির কাজ করা হয়েছে। এবারের ছবিতে গল্প, গান, দৃশ্য ধারণের ব্যাপারগুলোতে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, ছবিটির আইটেম গানটি অনেক চমত্কারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দর্শকদের ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস। আমার মনে হয়, বাংলাদেশে এর আগে এত বড় আয়োজনে কোনো আইটেম গান হয়নি। সব মিলিয়ে ‘অন্যরকম ভালোবাসা’ ছবিপ্রেমী দর্শকদের মধ্যে অন্যরকম এক প্রভাব ফেলবে বলে আমার দৃঢ় ধারণা। অনেক নতুন নতুন বিষয় সংযোজন হয়েছে। বাপ্পী-মাহিও আমাদের সেই সংযোজনের অন্যতম ছিল। চলচ্চিত্রে শিল্পী সংকট দূর করতেই তাদেরকে নিয়ে ঝুঁকি নিই। প্রথম ছবিতে সফল হয়েছি। আশা করি দ্বিতীয় ছবিতেও তাদেরকে নিয়ে আমরা সফল হবো। যার প্রমাণ ইতোমধ্যেই চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা দেখেছেন। প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহেই এখন তরুণ দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়। আমরা মনে করি ভালো গল্প, অভিনয় শৈলী ও নির্মাণে আধুনিকতা থাকলে দর্শক প্রেক্ষাগৃহে ফিরে আসতে বাধ্য হবে।’ মাহিয়া মাহি বলেন, ‘ছবিটি দেখলেই দর্শকরা মুগ্ধ হবেন এমনটি বলতে পারি। আমার কাছে সবকিছুই সুন্দর, গোছানো এবং পরিপাটি মনে হয়েছে। গল্পই টেনে নিয়ে যাবে দর্শককে। ছবিটি যেই দেখবে তার কাছেই মনে হবে সত্যিই এ এক অন্যরকম ভালোবাসা। গেল শুক্রবার থেকে বেশ ক’দিন ঢাকার কয়েকটি সিনেমা হলে দর্শকদের সাথে বসে ছবিটি দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালি প্রমাণ করে তারা তৃপ্ত ছবিটি দেখে। পাশাপাশি আমি কৃতজ্ঞ জাজ মাল্টিমিডিয়ার কাছে, কারণ তাদের কল্যাণে বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।’ একই প্রসঙ্গে বাপ্পী চৌধুরী বলেন, ‘নিজের সিনেমা নিয়ে নিজে কী বলব বুঝতে পারছি না। অনেক ভালো কাজ করেছি। গল্পে অনেক নতুনত্ব আছে। লোকেশন, গল্প, গান, সবই দর্শকদের ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস। আরেকটি বিষয় হলো আমার চরিত্রটি অনেক মজার। আমার ধারণা এ ছবিটিও দর্শকের মন ছুঁয়ে যাবে। আর তার প্রমাণ পেয়েছি এই ক’দিনের দর্শকদের মুগ্ধ প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে। পরপর দুটি চলচ্চিচত্রে আমি অভিনয় করতে পেরেছি শুধুমাত্র জাজ মাল্টিমিডিয়ার জন্য। তাই তাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।’ চলচ্চিত্রটির নতুন মুখ সারা জেরিন বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞ জাজ মাল্টিমিডিয়ার কাছে। ছবিটি দর্শক অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রহণ করেছে। প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটি দেখেছি আমি, বেশ উত্ফুল্ল ছিল দর্শকরা পুরোটা সময়জুড়ে। এ ধরনের চলচ্চিত্রে আমি আরও কাজ করতে চাই।’ ভালোবাসার নতুন পরশকে অনুভব করার বারতা নিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসের পরের দিন দেশব্যাপী মুক্তি পায় ‘অন্যরকম ভালোবাসা’। ইতোমধ্যেই তরুণ্যের ভালোলাগার ছবিতে পরিণত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। এ যেন সত্যি এমন এক ভালোবাসা যার জন্য অপেক্ষায় থাকে প্রতিটি মানব হূদয়। আব্দুল্লাহ জহিরের কাহিনীতে ছবিটির অন্যান্য চরিত্রে আরও আছেন রাজ্জাক, নূতন, অমিত হাসান, কাবিলা, ডন, বিপাশা। সংগীত পরিচালনা করেছেন শফিক তুহিন, ইমন সাহা, ফুয়াদ আল মুক্তাদির, শওকত আলী ইমন ও আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। কোরিওগ্রাফিতে মাসুম বাবুল এবং প্রযোজনা ও পরিবেশনায় জাজ মাল্টিমিডিয়া।