বালু উত্তোলনের বাল্কহেডের আঘাত
মেঘনায় দশ মাসে দুর্ঘটনার
কবলে তিন লঞ্চ
মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১৬
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা ও মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মেঘনা নদীর মোহনায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে একটি মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। নদীতে এলোপাতাড়িভাবে বাল্কহেড চলাচল ও ড্রেজার রাখায় দেশের অন্যতম প্রধান এই নৌ-রুটের এ স্থানটি নৌযান চলাচলে মারাত্মক হুমকি দেখা দিয়েছে। গত ১০ মাসে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা ও মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে বাল্কহেডের সাথে সংঘর্ষে আল-বোরাক, এমভি সোহাগ ও এমএল সারস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। অল্পের জন্য বেঁচে যায় আল-বোরাক, এমভি সোহাগ লঞ্চের ১১শ’ যাত্রী। গত শুক্রবার ডুবে যাওয়া এমএল সারস লঞ্চ থেকে ১৪ জনের লাশ উদ্ধার হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে অনেকে।
২০১২ সালের ২৮ এপ্রিল চাঁদপুর থেকে ঢাকাগামী লঞ্চ আল-বোরাক মেঘনা নদীর মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাটের অদূরে মুন্সিগঞ্জের সীমানায় বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লাগে এবং আল-বোরাক লঞ্চের তলা ফেটে যায়। লঞ্চের যাত্রীদের চিত্কার শুনে আশপাশে থাকা লঞ্চ ও ট্রলার যাত্রীদের উদ্ধার করে। লঞ্চে থাকা ৬ শতাধিক যাত্রী প্রাণে রক্ষা পায়। ২৯ এপ্রিল বাউফল পাতাবুনিয়া থেকে ঢাকাগামী লঞ্চ এমভি সোহাগ মেঘনা নদীর একই এলাকায় বালুবাহী ডুবন্ত বাল্কহেডের সাথে ধাক্কা লাগে এবং লঞ্চের তলা ফুটো হয়ে পানি উঠে বাল্কহেডের ওপর দেবে যায়। আল-বোরাক লঞ্চটি উদ্ধারের আধা ঘণ্টা পর সোহাগ লঞ্চটি আটকা পড়ে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে মতলবের মাছুয়াখালগামী এমএল সারস লঞ্চটি শতাধিক যাত্রী নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার চর কিশোরগঞ্জের মেঘনা নদীতে ডুবে যায়। এর মধ্যে ১৮ যাত্রী তীরে উঠতে সক্ষম হলেও নানীর জানাজায় অংশ নিতে আসা একই পরিবারের ৭ জন ও অন্য আরেক পরিবারের ৪ জনসহ ৩৫/৪০ জনের প্রাণহানি ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডুবে যাওয়া লঞ্চের যাত্রীদের মধ্যে বেশির ভাগই মতলবের।
লঞ্চের ষ্টাফ ও এ বিষয়ে অভিজ্ঞ এমন কয়েকজন জানালেন, যেখানে বালু উত্তোলন করা হয় সে স্থানগুলো হলো নৌ-যান চলাচলের মেইন চ্যানেল। এভাবে বালু উত্তোলন করলে ও বালু উত্তোলন কাজে ব্যবহূত যানগুলো না সরালে এ চ্যানেল দিয়ে নৌ-যান পরিচালনা করলে দুর্ঘটনা ঘটবেই।