পিস্টোরিয়াসের পক্ষে আসছে পরিস্থিতি

একটু একটু করে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। না, পিস্টোরিয়াস নির্দোষ এমন কোনো প্রমাণ এখনও আদালতে হাজির হয়নি। তারপরও গতকাল মামলার দ্বিতীয় দিনেই পরিস্থিতি অস্কার পিস্টোরিয়াসের দিকে ঝুকতে শুরু করেছে। আর এই পুরো ব্যাপারটার কৃতিত্ব দিতে হবে পিস্টোরিয়াসের আইনজীবী ব্যারি রৌক্সকে। আদালতে একটার পর একটা পাল্টা যুক্তি হাজির করে রৌক্স প্রমাণ করতে চলেছেন, সরকারি তদন্তকারীদের আনা অভিযোগপত্রে অনেক ভ্রান্তি আছে। আর তাদের পক্ষে সবচেয়ে বড় কাজ করছে নতুন একটা খবর—পুলিশের হয়ে এই মামলায় তদন্তকারী দলের নেতা হিলটন বোথা নিজেই একজন খুনের আসামি। এখন রৌক্সপক্ষ দাবি করছেন, এমন একজন মানুষ কী ভাবে সঠিক তদন্ত করবেন! গত অলিম্পিকেই অংশ নিয়ে ইতিহাস হয়ে যাওয়া পিস্টোরিয়াস এ মাসেই ফেসে গেছেন এই হত্যা মামলায়। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভালোবাসা দিবসে পিস্টোরিয়াসের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় তার বান্ধুবী রিভা স্টিনক্যাম্পের মৃতদেহ। মৃতদেহে ৩টি অথবা ৪টি বুলেট আবিষ্কার করা হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, তারা পৌঁছে দেখেন, পিস্টোরিয়াস মুখে নিঃশ্বাস দিয়ে রিভাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। রিভার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া পিস্টোরিয়াস গতকাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই বিষয়ে প্রথম কোনো বিবৃতি দেন। লিখিত সে বিবৃতিতে দাবি করা হয়, পিস্টোরিয়াস চোর বা ডাকাত সন্দেহে বাথরুম লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিলেন। তিনি জানতেন না, বাথরুমে রিভা আছেন। পিস্টোরিয়াসের দাবি এই যে, এর আগে কয়েকবার হত্যার হুমকি পাওয়ায় তিনি ভয়ে ছিলেন। রাতে হঠাত্ বাথরুমে শব্দ পেয়ে তিনি আতঙ্গে গুলি চালিয়ে দেন। এ বিবৃতি আদালত গ্রহণ করেছেন কি না; জানা যায়নি। তবে এরপরই সরকারি তদন্ত কর্মকর্তা বোথার তদন্তে একটার পর একটা দুর্বলতা বেরিয়ে আসতে থাকে। বোথা তার রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি পিস্টোরিয়াসের রুম থেকে দুই বাক্স নিষিদ্ধ ড্রাগ পেয়েছেন। কিন্তু রৌক্সের জেরার মুখে তিনি স্বীকার করেণ যে, এটা নিষিদ্ধ ড্রাগ কি না, তা নিশ্চিত নয়। এরপর বোথা একজন সাক্ষী হাজির করতে চেয়েছেন, যিনি ওই রাতে রিভা ও পিস্টোরিয়াসের কথা কাটাকাটি শুনেছেন। এই সাক্ষী বিষয়ে রৌক্সের জেরায় বেরিয়ে আসে, সাক্ষী পিস্টোরিয়াসের বাসা থেকে ৬০০ মিটার দূরে থাকেন। তাহলে কী করে তিনি এই দু’জনের গলার আওয়াজ পেলেন! বোথাকে জেরার করার এক পর্যায়ে রৌক্স বেশ কিছু প্রমাণ সংগ্রহে এই তদন্তকারীর দুর্বলতা, ভুল এবং ত্রুটি উপস্থাপন করেন। কার্যত তদন্ত একেবারেই দায়সারা ও পিস্টোরিয়াসকে খুনি ধরে নিয়েই করা হয়েছে বলে দাবি করেন রৌক্স। একপর্যায়ে বোথা স্বীকার করেছেন, তিনি পিস্টোরিয়াসকে নির্দোষ প্রমাণ করে এমন কোনো প্রমাণ সংগ্রহ করেননি। এরপর পিস্টোরিয়াসের আইনজীবী রৌক্স শুরু করেছেন তার মক্কেলকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য যুক্তি উপস্থাপন। প্রথমত তিনি পিস্টোরিয়াসের বলা ‘গল্প’টাকে সত্যি বলে প্রমাণ করতে চাইছেন। এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে রৌক্স ময়নাতদন্তের একটি বিশেষ পয়েন্টে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি দেখান যে, রিভার মূত্রথলি খালি ছিল। তার বক্তব্য, ‘এতেই বোঝা যায়, রিভা স্বাভাবিক কারণেই বাথরুমে গিয়েছিলেন। ঝগড়ার এক পর্যায়ে বাথরুমে লুকানোর লক্ষণ এটা নয়।’ পিস্টোরিয়াসের পক্ষে এখন আরেকটি ব্যাপার কাজ করছে। দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশ স্বীকার করেছে যে, এই তদন্ত কর্মকর্তা বোথা নিজেই দক্ষিণ আফ্রিকার আলোচিত এক হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত। আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ মাতাল অবস্থায় গাড়িতে করে রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে পাবলিক বাসে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিলেন বোথা ও তার সঙ্গীরা। এদিকে পিস্টোরিয়াসের জামিনের আবেদনও করা হয়েছে। যদিও তদন্ত কর্মকর্তা বোথা জামিনে আপত্তি করেছেন। তার দাবি, জামিন পেলে পালিয়ে কোনো দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে পারেন পিস্টোরিয়াস। কিন্তু এর জবাবে রৌক্স বলেছেন, ‘আপনি কী মনে করেন, এরকম পরিচিত একজন মানুষ; যাকে সারা দুনিয়ার মানুষ চেনে; তার পক্ষে পালানো সম্ভব?’ এই যুক্তিতেই জামিন চাইছেন এখন পিস্টোরিয়াস। এখন দেখার পালা যে, এসব শুনে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেন।