কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল

টানা ৩ দিনের সরকারি ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ইতোমধ্যে শহর ও সাগরপাড়ের সকল আবাসিক হোটেল ও রেস্ট হাউসের সকল কক্ষ পূর্ণ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবারের সাপ্তাহিক ছুটির সাথে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বা শহীদ দিবসের ছুটি যুক্ত হয়ে টানা ৩ দিনের ছুটি পড়ায় এই সুযোগে ভ্রমণ পিপাসু লোকজন দল বেঁধে কক্সবাজারে বেড়াতে আসে। এসব মানুষের ভীড়ে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কক্সবাজার শহর ও আশেপাশের সকল আবাসিক হোটেল ও রেস্ট হাউসসমূহের সকল কক্ষ পূর্ণ হয়ে যায়। অনেকেই রাত কাটায় গাড়ী কিংবা রাস্তাঘাটে। আবার কেউ কেউ সমুদ্র সৈকতে আগুন জ্বালিয়ে রাত কাটিয়ে দেয়। অনেকেই আবাসনের ব্যবস্থা করতে না পেরে রাতেই কক্সবাজার থেকে ফিরে যায়। বৃহস্পতিবার একদিনেই চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক আসেন বলে জানান কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার একদিনেই সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক আসায় রাস্তাঘাটে নজিরবিহীন ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়। অনেকেই আগের রাতে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে পরদিন সন্ধ্যায় কক্সবাজারে পৌঁছান। তিনি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কক্সবাজারের হোটেলসমূহের কোন কক্ষ খালি ছিল না উল্লেখ করে বলেন, তবে শনিবার শতকরা নব্বই ভাগ পর্যটক কক্সবাজার ত্যাগ করবেন। ফলে কক্সবাজার আবারও প্রায় পর্যটক শূন্য হয়ে পড়ছে। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পর্যটকদের ভীড়ে কক্সবাজারে বৃহস্পতিবার প্রচণ্ড যানজট দেখা দেয়। রাস্তাঘাট এবং বিপণীকেন্দ্রসমূহেও প্রচণ্ড ভীড় জমে। বৃহস্পতিবার আসা পর্যটকরা পরদিন শুক্রবার জেলার অন্যান্য পর্যটন স্পট যথা সেন্টমার্টিন, ইনানী, হিমছড়ী, দরিয়ানগর, মহেশখালীর আদিনাথ, বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কসহ দর্শনীয় অন্যান্য স্থানসমূহ ভ্রমণ করেন বলে জানান, ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অফ কক্সবাজার (টোয়াক বাংলাদেশ) সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার জানান, পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে কক্সবাজার উপভোগ করতে পারেন, তার জন্য কক্সবাজার ছাড়াও অন্যান্য জেলা থেকে অতিরিক্ত ফোর্স আনা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।