দূ রে ব হু দূ রে

মায়ের আঁচল থেকে উড়ে যেত নীল প্রজাপতি, উঠোনে সবুজ মাচা নবান্নের গন্ধমাখা বাড়ি দূরে বহু দূরে সেই অবিস্মরণীয় স্মৃতি আজ কবিতার চিত্রকল্প! পানের বাটার জর্দা লাল টুকটুকে পিক গন্ধ ছড়ায়, আজ হাহাকারও হার মানে! উঠোনে রোদ্দুরে মেলে দেয়া ভেজা শাড়ি এখনও দেখলে সেই সকাল স্মৃতিতে ফিরে আসে। হায় সেই বাঁশবাগানের শনশন মুখর বাতাস হঠাত্ ফুরিয়ে গেল! বটের ছায়ার চেয়ে বিস্তৃত বিশাল গাঢ় স্নেহচ্ছায়া আয়ত্ব সীমার বহু দূরে আজ। খাখা শূন্য ঘর। পাখি নেই অথচ বাগান ছায়াময়। পাখির কুজনময় বাগান এখন গোরস্থান। সমস্ত স্বপ্নই আজ তামাদি বাতিল! ২. মমতায় স্নিগ্ধ সেই মুখ খুঁজি মুখের আদলে নেই। কোথাও দেখি না আর আমার মায়ের মতো কোনো মুখচ্ছবি। শাড়ির আঁচল ওড়ে—লাল নীল সাদা কত শাড়ি আমার মায়ের সেই গন্ধমাখা সবুজ আঁচল আর কোথাও ওড়ে না। ভাঙাচোরা স্বপ্ন আমি জোড়া দিতে দিতে যখন সাজিয়ে তুলি পূর্ণাঙ্গ মায়ের মুখ আমার স্বদেশ তাও দেখি ভেঙে যায়! অকৃতজ্ঞ দানবের হাত ভেঙে দেয় ভাঙাচোরা স্বপ্নকেও শতশত টুকরোয় এখন। অথচ কোথাও যেতে হবে—যেখানে আমার মাতৃছায়া কোথায় এসেছি আজ কোন অন্ধকারে ভয়াল জঙ্গলে। এই বেপথ জঙ্গল হিংস্র পশুর আয়ত্তে! পথের ছদ্মবেশে চারদিকে আঁকাবাঁকা ফাঁদ। অথচ আমাকে যেতে হবে আমার নিজের ঠিকানায়।