কমলগঞ্জে মনিপুরী তাঁত শিল্পের করুণ দশা, বাজারজাতের সুবিধা নেই

প্রয়োজনীয় মূলধন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, উত্পাদন পদ্ধতি আধুনিকায়ন, সুতার পর্যাপ্ত সরবরাহের অপ্রতুলতা ও দাম বৃদ্ধি, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ও বাজারজাতকরণে নানা প্রতিকূলতার কারণে কমলগঞ্জে মনিপুরী তাঁত শিল্পে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। উপজেলার মাধবপুরে বৃহত্তর সিলেটের তাঁত শিল্পীদের একমাত্র সরকারি তাঁতবোর্ড প্রতিষ্ঠানটিতে জনবল স্বল্পতা ও জরাজীর্ণ দশা ধারণ করেছে। তাঁত বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগের মনিপুরী তাঁত শিল্পীদের জন্য কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুরে ১৯৮২ সালে স্থাপিত তাঁত বোর্ডের অধীনে ১৫৬১টি তাঁত সংখ্যা এবং ১২১৩ জন তাঁতী রয়েছেন। ২০০০ সাল থেকে ৩৭৪টি গ্রুপে ২১টি ঋণ প্রদানকৃত সমিতির মাধ্যমে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ১ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। এরমধ্যে জানুয়ারি ২০১৩ পর্যন্ত আদায় হয়েছে মাত্র ৭৬,৪০৪৬৮ টাকা। ঋণ আদায়ের হার ৪২.২৫ শতাংশ। কমলগঞ্জে ৭৭৫ জন, কুলাউড়ায় ১২ জন, জুড়িতে ১১৭ জন, সিলেট বন্দরবাজারে ২১৩ জন এবং আম্বরখানা এলাকায় ৯৯ জন তাঁতীকে ঋণ দেয়া হয়েছে। ২০০০ সাল থেকে এখনও বকেয়া ঋণ মাঠে রয়েছে। সরেজমিনে মাধবপুর তাঁত বোর্ড ও পার্শ্ববর্তী বাঘবাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাঁশ ও কাঠের তৈরি তাঁত দ্ধারা আকর্ষণীয় বস্ত্র তৈরি করা হয়। মনিপুরী মহিলারা এই শিল্পকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করলেও এখন অনেকেই উত্সাহ হারিয়ে ফেলছেন। বর্তমানে তাঁতে কাজ করে মনিপুরী মহিলারা অধিকাংশই নিজেদের ব্যবহারের জন্য শাড়ি, জামা-কাপড় উত্পাদন করছেন। তাদের উত্পাদিত বস্ত্রের মধ্যে মনিপুরী শাড়ি, বিভিন্ন প্রকার চাদর, বেড কাভার, ওড়না, গামছা ও ব্যাগ উল্লেখযোগ্য। তাঁত শিল্পী মিনতি সিনহা, শিউলী রানী সিনহা বলেন, আগের মতো তাঁতে কাজ হয় না। যারা ঋণ আনছে তারা সবাই তাঁতের কাজ করে না। অন্য কাজে ঋণ লাগিয়েছে। আগে সুতার দাম কম ছিল। তিন বছর আগেও ১শ’ টাকায় মনিপুরী পরিবারের ৪ হাতের একটি কাপড় উত্পাদন করা যেত। আর এখন পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচশ’ টাকা লাগে। এ ধরনের একটি কাপড় উত্পাদন করতে চারদিন সময় লাগে। মাধবপুরের তাঁত বোর্ডের লিয়াজোঁ অফিসার মানিক মিয়া জানান, স্বল্প জনবল দিয়ে বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে ঋণ আদায় খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ঋণ নেয়ার পর অধিকাংশ ঋণ গ্রহীতারা সরকারি টাকা মনে করে ঋণ পরিশোধে অযথা বিলম্ব করছেন। তাছাড়া ঋণ আদায় করতে গিয়েও টিএ বিল যথাসময়ে পাওয়া যাচ্ছে না। গত ১৩ মাসের টিএ বিল এখন বকেয়া রয়েছে।