মিলানে মুগ্ধ অ্যালেগ্রি!

এসি মিলান কোচ ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি প্রশসংসার বৃষ্টিতে সিক্ত করলেন তার দলের খেলোয়াড়দের। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বার্সেলোনাকে গত বুধবার সান সিরোতে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় মিলান। আর তাতেই কোচের এই মুগ্ধতা। দুই স্ট্রাইকার কেভিন প্রিন্স বোয়েটাং এবং সুলে মুনতারি দলের পক্ষে করেন মহামূল্যবান দুটি গোল।দারুণ খেলেছেন দলের ডিফেন্ডাররাও। বার্সেলোনার দুরন্ত আক্রমণভাগ সামলানোর দায়িত্ব তো ছিল তাদের উপরেই। সে দায়িত্ব যে তারা যথাযথভাবেই পালন করেছেন, ম্যাচের স্কোর লাইনই তার প্রমাণ। মিলানের জমাট ডিফেন্স ভেদ করা সম্ভব হয়নি টানা চারবারের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন বার্সার ফ্রন্টলাইনারদের। সিরিএতে এ মৌসুমে নিজেদের হারানো ফর্ম খুঁজে ফেরা মিলান এদিন যেন দেখা দিয়েছিল তাদের পুরনো রূপেই। দলের এমন পারফরম্যান্সে স্বভাবতই আনন্দিত অ্যালেগ্রি। দলের খেলোয়াড়দের ভাসিয়েছেন প্রসংসার বৃষ্টিতে। দলের এই জয়ের মূল কৃতিত্ব দিলেন দলের ডিফেন্ডারদের। ঘুরেফিরে বারবারই এলো তাদের কথা। মিডিয়া সেটকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন,‘দলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা দারুণ খেলেছে। তারা তাদেরকে(বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের) আমাদের পেনাল্টি সীমানায় ঘেঁষতে দেয়নি। আমরা জানি বল দখলের লড়াইয়ে বার্সেলোনা এগিয়ে ছিল(৬৫ %)। তবে আমরা পাঁচ-ছয়টি ভাল সুযোগ সৃষ্টি করতে পেরেছি। তবে সবগুলো হয়তো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।’ দলের এই আনন্দের মুহূর্তে মিলান কোচ ভুলে যাননি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট এবং কর্মকর্তাদের কথাও। সিরিএতে ক্লাবের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে অ্যালেগ্রির উপরে ক্রমাগত সমর্থকদের চাপ বাড়তে থাকলেও প্রেসিডেন্ট ভরসা রেখেছেন তার উপরেই। অ্যালেগ্রি বলেন,‘জয়টা আজ আমার খেলোয়াড়দের প্রাপ্যই ছিল। ক্লাব প্রেসিডেন্ট এবং পুরো ক্লাবেরই প্রাপ্য ছিল এই জয়।’ তবে সতর্ক অ্যালেগ্রি ভুলে যাননি ম্যাচের দ্বিতীয় লেগ এখনো বাকি। নিজেদের মাঠে বার্সেলোনা কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে সে সম্পর্কেও বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই তার। তাই এখনই কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছেন এমনটা ভাবতে একদমই রাজি নন তিনি। খেলোয়াড়দের মধ্যেও পৌঁছে দিয়েছেন সেই সতর্কবার্তাই। তিনি বলেন,‘এই মুহূর্তে ম্যাচের যে ফলাফল, আমাদের পরবর্তী রাউন্ডে যেতে সেটা যথেষ্ট নয়। তাই ন্যু ক্যাম্পেও একটা ভাল ফল করার চেষ্টাই আমাদের করতে হবে। আর এই ধরনের বড় ম্যাচগুলোতে জিততে হলে আমাদের প্রত্যেককেই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং মাঠে লড়তে হবে জীবনবাজি রেখে। আমরা আজ বার্সেলোনাকে আমাদের সীমানায় ঘেঁষতে দেইনি এবং তারা গোলে কোন ভাল শটও নিতে পারেনি। আবারো এমনটাই করতে হবে আমাদের।’ ম্যাচে বোয়েটাংয়ের করা প্রথম গোল নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক নিয়েও কথা বলেছেন অ্যালেগ্রি। তিনি বলেন, ফুটবল মাঠে এমন অনেক ঘটনাই ঘটে যা রেফারির চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি তিনি এও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ম্যাচে তার দলই ছিল শ্রেয়তর। অ্যালেগ্রি বলেন,‘এটা বলার অপেক্ষা রাখে না আমরা যোগ্য দল হিসাবেই খেলায় জিতেছি। হয়তো প্রথম গোলের সময় ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছিলাম। তবে মাঠে এ ব্যাপারগুলো ঘটে থাকে।’ অ্যালেগ্রির এই বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করার পাশাপাশি তার কৌশলের প্রশংসাও ঝরেছে ম্যাচে একবারের জন্যও বড় কোন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে না হওয়া মিলান গোলরক্ষক ক্রিশ্চিয়ান আবিয়াতির মুখে। তিনি বলেন,‘আমাদের জন্য আরেকটি কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে (ন্যু ক্যাম্পে)। আমরা বার্সেলোনার জন্য ম্যাচটাকে কঠিন করে তুলেছিলাম। ম্যাচটার জন্য আমাদের ভাল প্রস্তুতি ছিল এবং মাঠে কি করতে হবে সে সম্পর্কে কোচ আমাদের পরিষ্কার একটা ধারণাই দিয়েছিলেন।’