আবার ফিরে পেয়েছি ‘জয়বাংলা’

ঢাকার শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর থেকে স্লোগান উঠছে—‘জয়বাংলা’, ‘তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘তুমি কে আমি কে—বাঙালি বাঙালি’। এই স্লোগানগুলো আমাকে ফিরিয়ে নেয় ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের উত্তাল দিনগুলোতে। তখন আমি পিরোজপুর কলেজের ছাত্র। স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে এই স্লোগানগুলো দিয়ে রাজপথ সরব করতাম। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরে এইসব স্লোগানকে নির্বাসন দিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল ‘জিন্দাবাদ’-কে। শুধু তাই নয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামটির ওপরও অলিখিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। রাজাকারদের পুনর্বাসন করে তাদের বসানো হয়েছিল ক্ষমতার বিভিন্ন জায়গায়। এমনকি সামরিক শাসনের দিনগুলোতে এবং পরবর্তী গণতান্ত্রিক পরিবেশেও যুদ্ধাপরাধীদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করায় তারা ফুলে পল্লবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু আমাদের অন্তরে ছিল ‘জয়বাংলা’ আর ‘বাঙালি’। জয়বাংলার জায়গায় জিন্দাবাদ শুনতে শুনতে কষ্ট পেতাম এই ভেবে, যে-জাতি ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে সে জাতি কী করে সেই স্লোগান ভুলে যেতে পারে? এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদেরকে আজ জানাই উষ্ণ ভালোবাসা। কেননা তারা ‘জয়বাংলা’ আর ‘তুমি কে আমি কে—বাঙালি বাঙালি’—এইসব স্লোগান আবার ফিরিয়ে এনেছে। এই ষাট বছর বয়সে যদি মরেও যাই তাহলেও দুঃখ থাকবে না। ফিরে তো পেয়েছি আবার ‘জয়বাংলা’। লিয়াকত হোসেন খোকন ঢাকা