চে ন্না ই টে স্ট

নতুনভাবে শুরু করতে চায় ভারত

চার ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে স্বাগতিক ভারত আজ মাঠে নামছে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। চেন্নাইয়ে বাংলাদেশ সময় সকাল দশটায় খেলাটি শুরু হবে। সামপ্রতিক সময়ে টেস্টে আশানুরূপ পারফরমেন্স করতে না পারার স্মৃতি ভুলে সবকিছু নতুনভাবে শুরু করতে চায় টিম ইন্ডিয়া। অন্যদিকে অজিরাও মাঠে নামবে নিজেদের সেরাটা দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই। গত বছর মাত্র দুটি টেস্ট সিরিজ খেলেছে ভারত। নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা সেই দুটি সিরিজের মোট ৬টি ম্যাচের মধ্যে নিউজিল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে হারালেও ইংল্যান্ডের কাছে চার ম্যাচের সিরিজ হারতে হয় ২-১ ব্যবধানে। তাই হিসাব নিকাশের ইস্যুতে গেলে দেখা যায় ১টি সিরিজ জয়ের বিপরীতে ১টি সিরিজ হেরেছে ধোনির দল। কিন্তু হারের হতাশাটা বড় বেশী কানে বাজছে সেই সিরিজটা নিজেদের মাটিতে হয়েছে বলেই। এর আগে দেশের বাইরে সর্বশেষ ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরে ৪-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হারের লজ্জা পায় ভারত। এরপর দেশের মাটিতে ইংলিশদের বাগে পেয়েও হোয়াইটওয়াশ করা তো দূরে থাক, সিরিজটাই জিততে পারেনি ভারত। তাই ইংলিশদের কাছে হারের সেই ক্ষতে প্রলেপ লাগাতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই সিরিজটাকেই বেছে নিতে চায় ভারতীয়রা। নতুন বছরে সবকিছু নতুনভাবেই শুরু করতে চাইছে তারা। সেই লক্ষ্যে এই সিরিজের জন্য দলে বেশ পরিবর্তনও এনেছে তারা। অফ-ফর্মে থাকার কারণে দল থেকে বাদ পড়েছেন গৌতম গম্ভীর। তার জায়গায় ওপেনার হিসেবে দলে সুযোগ পেয়েছেন দু’জন, মুরালি বিজয় ও শেখর ধাওয়ান। ঘরোয়া মৌসুমে দারুণ পারফরমেন্সের ফল হিসেবে জাতীয় দলে আবারো ডাক পেলেন বিজয়। তবে প্রথমবারের মত টেস্ট দলে ডাক পেলেন ধাওয়ান। বিরেন্দার শেবাগের সাথে নিশ্চিত ভাবেই এদের যেকোন একজনকে প্রথম টেস্টে ইনিংস উদ্বোধন করতে দেখা যাবে । এছাড়াও দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে অভিজ্ঞ অফ স্পিনার হরভজন সিংকে। অতীতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ পারফরমেন্স দেখিয়েছেন ভাজ্জি। প্রিয় প্রতিপক্ষ অসিদের বিপক্ষে ১৬ ম্যাচে ৯০ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। আর যদি সিরিজের প্রথম টেস্টে মূল একাদশে হরভজন সুযোগ পান, তবে এই টেস্টটি তার জন্য হবে স্মরণীয়। কারণ এখন পর্যন্ত ৯৯টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন হরভজন। চেন্নাই টেস্ট খেলতে নামলেই ভারতের দশম খেলোয়াড় হিসেবে শততম টেস্ট খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবেন ৩২ বছর বয়সী হরভজন। তাই শততম টেস্ট খেলার অপেক্ষায় থাকা হরভজন বলেন, ‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। ইতোমধ্যে ভারতের হয়ে ৯৯টি ম্যাচ খেলে ফেলেছি। অবশ্যই আমি কিছুটা বিচলিত কিন্তু এটা বলতে পারি আমি মানসিকভাবে ভালোই আছি। এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন এর আগেও হয়েছি। সেই অভিজ্ঞতা বেশ সাহায্য করবে আমাকে।’ ভারতের মত টেস্টের পারফরমেন্স নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নয় অস্ট্রেলিয়া। কারণ গেল বছর টেস্ট আঙ্গিনায় সাফল্যের দিক দিয়ে রঙ্গীনই ছিল তারা। তিনটি সিরিজের মধ্যে দুটিতেই দাপুটে ভাব নিয়ে জিতে তারা। দুর্দান্ত লড়াইয়ের পরও শেষপর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১-০ ব্যবধানে একমাত্র সিরিজটি হারে মাইকেল ক্লার্কের দল। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২-০ ও শ্রীলংকাকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে র্যাংকিং-এ ও নিজেদের অবস্থানকে উপরের দিকে তুলে এনেছে অস্ট্রেলিয়া। র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান থেকে বেশ পিছিয়ে পড়ে যাওয়া দলটি এই দুই সিরিজ জিতে উঠে আসে র্যাংকিং-এর তিন নম্বর স্থানে।