কর ফাঁকি রোধে রোভার স্কাউটদের সহায়তা নেবে এনবিআর

ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী, নিরীক্ষকসহ প্রকৌশলী এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাড়িওয়ালাদের কর ফাঁকি ঠেকাতে এবার রোভার স্কাউটদের কাজে লাগাতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। দেশের বিভিন্ন কলেজে অধ্যয়নরত এসব স্কাউটরা রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাড়িওয়ালাদের কর তথ্য যাচাই করবে। বাড়িওয়ালা ও পেশাজীবীদের কর সনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখবে। সেই সাথে পেশাজীবীদের সম্ভাব্য সকল আয়ের উত্সস্থলে অনুসন্ধান কাজ চালিয়ে তা যাচাই করবে। এর উপর ভিত্তি করে একটি ডাটাবেজ তৈরি করবে এনবিআর। পরবর্তীতে কারা সঠিক পরিমাণে কর দিচ্ছেন না তা খুঁজে বের করা হবে। শিগগিরই এই কার্যক্রম শুরু হবে। এই কাজের জন্য রোভারদের নির্দিষ্ট হারে সম্মানি দেয়া হবে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে বুধবার একটি সভায় এ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। ওই সভায় এনবিআরের কর সংশ্লিষ্ট সকল সদস্য, কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইতিমধ্যে রোভার স্কাউটের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য আদেশ হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিশনাররা তাদের কী পরিমাণ জনবল (স্কাউট সদস্য) দরকার তা এনবিআরকে জানাবেন। এই অনুযায়ী বরাদ্দ দেয়ার পর তাদের কার্যক্রম শুরু করবেন। মূলত মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শক সংকটের কারণে এই প্রক্রিয়ায় কাজ চালাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের একজন্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তবে এই কাজে কী পরিমাণ স্কাউটের প্রয়োজন হবে তা এখনো ঠিক করেনি এনবিআর। এনবিআর সূত্র জানায়, ঢাকা শহরসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় বাড়ির মালিকরা প্রচুর পরিমাণ অর্থ বাড়িভাড়া বাবদ আদায় করলেও তার উপর নির্দিষ্ট হারে কর দেয় না। সেই সাথে পেশাজীবীরাও তাদের আয়ের উপর প্রকৃত কর সরকারের ঘরে জমা দেয় না। বিভিন্ন পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন থেকে এমন অভিযোগের পর এসব সম্ভাব্য করদাতাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় এনবিআর। জনবল সংকটের কারণে রোভার স্কাউটদের এই কাজে লাগানোর বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে এনবিআর। এই ক্ষেত্রে কর ফাঁকি রোধে সফলতা আসবে বলে মনে করছেন এনবিআরের কর্মকর্তারা। বুধবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনবিআর সদস্য (আয়কর নীতি) সৈয়দ আমিনুল করীম। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, রোভারদের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে তথ্য সংগ্রহের পর একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এর উপর ভিত্তি করে তাদের প্রকৃত আয় এবং আয়কর বিবরণীতে উল্লেখিত কর পরীক্ষা করে দেখা হবে। এই উপায়ে যারা কর ফাঁকি দেন তাদের চিহ্নিত করা সহজ হবে। এছাড়া দেশব্যাপী অবৈধ ভিওআইপি ব্যবহার বেড়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে সরকারি খাতে কর আদায় কমে গেছে। অবৈধ ভিওআইপি ব্যবহারকারীদেরও এনবিআর চিহ্নিত করবে। এনবিআরের একজন কর্মকর্তা পেশাজীবীদের কর ফাঁকির উদাহরণ দিয়ে বলেন, অনেক ডাক্তার রয়েছেন যারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেন। এর মাধ্যমে আয় করলেও তা আয়কর বিবরণীতে দেখান না। এ রকম নানমুখী আয় থাকলেও এসব আয় পেশাজীবীরা বিবরণীতে দেখান না। ফলে কাঙ্ক্ষিত কর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এনবিআর। রোভার স্কাউটদের সহায়তায় এসব ফাঁকি ধরা হবে। এছাড়া বৈঠকে কর আদায়ে পিছিয়ে রয়েছে - এমন কর অঞ্চলগুলোকে লক্ষ্য পূরণে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন এনবিআর চেয়ারম্যান। জানা গেছে চলতি অর্থবছরের গত সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) কর আদায়ে পিছিয়ে রয়েছে এমন কর অঞ্চল হলো কর অঞ্চল-৭, কর অঞ্চল-১০, কর অঞ্চল-১৩, কর অঞ্চল-১৫ ও চট্টগ্রামের কর অঞ্চল-৩ ও ৪। জানা গেছে, চলতি অর্থবছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে আয়কর খাতে ৩৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রাজস্ব আদায়ে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে এনবিআর। তবে আয়কর আদায় লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি থাকলেও এই খাতে আরো বেশি পরিমাণে অর্থ আদায়ের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করে এনবিআর।