সারাদেশে অর্ধশতাধিক সাংবাদিক আহত

গত কয়েকমাস ধরে দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিবের তাণ্ডবের মূল টার্গেট ছিল পুলিশ। কিন্ত গতকাল শুক্রবার জামায়াত ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর পুলিশের পাশাপাশি সাংবাদিকদের উপরও হামলা চালিয়েছে। দেশের বিভিন্নস্থানে তাদের হামলায় কমপক্ষে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক সাংবাদিক। বিক্ষোভ শুরুর আগেই গতকাল বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন মাছরাঙার সিনিয়র রিপোর্টার আবদুল্লাহ তুহিন, এটিএন বাংলার ক্যামেরাম্যান ইমরান তুহিন ও এটিএন নিউজের সাংবাদিক ফেরদৌস, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান নূর, আমারদেশ পত্রিকার ফটো সাংবাদিক মীর আহমেদসহ সাতজন। বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য ?অবস্থান করছিলেন। একইভাবে কাঁটাবন এলাকায় হামলার শিকার হন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। অপরদিকে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা মসজিদের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করার আগেই সাংবাদিকদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান হয়। আহত হন দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র ফটো সাংবাদিক কুতুব উদ্দিন, এটিএন নিউজ, এটিএন বাংলা, মাছরাঙা, আরটিভি ও যুগান্তরের ফটো সাংবাদিকগণ। দুপুর পৌনে তিনটার দিকে হামলাকারীরা অতর্কিত গণজাগরণ মঞ্চে আগুন দেয়। এরপর প্রেসক্লাব ভবনে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এক পর্যায়ে প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় অবস্থিত এটিএন নিউজ ও এটিএন বাংলা কার্যালয়ে তারা হামলা চালায়। সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হন বাংলাদেশ প্রতিদিনের ফটো সাংবাদিক নাজমুল করিম পাবল। সাংবাদিকদের শুধু মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি; ভেঙ্গেছে তাদের ক্যামেরাও। একইভাবে হামলার শিকার হয়েছেন যশোর, বগুড়া, রাজশাহী, ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সাংবাদিকগণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে হামলাকারীদের টার্গেট ছিল সংবাদকর্মী ও গণজাগরণমঞ্চ। সাংবাদিকদের প্রতিবাদ:চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ভবনে ভাংচুর ও কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন। ঘটনার প্রতিবাদে আজ শনিবার সকাল ১১টায় যৌথ প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। সাংবাদিক সমাবেশ:যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে এবং জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবে সাংবাদিক আহত হওয়ার প্রতিবাদে ২৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় সাংবাদিক সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। ওই দিন বিএফইউজে’র সকল অঙ্গ ইউনিয়ন স্ব স্ব এলাকায় সকাল ১১টায় অনুরূপ সাংবাদিক সমাবেশ করবেন। গতকাল শুক্রবার জামায়াত-শিবির ক্যাডারদের হামলায় ঢাকার বায়তুল মোকাররম এলাকায়, চট্টগ্রামে আন্দরকিল্লায় এবং রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতৃবৃন্দ। তারা হুঁশিয়ারি করে বলেন, সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমের ওপর যে কোন মহলের হামলা দেশের সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে। বিএফইউজে’র সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও মহাসচিব আবদুল জলিল ভুঁইয়া এবং ডিইউজে’র সভাপতি ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ এক যুক্ত বিবৃতিতে সকল সাংবাদিককে ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিক সমাবেশে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ:গতকাল বাদ জুমা ঢাকায় বায়তুল মোকাররম, চট্টগ্রামের অন্দরকিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক তাত্ক্ষণিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিএফইউজে ও ডিইউজে এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। বিএফইউজে সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সাংবাদিকদের ওপর জামায়াত-শিবিরের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।