মসজিদের বিদ্যুত্ বিল মওকুফ করা হোক

মুসলমানদের ইবাদতের জন্য বাংলাদেশের গ্রাম-মহল্লা-বন্দর-শহরে অসংখ্য মসজিদ রয়েছে। মুসুল্লিদের ভিড়ে এখন গ্রাম পর্যায়েও ৩/৪ তলা বিশিষ্ট মসজিদ বিল্ডিং চোখে পড়ে। সারা বাংলাদেশের এই মসজিদগুলোতে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যুত্ ব্যবহূত হয়ে থাকে। এক সময় মসজিদের বিদ্যুতের কোনো বিল দিতে হতো না। মসজিদে বিদ্যুত্ ব্যবহারের জন্য আলাদা কোনো মিটারও ছিল না। মসজিদের পার্শ্ববর্তী কোনো বাড়ি বা প্রতিষ্ঠান থেকে মসজিদে বিদ্যুত্ সংযোগ দিয়ে চালানো হতো। পরবর্তী সময়ে সরকার প্রতিটি মসজিদে আলাদা মিটার স্থাপনের নির্দেশ দেন। সেই অনুয়ায়ী অনেকেই মসজিদে মিটার স্থাপন করেছে। বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ঐ মিটারের বিডিং অনুযায়ী প্রতিটি মসজিদে নিয়মিত বিল দিয়ে আসেন কিন্তু একে তো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অন্যদিকে মসজিদে আয়ের কোনো উত্স না থাকায় বিদ্যুত্ বিল পরিশোধ করা হয় না। এভাবে মসজিদের বিদ্যুত্ বিল একক সময় আকাশচুম্বি হওয়ার কারণে মসজিদ কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধ না করে সরকারের কাছে বিদ্যুত্ বিল মওকুফের আবেদন জানান এবং এ নিয়ে ঐ সময় গণমাধ্যমে বিস্তারিত লেখালেখি হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে এরশাদ সরকারের আমলে সমজিদের সমুদয় বিদ্যুত্ বিল মওকুফ করে দেয়া হয় কিন্তু পরবর্তী সময় সারা বাংলাদেশের মসজিদে যে বিদ্যুত্ বিল এসেছে তা অনেক মসজিদ কমিটিই পরিশোধ করেননি। ফলে বিলের ওপর জরিমানা হতে থাকে। অনেক মসজিদে মূল বিলের কয়েক গুণ জরিমানা হয়ে গেছে। এমনও লক্ষ্য করা গেছে, একটি মসজিদের মূল বিদ্যুত্ বিল ২২ হাজার টাকা হলেও জরিমানা চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে ৩০ হাজার টাকা হয়ে গেছে। এমন মসজিদও রয়েছে যেখানে বিদ্যুত্ বিলের জরিমানা চক্রবৃদ্ধি হারে লাখ লাখ টাকা হয়ে পড়ে আছে। এই বিরাট অংকের বিদ্যুত্ বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন মসজিদ কর্তৃপক্ষ। যে কারণে চক্রবৃদ্ধি জরিমানাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসাবে বাংলাদেশের প্রতিটি মসজিদের সমুদয় বিদ্যুত্ বিল মওকুফ করার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। হাজী মো. শাহ আলম, সভাপতি, মেরাদিয়া নয়াপাড়া জামে মসজিদ, খিলগাঁও, ঢাকা।