অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর আহবান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারমুক্ত জ্ঞানভিত্তিক সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী গতকাল ওসমানী মিলনায়তনে একুশে পদক ২০১২ প্রদানকালে এ আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, একুশের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং একুশের শত্রুদের মোকাবেলা করতে সমাজের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাইরে বর্তমানে বিশ্বের ১৯৩ দেশে অমর একুশের বার্তা ও সুর পৌঁছে গেছে। একুশে ফেব্রুয়ারি আজ বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন জাতির ভাষার অধিকার আদায়ের দিবস হিসাবে পালিত হচ্ছে। এ বছর ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠান বাংলা সাহিত্য ও শিল্পকলার উন্নয়নে অবদানের জন্য ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রবর্তিত সর্বোচ্চ এই বেসামরিক পদক লাভ করেন। ২০১২ সালের পদকপ্রাপ্তরা হলেন ভাষা আন্দোলনের জন্য এমএ ওয়াদুদ (মরণোত্তর), প্রফেসর অজিত কুমার গুহ (মরণোত্তর), প্রিন্সিপাল এম কামরুজ্জামান (মরণোত্তর) ও তোফাজ্জল হোসেন। মুক্তিযুদ্ধে এনামুল হক মুস্তাফা শহীদ, সমাজ সেবায় নূরজাহান মুর্শেদ (মরণোত্তর) ও স্যামসন এইচ চৌধুরী (মরণোত্তর)। ভাষা ও সাহিত্যে রফিক আজাদ ও আসাদ চৌধুরী। শিল্প সংস্কৃতিতে কাদেরী কিবরিয়া, জামালউদ্দিন হোসেইন, বিজয় কৃষ্ণ অধিকারী (লোকসঙ্গীত শিল্পী) বিজয় কুমার (মরণোত্তর) ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে একই মন্ত্রণালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম স্বাগত বক্তৃতা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একুশের চেতনা আমাদেরকে স্বাধীন দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশে প্রেরণা জুগিয়েছে। পঞ্চাশের দশক থেকে ভাষা আন্দোলন আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের আন্দোলনে পরিণত হয়। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে উত্থাপন করা হয়েছে এবং এ লক্ষ্যে অব্যাহত চেষ্টা চলছে। শেখ হাসিনা বলেন, মোবাইল ফোনের কী-প্যাডে বাংলা প্রতিস্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন বাঙালির মানসে অসামপ্রদায়িক চেতনার উন্মোচন করেছে এবং জাতির পিতা এই চেতনা ধারণ করে আমাদের ’৭২ সালের সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতাকে একটি মূল নীতি হিসাবে গ্রহণ করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ দেয়ার কথা উল্লে¬খ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাংলা এবং বাঙালি জাতিকে বিশ্ব সমপ্রদায়ের সামনে পরিচিত করতে এই ভাষণ দিয়েছেন এবং আমিও জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণকালে তাঁকে অনুসরণ করি।