ভাষা আল্লাহর মহান দান
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৭:৪০
আল্লাহ পাক সুরা আর-রহমানে ইরশাদ করেছেন :তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে এবং তাকে শিক্ষা দিয়েছেন ভাব প্রকাশের ভাষা। মানুষই পৃথিবীর একমাত্র প্রাণী যার ভাব প্রকাশের জন্য ভাষা আছে। ভাষার মাধ্যমে আমরা যত সুন্দর ও সহজভাবে ভাব প্রকাশ করতে পারি, তা অন্য কোনো মাধ্যমে সম্ভব নয়। ভাষার উত্কর্ষতাই মানুষকে এনে দিয়েছে শ্রেষ্ঠত্বের সর্ব শিখরে। তাই ভাষা আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামতগুলোর অন্যতম নেয়ামত। পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি ভাষা রয়েছে। বাংলা ভাষা পৃথিবীর অন্যতম একটি সমৃদ্ধ ও গতিশীল ভাষা। ভাষাভাষী জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলা পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্ মাতৃভাষা। বিশ্বাসের দিক থেকে ২৫ কোটি বাংলাভাষী মানুষের মধ্যে প্রায় ২০ কোটি মুসলমান। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ধর্মের পথে, ইসলামের পথে পড়া,গবেষনা করার জন্য আমাদের মাতৃভাষা তথা বাংলা ভাষায় ইসলাম চর্চার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। মাতৃভাষা মানুষের কাছে মায়ের মতো শ্রদ্ধার। এ ভাষায় যোগাযোগ ও ভাবের আদান-প্রদান অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ। মহান আল্লাহতায়ালা পৃথিবীতে যত নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন, তাঁদের ওইসব অঞ্চলের ভাষাভাষী করে এবং স্থানীয় ভাষায় কিতাব দিয়ে পাঠিয়েছেন। আমাদের প্রিয়নবী (স.) জন্মেছিলেন আরবের পবিত্র মক্কা নগরিতে । তাঁর ওপর অবতীর্ণ মানবজীবনের পূনাঙ্গ জীবনবিধান হেদায়েতের বাণী পবিত্র কুরআনও অবতীর্ণ হয়েছে আরবি ভাষায়। মহানবীর (স.) মাতৃভাষায় পবিত্র কুরআন অবতীর্ণের কারণ আল্লাহ বর্ণনা করেছেন এভাবে: ‘এমনিভাবে আমি আপনার প্রতি আরবি ভাষায় কুরআন নাজিল করেছি, যাতে আপনি মক্কা ও তার আশপাশের লোকদের সতর্ক করেন এবং সতর্ক করেন সমাবেশের (কেয়ামতের) দিন সম্পর্কে, যাতে কোনো সন্দেহ নেই।’ (শূরা-৭) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে : আমি সব পয়গম্বরকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করে প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সত্পথ প্রদর্শন করেন। (ইবরাহিম : ৪) ইসলাম মাতৃভাষা চর্চার ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করেছে। আমাদের প্রিয়নবী (স.) অত্যন্ত শুদ্ধ আরবিভাষী ছিলেন।তিনি বিবি হালিমার যে এলাকার বাড়িতে বড় হয়েছেন সেখানকার স্থানীয় ভাষা খুবই শুদ্ধ ছিল। আর আরবি ভাষা ও সাহিত্যে তাঁর দখল ছিল অসাধারণ। নবীর সুন্নত হিসেবে আমাদেরও উচিত মাতৃভাষা বাংলার ওপর গুরুত্বারোপ করা। ভাষা দ্বারা মানুষ তার মনের ভাব অন্যের কাছে সহজেই প্রকাশ করতে সক্ষম হয়। তাই আদম (আ.) কে সৃষ্টি করে মহান আল্লাহ তাঁকে সব কিছুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন। আর এসব নামই মূলত ভাষা। মাতৃভাষা হলো মায়ের ভাষা। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। মানুষের অস্তিত্বের প্রধান তিনটি অবলম্বনই হচ্ছে—মা, মাতৃভাষা আর মাতৃভূমি। মানুষের জীবন হচ্ছে তার মাতৃভাষা, দেশের ভাষা, জাতির ভাষা। ভাষা সমাজ গড়ে, আবার সমাজও ভাষা গড়ে। তাই কোনো জাতির ভাষা দ্বারা তার সভ্যতা ও সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়। পৃথিবীতে মানব বংশের বিচিত্রতা এবং মানুষের বৈচিত্র্যময় রং, রূপ, দেহসৌষ্ঠবের পার্থক্য যেমন মেনে নিতে হয়, তেমনি তাদের ভাষার পার্থক্যও মানতে হয়। ভাষাকে আল্লাহতায়ালার মহান সত্তাকে চেনা-জানা ও তাঁর বিশাল কুদরতকে বোঝার নিদর্শন বলা হয়েছে। কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে ‘নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি এবং তোমাদের স্ব স্ব (মাতৃ) ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য, তাঁর (আল্লাহর) নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম (৩০:২২)।’ কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী ভাষার সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং আল্লাহই। মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করে তাদের মনের ভাব প্রকাশের জন্য কথা বলা শিক্ষা দিয়েছেন।