সত্যবাদিতাই মুক্তির একমাত্র অবলম্বন
ড. মুহাম্মদ কছিমউদ্দিন আল্লাহর
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৭:৩৯
প্রতি অগাধ বিশ্বাস, হযরত মুহাম্মদের (স.) উপদেশ মত ঈমান, নামাজ, রোজা, হজ্জ্ব, যাকাত ইত্যাদি সম্পাদন করাই ইসলাম ধর্মের মূল। এসবের পূর্ণফল পেতে হলে নিজেকে সত্যবাদী হতে হয়। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন ‘আলামিন’ অর্থাত্ সদা সত্যবাদি। তাই, আমার মনে হয় ঈমান, রোজা, নামাজ, হজ্জ্ব, যাকাতের সঙ্গে আমাদেরকে সদা সত্যবাদী হওয়া একান্তভাবে উচিত। তানাহলে ইবলিস্ বা শয়তানেরা মানুষকে মিথ্যা কথা বলা শিখাইয়ে বিপথগামী করে ফেলে। এই বিষয়ে আমাদের চিন্তাধারাকে আরও সজল ও স্পষ্ট ক’রবার জন্য পবিত্র কোরআনের কিছু আয়াত নিম্নে প্রদত্ত করা হলো। সূরা বাকারা-২ (আয়াত ৩০) :স্মরণ কর যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশ্তাদের বললেন, “আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করিতেছি”, তখন ফেরেশতারা বলিল,“আপনি কি সেখানে এমন কাহাকেও সৃষ্টি করিবেন যে অশান্তি ঘটাইবে ও রক্তপাত করিবে? আমরাই তো আপনার সপ্রশংস স্থুতিগান ও পবিত্রতা ঘোষনা করি। তিনি বলিলেন, “আমি জানি যাহা তোমরা জাননা”। সূরা বাকারা-২ (আয়াত-৪২) :তোমরা সত্যকে মিথ্যার সহিত মিশ্রিত করিও না এবং জানিয়া শুনিয়া সত্য গোপন করিও না। সূরা হিজ্র-১৫ (আয়াত ২৯) “যখন আমি উহাকে সুঠাম করিব এবং উহাতে আমার রূহ সঞ্চার করিব তখন তোমরা উহার প্রতি সিজ্দাবনত হইও”। সূরা হিজ্র (আয়াত ৩০) ও সূরা তুহা (আয়াত ১১৬) আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী ফেরেশতারা সকলেই একত্রে সিজ্দা করিল। সূরা হিজ্র (আয়াত ৩১) কিন্তু ইবলীস করিল না। সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত হইতে অস্বীকার করিল। সুরা হিজ্র (আয়াত ৩২) আল্লাহ বলিলেন, হে ইবলীস! তোমার কি হইল যে, তুমি সিজ্দাকারীদের অন্তর্ভূক্ত হইলে না? সূরা হিজ্র-১৫ (আয়াত ৩৩) সে বলিল, “আপনি ছাঁচে-ঢালা শুস্ক ঠন্ঠনে্ মৃত্তিকা হইতে যে মানুষ সৃষ্টি করিয়াছেন আমি তাহাকে সিজ্দা করিবার নহি।” সূরা হিজ্র-১৫ (আয়াত-৩৪) আল্লাহ্ বলিলেন, “তবে তুমি এখান হইতে বাহির হইয়া যাও, কারণ তুমি অভিশপ্ত ; সূরা- হিজ্র ১৫ (আয়াত-৩৫) এবং কর্মফল দিবস পর্যন্ত তোমার প্রতি রহিল লা’নত।” সূরা হিজ্র-১৫ (আয়াত-৩৬) সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক! পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দিন।” সূরা- হিজ্র ১৫ (আয়াত-৩৭) তিনি বলিলেন, “যাহাদিগকে অবকাশ দেওয়া হইয়াছে তুমি তাহাদিগের অন্তরভুক্ত হইলে।” সূরা- হিজ্র ১৫ (আয়াত-৩৮) “অবধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত।” সূরা হিজ্র (আয়াত ৩৯) সে বলিল, হে আমার প্রতিপালক ! আপনি যে আমাকে বিপথগামী করিলেন তজ্জন্য আমি পৃথিবীতে মানুষের নিকট পাপকর্মকে শোভন করিয়া তুলিব এবং আমি উহাদিগের সকলকেই বিপথগামী করিব। হিজ্র-১৫ (আয়াত-৪০) তবে উহাদিগের মধ্যে তোমার নির্বাচিত বান্দাগণকে নহে। সূরা হিজ্র ১৫ (আয়াত-৪১) আল্লাহ বলিলেন, ইহাই আমার নিকট পৌঁছিবার সরল পথ। সূরা- হিজ্র ১৫ (আয়াত-৪২) “বিভ্রান্তদিগের মধ্যে যাহারা তোমার অনুসরণ করিবে তাহারা ব্যতীত আমার বান্দাদিগের উপর তোমার কোন ক্ষমতা থাকিবেনা।” সূরা- হিজ্র ১৫ (আয়াত-৪৩) “অবশ্যই তোমার অনুসারীদিগের সকলেরই নির্ধারিত স্থান হইবে জাহান্নাম।” সূরা- হিজ্র (আয়াত-৪৪) উহার সাতটি দরজা আছে, প্রত্যেক দরজার জন্য পৃথক পৃথক দল আছে।” সূরা- হিজ্র-১৫ (আয়াত-৪৫) “মুত্তাকীরা থাকিবে প্রস্রবন বহুল জান্নাতে।” সূরা-হিজ্র-১৫ (আয়াত-৪৬) তাহাদিগকে বলা হইবে “তোমরা শান্তি ও নিরাপত্তার সহিত উহাতে প্রবেশ কর।” সূরা- বণী ইসরাইল-১৭ (আয়াত-৬২) সে বলিয়াছিল, “বলুন, উহাকে যে আপনি আমার উপর মর্যাদা দান করিলেন, কেন? কেয়ামতের দিন পর্য্যন্ত যদি আমাকে অবকাশ দেন তাহা হইলে আমি অল্প কয়েকজন ব্যতীত তাহার বংশধরগণকে কর্তৃত্তাধীন করিয়া ফেলিব।” সূরা- বণী ইসরাইল-১৭ (আয়াত-৬৩) আল্লাহ্ বলিলেন, যাও, তাহাদিগের মধ্যে যাহারা তোমার অনুসরণ করিবে, জাহান্নামই তোমাদের সকলের শাস্তি- পূর্ণ শাস্তি। সূরা- বণী ইসরাইল-১৭ (আয়াত-৬৪) ‘তোমার আহ্বানে উহাদিগের মধ্যে যাহাকে পার পদস্খলিত কর, তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী দ্বারা উহাদিগকে আক্রমন কর এবং উহাদিগের ধনে ও সন্তান-সন্ততিতে শরীক হইয়া যাও ও উহাদিগকে প্রতিশ্রুতি দাও।’ শয়তান উহাদিগকে যে প্রতিশ্রুতি দেয় উহা ছলনা মাত্র। সূরা- বণী ইসরাইল-১৭ (আয়াত-৬৫) ‘আমার বান্দাদিগের ওপর তোমার কোন ক্ষমতা নাই’ কর্মবিধায়ক হিসেবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট। সূরা- হজ্ব-২২ (আয়াত-৩০) ‘তোমরা দূরে থাক মিথ্যা- কথন হইতে’। সূরা- শুআরা-২৬ (আয়াত-২২১) ‘তোমাদিগকে কি আমি জানাইব কাহার নিকট শয়তানরা অবতীর্ন হয়? সূরা- শুআরা-২৬ (আয়াত-২২২) ‘উহারা তো অবতীর্ন হয় প্রত্যেকটি ঘোর মিথ্যাবাদি ও পাপীর নিকট।’ সূরা- শুআরা-২৬ (আয়াত-২২৩) ‘উহারা কান পাতিয়া থাকে এবং উহাদিগের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী। সূরা- স্যাদ-৩৮ (আয়াত-৬৬) ‘যিনি আকাশ মন্ডলী, পৃথিবী ও উহাদিগের অন্তবর্তী সমস্ত কিছুর প্রতিপালক, যিনি পরম বিক্রমশালী, মহাক্ষমাশীল।’ সূরা- স্যাদ-৩৮ (আয়াত-৭১)।
লেখক :সাবেক অধ্যক্ষ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ