গল্প নয় সত্যি
ভূ-পর্যটক পরিবার
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:১৫
পৃথিবীর সুন্দর সুন্দর সব জায়গা দেখতে আর নানা বর্ণের মানুষের সাথে কি আপনার মিশতে ইচ্ছে করে? এ প্রশ্নের উত্তরে খুব কমলোকই বোধকরি মন থেকে না শব্দটি বলবেন। তবে সেই সাথে হয়তো এটিও জানাতে ভুলবেন না যে এই ইচ্ছাপূরণে যে রাজ্যের অর্থ প্রয়োজন সেটা যোগার করাটাই সবচেয়ে বড় ঝক্কি। কিন্তু ‘ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়’ এই প্রবাদটিও তো আর এমনি এমনি আসেনি। আর তাই অর্থের চোখরাঙানিকে একরকম বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই গেল এক দশক ধরে নিজেদের ইচ্ছার জয় নিশ্চিত করে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আর্জেন্টিনার এক দম্পতি ও তাদের সন্তানেরা। গেল এক দশক ধরে এই পরিবারটি তাদের সামান্য সঞ্চয় আর বিশ্বের হাজারও দয়ালু মানুষের দয়ার উপর ভর করেই পাড়ি দিয়েছে ৪৪টিরও বেশি দেশ। এরই মাঝে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জন্ম নিয়েছে এই দম্পতির চার সন্তান। তাদের পড়াশোনাও চলেছে এই সফরের সঙ্গী হয়ে থাকা ঐতিহাসিক গাড়িতেই। কিন্তু জীবনের প্রয়োজন আর নানা সীমাবদ্ধতাকে কখনো তাদের স্বপ্নযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেননি হারম্যান ও ক্যান্ডেলারিয়া দম্পতি। বরং একের পর এক দেশ ঘুরে তারা আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন আড়াই হাজারেরও বেশি পরিবারের। মূলত দীর্ঘদিনের একটা স্বপ্ন পূরণের লক্ষ নিয়েই ২০০০ সালে সামান্য কিছু জমানো অর্থ আর ৮৫ বছরের পুরোনো একখানা গাড়ি নিয়ে পথে নেমেছিলেন হারম্যান ও ক্যান্ডেলারিয়া। তবে পথে বেরুনোর অল্প কিছুদিনের মাঝেই নিজেদের জমানো টাকা ফুরিয়ে যায়। খানিকটা দ্বিধাদ্বন্দ্বেও পড়ে যান হারম্যান ও ক্যান্ডেলারিয়া। কিন্তু আশা হারান না। ঠিক করেন মানুষের দয়ার উপর নির্ভর করে যতোটা সম্ভব এগোবেন। আর কোনোদিন যদি সেটাও না হয় তাহলে বাড়িতেই ফিরবেন। কিন্তু মানুষের দয়া আর ভালোবাসার প্রতি এই দম্পতির অগাধ বিশ্বাসে যে কোনো ভুল ছিল না তার প্রমাণ গেল এক যুগেরও বেশি সময়ের যাত্রা। এই সময়ের মাঝে একটি বারের জন্যও হতাশ হতে হয়নি তাদের। দয়াপরবশ হয়ে কেউ যখন তাদের ১৯২০ সালে তৈরি গ্রাহাম পেইজ গাড়িটির জন্য তেলের বন্দোবস্ত করে দিয়েছে তখন অন্য কেউ হয়তো এগিয়ে এসেছে খাদ্য আর আশ্রয় নিয়ে। আর এভাবেই একে একে ৪৪টি দেশে অসংখ্য মানুষের মাঝে ঘুরতে ঘুরতেই একে একে ভ্রমণের দলে যোগ দিয়েছে এখন দশে পা দেওয়া পাম্পা, সাত বছরের তেহু, পাঁচ বছরের পালোমা আর তিন বছরের ওয়ালাবি। এরমধ্যে পাম্পার জন্ম হয়েছিল নর্থ ক্যারোলিনার গ্রিন্সব্রো’তে, তেহু আর্জেন্টিনাতে পালোমা ভ্যাঙ্কুভার আইল্যান্ডে এবং ওয়ালাবি অস্ট্রেলিয়াতে। মজার বিষয় হলো, দীর্ঘ বারো বছরের এই যাত্রায় কোনো দেশেই খুব বেশি একটা সময় কাটাননি হ্যারম্যান ও ক্যান্ডেলারিয়া। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেবল আমেরিকা। বিশালাকার এই মহাদেশটি ঘুরতে ২০০৮ থেকে ২০০৯ এ একটানা তের মাস লেগে গিয়েছিল তাদের। এদিকে নিজেদের মজার এই ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আর বারো হাজারেরও বেশি মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে হারম্যান ও ক্যান্ডেলারিয়া ইতোমধ্যে ‘স্পার্ক ইওর ড্রিম’ নামের একটি বইও প্রকাশ করেছেন।