জামায়াতের রাজনীতি
নিষিদ্ধে আইনগত দিক
খতিয়ে দেখা হচ্ছে
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৫২
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ জামায়াত নিষিদ্ধের ব্যাপারে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে তরুণ প্রজন্মের দেয়া আল্টিমেটামের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের ব্যাপারে আইনগত দিক খতিয়ে দেখছেন আইনমন্ত্রী। আগামী ২৬ মার্চের মধ্যেই একটা পথ খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। আশা করি এবারের স্বাধীনতা দিবসের আগেই জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ হবে। কারণ একাত্তর সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জামায়াতের নেতৃত্বে আলবদর, আলশামস বাহিনী গঠিত হয়েছিল। হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট হয়েছিল। সে কারণে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা উচিত। জামায়াত নিষিদ্ধ হলে বিদেশি কোন চাপও আসবে না। একাত্তরের মূর্তিতে জামায়াত-শিবির আবির্ভূত হয়েছে দাবি করে তাদের সর্বাত্মকভাবে প্রত্যাখ্যান করার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কৃষক লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, তরুণ প্রজন্মসহ দেশের জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিদেশি প্রভুদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। তবে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষক ও পৃষ্ঠপোষক খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি এবার ক্ষমতায় আসলে একাত্তরের মতো মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবে। হানিফ বলেন, পৃথিবীর কোন সুস্থ মানুষ একাত্তরে আমাদের মা-বোনদের নির্যাতন ও গণহত্যাসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের সমর্থন করতে পারে না। তাই জামায়াত নিষিদ্ধ হলে কেউ বাধা কিংবা বিরোধিতা করবে না।
নিহত ব্লগার রাজিব হত্যার পর তার ব্লাগ হ্যাকিং করে পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে দাবি করে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি আর জামায়াত নিষিদ্ধের দাবিতে সৃষ্ট গণজাগরণকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিকল্পিত অপপ্রচার চলছে। আর এটি কয়েকটি মিডিয়ায় ঘটা করে প্রচার করা হচ্ছে। তবে ধর্মের উপর আঘাত করে প্রচার করা কোন কটূক্তিমূলক বক্তব্য বরদাশত করা হবে না। ‘সরকারের ব্যর্থতা ঢাকার ষড়যন্ত্রের ফসল শাহবাগের গণজাগরণ’ মর্মে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্যের বক্তব্যের সমালোচনা করে হানিফ বলেন, শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ না করার মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, বিএনপি হলো যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষক ও পৃষ্ঠপোষক। এ কারণে একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে বিএনপি মরিয়া হয়ে উঠেছে।
কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার শামসুল হক রেজা প্রমুখ।