গল্প নয় সত্যি

মানুষের চেয়ে ভালো!

দৈহিক অবয়ব থেকে শুরু করে বিশে¬ষণী ক্ষমতা কিংবা উদ্ভাবনী চিন্তাধারার মতো সবকিছু মিলিয়েই বিশ্বের অন্য সকল প্রাণীর চেয়ে সেরা মানুষ। তবে শ্রেষ্ঠত্বের এই বিবেচনায় সামগ্রিকভাবে মানুষকে পরাজিত না করতে পারলেও অন্তত একটি দিক থেকে এগিয়ে আছে শিম্পাঞ্জিরা। বিজ্ঞানীদের দাবি সত্য হলে, মানুষের চাইতে শিম্পাঞ্জিদের স্মৃতিশক্তি কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে। বিশেষ করে স্বল্পকালীন স্মৃতি বা চট করে কোনো কিছু দেখার পর অল্প সময়ের জন্য তা মনে রাখার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে শিম্পাঞ্জিরা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সের বার্ষিক সম্মেলনে এই দাবির সপক্ষে নানা যুক্তি ও ভিডিও উপস্থাপন করেন জাপানী বিজ্ঞানীরা। এজন্য উপস্থিত বিজ্ঞানীদের অ্যায়ুমু নামের একটি শিম্পাঞ্জির ভিডিও দেখানো হয়। গবেষণার বিষয়টি সম্পর্কে প্রমাণ দেওয়ার জন্য এই শিম্পাঞ্জিটিকে প্রথমে ১ থেকে ৯ পর্যন্ত সংখ্যাগুলো এলোমেলোভাবে দেখানো হয়। এভাবে মাত্র অল্প কিছুক্ষণ দেখানোর পর শিম্পাঞ্জিটিকে যাচাই করে দেখা যায় যে সে এই সংখ্যাগুলো দেখানোর ক্রম মনে রেখে ঠিক সেই ক্রমানুযায়ীই সংখ্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারে। ঠিক একইভাবে অপর একটি পরীক্ষায় শিম্পাঞ্জিটিকে ১ থেকে ১৯ পর্যন্ত সংখ্যাগুলো ভালোভাবে দেখানোর পর সেটি এই সংখ্যাগুলোকে ক্রমানুসারে ছোট থেকে বড় অনুযায়ী সাজাতে সক্ষম হয়। অথচ ঠিক একই ধরনের পরীক্ষায় মানুষের সফল হওয়ার হার খুবই কম এবং যারা সফল হয়েছেন তারাও যে এক ধরনের অতিমানবীয় ক্ষমতার অধিকারী সেটা বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন। কিন্তু স্বল্পকালীন স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা করতে অ্যায়ুমুসহ মোট যে ছয়টি শিম্পাঞ্জির ওপর পরীক্ষা চালান বিজ্ঞানীরা তার মধ্যে ছয়টি শিম্পাঞ্জিই একই রকম ক্ষমতা দেখায়। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মাঝে টিকে থাকার জন্য শিম্পাঞ্জিদের এই স্বল্পকালীন স্মৃতিশক্তি তাদের বেশ সহায়তা করে।