বি শ্ব অ র্থ নী তি র টু কি টা কি
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৫:৪৮
গ্রিসে আবারো ধর্মঘট
বাজেট কাটছাঁটের প্রতিবাদে গত বুধবার আবারো গ্রিসজুড়ে নতুন করে ধর্মঘট শুরু করেছে শ্রমিকরা। এ সময় স্কুল ছিল বন্ধ। এমনকি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ছাড়া অন্য সব বিভাগেও কাজকর্ম হয়নি। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত অফিসের কর্মীদের পর্যন্ত বাধ্য করা হয় ধর্মঘট পালনে। গ্রিসের প্রধান দুই শ্রমিক ইউনিয়ন এই ধর্মঘট ডেকেছে। এই ইউনিয়নের সদস্যসংখ্যা প্রায় আড়াই মিলিয়ন। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো গ্রিসের ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য আলোচনা শুরু করার আগে এই ধর্মঘটের ডাক দেয়া হলো। আন্দোলনকারীরা বলেছেন, কর বৃদ্ধি ও চাকরি থেকে ছাঁটাই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তাদের এই কর্মসূচি। সরকার তার পরিকল্পনা থেকে সরে না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তবে অন্য সময়ের আন্দোলনের সঙ্গে এই আন্দোলনের পার্থক্য হলো—সড়ক ও আকাশ যোগাযোগ ব্যবস্থা এতে বিঘ্নিত হয়নি। কোন সহিংস ঘটনাও ঘটেনি এ সময়।
সাহারা গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠানের
ব্যাংক হিসাব স্থগিত
ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাহারা গ্রুপের দুইটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়েছে। বন্ড ছেড়ে প্রায় ২২ মিলিয়ন সাধারণ উদ্যোক্তার কাছ থেকে প্রায় ২৪০ বিলিয়ন রুপি সংগ্রহ করেছে সাহারা। পরে গ্রাহকের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। দেশটির বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (এসইবিআই) জানায়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় চার বছর আগে বন্ড ছেড়ে সাহারা প্রায় ২২ মিলিয়ন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ( যাদের বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা) কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। গত আগস্টে ৯০ দিনের মধ্যে ১৫ শতাংশ মুনাফাসহ অর্থ ফেরত দিতে নির্দেশ দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তখন অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় সাহারা গ্রুপ। ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট অর্থ ফেরত দেয়ার সময় আবার বৃদ্ধি করে এবং নির্দেশ দেয় প্রাথমিক অবস্থায় ৫১ দশমিক ২ বিলিয়ন রুপি জমা দিতে। বাকি অর্থ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দুই কিস্তিতে পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়। গত বুধবার সাহারা গ্রুপ দাবি করে তাদের দায় ৫১ বিলিয়ন দুই রুপি কোনভাবেই অতিক্রম করতে পারে না, যা ইতিমধ্যে এসইবিআইকে পরিশোধ করা হয়েছে। ওই বিবৃতিতে সাহারা গ্রুপ আরো দাবি করে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা পুরাতন তথ্য নিয়ে কাজ করছে।
ইউরোপ জুড়ে ঘোড়ার মাংস
কেলেংকারি
ইউরোপের বাজারে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস কেলেংকারি। গত মাসে আয়ারল্যান্ডে একটি বার্গারের মধ্যে ঘোড়ার মাংস পাওয়া যায়। বার্গারটি বিক্রি হচ্ছিল গরুর মাংস হিসেবে; কিন্তু রুটিন পরীক্ষায় ধরা পড়ে সেটা ঘোড়ার মাংস। এই ঘটনার পরপরই ইউরোপের বাজার থেকে কয়েক কোটি বার্গার এবং হিমায়িত খাদ্যপণ্য তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সমপ্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন মাংস আমদানির সময় সতর্কতার সঙ্গে তা পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে। কিছুদিন আগে ব্রাসেলসে এই বিষয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে ইইউর স্বাস্থ্য কমিশনার টোনিও বর্গ বলেন, ইইউভুক্ত ২৭টি দেশের মাংস ও মাংসজাত খাদ্যদ্রব্যের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। ঘোড়ার মাংস কেলেংকারির ফলে যেসব দেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের প্রতিনিধিরা হাজির ছিলেন এই বৈঠকে। এসব দেশের মধ্যে ছিল যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স এবং রোমানিয়া। এছাড়া পোল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ এবং সুইডেনও জরুরি বৈঠকে হাজির ছিল। ইউরোপে ঘোড়ার মাংস কেলেংকারির ঘটনায় সবশেষে যোগ দিল বিখ্যাত সুইস খাদ্য কোম্পানি নেসলে। এর ফলে কোম্পানিটি ইটালি ও স্পেনের সুপার মার্কেট থেকে তাদের গরুর মাংসে তৈরি দুই ধরনের খাবার সরিয়ে নিয়েছে। —পলাশ সরকার