দেখা হয় নাই
পতিসর কুঠিবাড়ি
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:৪১
বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই প্রতি শুক্রবারের আয়োজনে থাকছে একটি করে দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো নওগাঁর পতিসর কুঠিবাড়ি-এর কথা।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিকে ধারণ করে আমাদের দেশের যে কটি স্থান আজও ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে তারই একটি হলো নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নে অবস্থিত পতিসর কুঠিবাড়ী। নওগাঁ শহর থেকে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণে নাগর নদের তীরে পতিসর কুঠিবাড়ী অবস্থিত। পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত কালিগ্রাম পরগনার জমিদারী দেখাশোনার জন্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯১ সালে সর্বপ্রথম পতিসরে আসেন। এই পতিসরে বসেই কবি রচনা করেন ‘গোরা’ ও ‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসের অংশবিশেষ; ছোটগল্প ‘প্রতিহিংসা’, ‘ঠাকুরদা’; ‘পূর্ণিমা’, ‘সন্ধ্যা’, ‘দুই বিঘা জমি’, ‘তালগাছ’সহ অনেক কবিতা এবং ‘তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা’, ‘বধূ মিছে রাগ করো না’, ‘তুমি নব রূপে এসো প্রাণে’সহ অনেক গান। জমিদারী দেখাশোনার জন্য এলেও প্রকৃতি ও মানব প্রেমী কবি অবহেলিত পতিসর এলাকার মানুষের জন্য দাতব্য চিকিত্সালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাসহ অনেক জনহিতৈষী কাজ করেন। পুত্রের নামানুসারে প্রতিষ্ঠা করেন কালীগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউট। এ ছাড়া এখানকার কৃষকের কল্যাণে নোবেল পুরস্কারের ১ লাখ ৮ হাজার টাকা দিয়ে তিনি এখানে একটি কৃষি ব্যাংকও স্থাপন করেছিলেন। বর্তমানে এই বাড়িটিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে কবির ব্যবহূত জিনিসপত্র যেমন আলমারি, ইজি চেয়ার, আয়না ইত্যাদি। এ ছাড়া প্রায় ১০ একর জায়গা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই কুঠিবাড়ির সামনের দিকে থাকা সিংহ দুয়ার এবং এরপরে থাকা প্রশস্ত আঙ্গিনাও পর্যটকদের মনে করিয়ে দেয় কবিগুরুর স্মৃতির কথা। নওগাঁ থেকে পতিসরে যাওয়ার জন্য সে অর্থে কোনো বাস যোগাযোগ নেই। এ কারণে আত্রাই অথবা রানীনগরে বাস থেকে নেমে অটোরিকশা অথবা রিকশা-ভ্যানযোগে পতিসর যাওয়াই ভালো। এ ছাড়া শহর থেকে মাইক্রোবাস বা অটোরিকশা রিজার্ভ নিয়েও দিনে দিনে পতিসর থেকে ঘুরে আসা যায়।