দুর্গম আলীকদমে নিরাপদ পানির সংকট, কষ্টে পাহাড়িরা
আলীকদম (বান্দরবান) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২৭
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় দুর্গম এলাকায় অন্তত: দেড় সহস্রাধিক আদিবাসী পরিবার সারাবছর ঝুঁকিপূণ উত্স থেকে খাবার পানি ব্যবহার করছেন। ঝিরি ছড়ার পানি দিয়ে তাদের নিত্যদিনের কাজ চলে। অন্যসব মৌসুমে ঝিরি ছড়ার পানি পান করাসহ অন্য কাজে ব্যবহার করা গেলেও গরম কালে দূষিত হয়ে পড়ে পানি। তখন খাবার পানি সংকটে পড়ে পাহাড়িরা। এদিকে, দিনদিন ঝিরি ছড়ায় পানি কমে আসছে। এ বছর গরমকাল শুরু না হতেই ঝিরি ছড়ার পানি শুকিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাহাড়িরা। তারা জানান, গরমকাল শুরুর পরপরই পাখি ও বন্যপ্রাণী পানির জন্য ঝিরি ছড়ায় নেমে আসে। যার ফলে দূষিত হয়ে পড়ে পানি। প্রতিবছর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কোনো না কোনো পাড়ায় পানিবাহিত রোগে মৃত্যু ঘটে। তবে মহামারী আকারে ছড়িয়ে না পড়লে প্রশাসন পর্যন্ত খবর যায় না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পোয়ামুহুরী, কুরুকপাতা, দোছড়ী ও মাংগু এলাকায় অন্তত ১৫০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের পাড়া রয়েছে। পাড়াগুলোতে অন্তত: দেড় সহস্রাধিক পরিবার বাস করেন। সেখানে নিরাপদ পানির উত্স বলতে কিছু নেই। যুগযুগ ধরে ঝিরি ছড়ার পানি দিয়ে চলছে দিনযাপন। কিন্তু গ্রীষ্ম মৌসুম আসতে না আসতে এসব ঝিরি ছড়ার পানিও শুকিয়ে যায়। প্রতিবছরই পানির জন্য হাহাকার অবস্থা সৃষ্টি হয় ওই এলাকার বাসিন্দাদের। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ বছর গরমকাল শুরু হতে না হতে ঝিরি ছড়ার পানি শুকিয়ে যেতে বসেছে। মানবসৃষ্ট ধ্বংসলীলায় প্রাকৃতিক বনও এখন আগের মত নেই। যার ফলে পানির উত্সগুলো দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার দুর্গম দোছড়ীর রাইতোমনি পাড়ায় দেখা গেছে, একটি ঝিরির ছোট কুয়া থেকে খাবার পানি আনছেন কয়েকজন মহিলা। বড়জোর তিন চার কলসি পানি পাওয়া যায় ওই কুয়ায়। এরপর অপেক্ষা। পালা করে পানি নিতে হয় তাদের। গ্রীষ্মকাল এলে কুয়ার পানিও থাকে না। নদীর পানি ব্যবহার করতে হয় তখন তাদের। প্রতিবছর শুকনো মৌসুমে ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়সহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হন পাড়ার লোকজন। বিশেষ করে জুমে আগুন দেয়ার পর ঝিরি ছড়ার পানি শুকিয়ে যায়। এখন জুম কাটা শেষ। কয়েকদিন পর জুমে আগুন দেয়া শুরু হবে। যার ফলে দূষিত হয়ে পড়বে পানি। ১ নম্বর আলীকদম ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর মহিলা মেম্বার সারথী ত্রিপুরা বলেন, গরমকালে পানীয় জলের সংকটে অসহনীয় দুর্ভোগ দেখা দেয়।
দৌছরির স্বাধীন মনি তঞ্চঙ্গ্যা ও কুরুকপাতার বিদ্যামনি ত্রিপুরা জানান, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে অন্তত তিন মাস পানির সংকট থাকে পাহাড়ি পল্লীগুলোতে। আর প্রতিবছর এ তিন মাসে পানিবাহিত রোগে মারা যান কোনো না কোনা পরিবারের সদস্য। স্থানীয়দের আশংকা পানি বাহিত রোগ মোকাবেলায় আগাম ব্যবস্থা না নিলে এ বছরও হারাতে হবে কোন না কোনো পরিবারের আপনজনকে। চলতি মৌসুমে তিন মাস পর্যন্ত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ পানি ব্যবহারে উপর সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচার-প্রচারণার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ২ নম্বর চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, পানি সংকট নিরসনে ইউপি সদস্যদের এলাকা ভিত্তিক তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে। অচিরেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।