ফুটবলারদের কাছে ‘রেজাল্ট’ চাইলেন বাফুফে সভাপতি

দেশের ফুটবলকে চাঙ্গা করতে খেলোয়াড়দের সহায়তা চাইলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী মোঃ সালাহউদ্দিন। খেলোয়াড়দের তিনি জানিয়ে দিয়েছেন ফুটবলকে বাঁচাতে হলে রেজাল্ট দিতে হবে। মাঠে পারফরম্যান্স না পেলে কোথাও সাফল্য পাওয়া যাবে না। নেপালে আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলের জন্য দল গড়তে প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বৈঠক করেছেন বাফুফে সভাপতি। তাদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা চালিয়েছেন, বলেছেন মাঠে নেমে হেলাফেলা করলে হবে না। শুধু তাই নয় ফুটবলারদের সালাহউদ্দিন মিনতি জানিয়ে বলেন, ‘ভালো খেলতে হবে, জাতীয় দলের সাফল্য না থাকলে দেশবাসি কোনো কিছু মেনে নেবে না। স্পন্সর আসবে না।’ কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে দেশের ফুটবল প্রধান ‘ভিশন ২০২২’ ঘোষণা করেছেন গত ডিসেম্বরে। এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে না ধরলেও সালাউদ্দিন এদিন বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে হলে একদিকে যেমন অর্থ প্রয়োজন তেমনি মাঠের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক হতে হবে। মাঠের পারফরম্যান্স ভাল না হলে, সাফল্য না থাকলে স্পন্সরের কাছে যাওয়া যাবে না।’ খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতে নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের ভালো মন্দের স্মৃৃতিচারণ করে কিভাবে মাঠে ভালো খেলা যায়, ভালো খেলতে হলে কি করা জরুরি, কিভাবে নিজের পরিচর্যা করতে হয়, সেসব বলেছেন। তুলে ধরেছেন অনেক স্মৃতি। একই সাথে জানিয়েছেন তাদেরকে পারিশ্রমিক পেতে হলে ভালো খেলার কোনো বিকল্প নেই। মাঠে ভালো খেলতে পারলে দর্শক আসবে। তখন স্পন্সররাও ফিরিয়ে দেবে না। ফুটবলাররাও নিজেদের সামর্থ্য ঢেলে দিবেন বলে তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বাফুফে সভাপতির কাছে খেলোয়াড়রা ঘরোয়া লিগে এতো বিদেশি খেলানোর বিষয়টি অভিযোগ আকারে তুলে ধরেন। আবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়া মিডফিল্ডার মারুফ আহমেদ প্রসঙ্গটি তুললে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘বিদেশি স্ট্রাইকাররা খেললে দেশি স্ট্রাইকাররা মাঠের বাইরে থাকে, কথাটা আমি বিশ্বাস করি না। এটা প্রতিযোগিতার জায়গা। নিজের জায়গা নিজেকে করে নিতে হয়। ভালো খেললে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে আসবে। তুমি ভালো খেললে আমি গিয়েও ডেকে আনতে পারি।’ ফুটবলাররা বেতনের কথা তুললে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি। তোমরা ভালো না খেললে স্পন্সরদের কাছে টাকা চাওয়ার সাহসটা বাড়ে না। বেতন দেয়ার বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে।’ আলোচনা কেমন হলো জানতে চাইলে জাতীয় দলের মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা উনার (বাফুফে সভাপতি) কথায় উজ্জীবিত হয়েছি। আমাদের মনোবল বেড়েছে। এ ধরনের উত্সাহ খেলার মাঠে প্রেরণা দেয়।’ উল্লেখ্য চ্যালেঞ্জ কাপকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রস্তুতি শুরু হলেও আসল লক্ষ্য হলো সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। তারপরও বাফুফে চ্যালেঞ্জ কাপকে হালকা ভাবে নিচ্ছে না। প্রমাণ চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলে ১২ দিনের জন্য ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ এবং তার সহকারী রেনে কেস্তারকে আনতে চুক্তির বাইরে গিয়ে ৬০ লাখ টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে। ডাচ কোচরা আজ সকালে ঢাকায় পৌঁছাবেন।